ঢাকা ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কবির কলম’-এর ১৫ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০০ রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিল লায়ন্স ক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাবলা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুদকের অর্থায়নে ‘সততা স্টোর’ উদ্বোধন ৬০ বিজিবির অভিযান: ৩৫ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১২ বছরের মাদরাসাছাত্র নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৮ মামলার আসামি কুখ্যাত ছিনতাইকারী চাঁন মিয়া গ্রেপ্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী তরুণ সংগঠকদের কর্মশালা ‘গুণী শিক্ষক’ পুরস্কার পেলেন ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার আহসান শাহরিয়ার শিক্ষা, গবেষণা, রাজনীতি ও মানবসেবায় এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. মো. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত

১৩৭ বছরের দীর্ঘ জীবনযাত্রা: বয়োজ্যেষ্ঠ রেনু মিয়া শেষ বিদায় সম্পন্ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৫৯ বার পড়া হয়েছে

১৩৭ বছরের দীর্ঘ জীবনযাত্রা: বয়োজ্যেষ্ঠ রেনু মিয়া শেষ বিদায় সম্পন্ন

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণশাসন গ্রামের ১৩৭ বছর বয়সী বয়োজ্যেষ্ঠ রেনু মিয়ার জানাযার নামাজ আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বাদ যোহর অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দীর্ঘ জীবন যাপনের কারণে রেনু মিয়া ছিলেন স্থানীয় ও দেশের বিরল বয়োজ্যেষ্ঠদের একজন। গুরুতর অসুস্থতার কারণে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টায় হঠাৎ স্ট্রোক করলে তাকে প্রথমে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন। অর্থের অভাবে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় মানবিক সহায়তা মরদেহ নিজ গ্রামে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ধরা হয়েছিল ৩,৩০০ টাকা। রেনু মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়ার কাছে ছিল মাত্র ১,৮০০ টাকা। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ভাড়া ৩,০০০ টাকায় নির্ধারিত হয়। বাকি ১,২০০ টাকা সহায়তা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “মানুষের শেষ বিদায় যেন অসম্মানিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই আমরা সহযোগিতা করি। সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা সবসময় অসহায়দের পাশে দাঁড়াই।” রেনু মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া বলেন, “বাবার চিকিৎসা ও মরদেহ গ্রামের বাড়ি নেওয়ার খরচ জোগাতে কঠিন হয়েছে। বাতিঘরের সহায়তা না পেলে বাবার লাশ নিয়ে বাড়িতে ফিরা কঠিন ছিল এবং আরও বিপদ হতো। আমরা কৃতজ্ঞ।” ব্রিটিশ আমলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন কার্ডে রেনু মিয়ার বয়স ১৩৭ বছর উল্লেখ ছিল। এত দীর্ঘ জীবন পাওয়াটা সত্যিই বিরল ঘটনা। তার চার ছেলে ও তিন মেয়ে জীবিত থাকলেও পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ভুগছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১৩৭ বছরের দীর্ঘ জীবনযাত্রা: বয়োজ্যেষ্ঠ রেনু মিয়া শেষ বিদায় সম্পন্ন

আপডেট সময় : ১০:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণশাসন গ্রামের ১৩৭ বছর বয়সী বয়োজ্যেষ্ঠ রেনু মিয়ার জানাযার নামাজ আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বাদ যোহর অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দীর্ঘ জীবন যাপনের কারণে রেনু মিয়া ছিলেন স্থানীয় ও দেশের বিরল বয়োজ্যেষ্ঠদের একজন। গুরুতর অসুস্থতার কারণে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টায় হঠাৎ স্ট্রোক করলে তাকে প্রথমে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন। অর্থের অভাবে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় মানবিক সহায়তা মরদেহ নিজ গ্রামে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ধরা হয়েছিল ৩,৩০০ টাকা। রেনু মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়ার কাছে ছিল মাত্র ১,৮০০ টাকা। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ভাড়া ৩,০০০ টাকায় নির্ধারিত হয়। বাকি ১,২০০ টাকা সহায়তা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “মানুষের শেষ বিদায় যেন অসম্মানিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই আমরা সহযোগিতা করি। সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা সবসময় অসহায়দের পাশে দাঁড়াই।” রেনু মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া বলেন, “বাবার চিকিৎসা ও মরদেহ গ্রামের বাড়ি নেওয়ার খরচ জোগাতে কঠিন হয়েছে। বাতিঘরের সহায়তা না পেলে বাবার লাশ নিয়ে বাড়িতে ফিরা কঠিন ছিল এবং আরও বিপদ হতো। আমরা কৃতজ্ঞ।” ব্রিটিশ আমলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন কার্ডে রেনু মিয়ার বয়স ১৩৭ বছর উল্লেখ ছিল। এত দীর্ঘ জীবন পাওয়াটা সত্যিই বিরল ঘটনা। তার চার ছেলে ও তিন মেয়ে জীবিত থাকলেও পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ভুগছে।