ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী তরুণ সংগঠকদের কর্মশালা
- আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে স্বেচ্ছাসেবী তরুণ সংগঠকদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালা’য় উপস্থিত স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এছাড়াও তরুণ সংগঠকবৃন্দ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন পরিচালনায় সনাক-টিআইবিকে সব ধরণের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। দুর্নীতি, জবাবদিহিমূলক ও সুশাসনভিত্তিক সমাজ গঠনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ‘টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন: তরুণ সংগঠকদের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় উপরোক্ত প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের তরুণ সংগঠকবৃন্দ। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপের উদ্যোগে ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী ১৮টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ৪৩জন তরুণ সংগঠক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও সেবামূলক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী তরুণ সংগঠকরা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধিনতা সংগ্রামসহ পরবর্তী দেশের সকল ক্রান্তিকালে তরুণ ও যুবকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তারা বলেন, এই দেশ আমাদের, তাই এই দেশকে একটি দুর্নীতি ও দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও বৈষম্যবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে ভূমিকা পালনে সংগঠকবৃন্দ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গঠনে তরুণদের আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সনাক সভাপতি জয়দুল হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালাটি পরিচালনা করেন টিআইবি’র সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর কাজী শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্নীতি অনিয়ম ও বৈষম্য আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পথে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। ২০২৪ বা ২০১৮ সালে সংঘটিত বৈষম্য ও কোটাবিরোধী আন্দোলনই কেবল নয় এই ধরণের আন্দোলন ও সংগ্রাম যুগে যুগে আরো সংঘটিত হয়েছে। এইসব সংগ্রামে যারা অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন তারা সবাই ছিলো বয়সে তরুণ। তরুণদের চিন্তাকে সামনে এগিয়ে নিতে যুগে যুগে সমাজ সচেতন বয়োবৃদ্ধরা তারুন্যের শক্তিতে বলিয়ান হয়ে তরুণদের পাশে থেকে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি তরুণ সংগঠকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, তারাতো প্রাণ দিয়েছেন বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিবিরোধী একটি রাষ্ট্র বির্নিমানের জন্য কিন্তু বাস্তবে আমরা কি তা পেয়েছি। এখনও অনিয়ম ও দুর্নীতি এমনভাবে বিস্তার লাভ করছে, যেখান থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে আবারো তরুণদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তিনি বলেন, প্রতিদিন আমাদের লালিত স্বপ্নকে ছিনতাই হতে দেখি কিন্তু আমরা প্রতিবাদ করি না। এজন্যই সমাজ ও রাষ্ট্রে দুর্নীতি ও বৈষম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং তা অব্যাহত রাখতে হবে। দেশকে বদলাতে হলে সবার আগে নিজেকে বদলাতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। আর সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের বিকল্প নেই। এছাড়াও তিনি কর্মশালায় প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের মূল উপাদান ও বৈশিষ্ট সমূহ, চ্যালেঞ্জ, উত্তরণের উপায়, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট পরিচিতি, লক্ষ্যমাত্রাসমূহ, তথ্য অধিকার আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন বিষয়সমূহ উপস্থাপন করেন। সভাপতির বক্তব্যে সনাক সভাপতি জয়দুল হোসেন বলেন- সমাজ পরিবর্তনে সবসময় তরুণরাই নেতৃত্ব দিয়েছে। তাদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও জোরালো প্রতিবাদ যুগে যুগে সমাজের দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত অনিয়মও মাটির সাথে মিশে গিয়ে নতুন সূর্য্যরে উদয় ঘটেছে। আজ সেই সকল তরুণদের প্রতিনিধি হয়ে তোমরা দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলণকে জোরদার করতে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছো। বর্তমান বাংলাদেশে যেটির খুব প্রয়োজন। দুর্নীতিবিরোধী একটি রাষ্ট্র দেখার বড় ইচ্ছের কথা জানিয়ে তিনি তরুণদের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। কর্মশালায় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সনাক সদস্য ও ইয়েস বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক মোঃ আরজু মিয়া। তিনি বলেন, তরুণরা নব জাগরণের প্রতীক। তারা দুর্নীতিকে ঘূনা করে। তারা চাইলে পারে সেটি ইতোমধ্যে প্রমানিত হয়েছে। তিনি প্রত্যাশা করেন যুব সংগঠকরা নিজেরা সুশাসনের চর্চা করবে এবং সমাজে টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়নের জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
টিআইবি’র সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম আমাদের প্রেরণার উৎস। তরুণরাই একদিন এদেশ থেকে দুর্নীতিকে চিরতরে বিদায় করে একটি সুষম ও নিরাপদ রাষ্ট্র বির্নিমান করবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,আগামীর বাংলাদেশ হবে তরুণদের বাংলাদেশ। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী তরুণ সংগঠকদের টিআইবি’র দুর্নীতিবিরোধী শপথবাক্য পাঠ করান সনাক সভাপতি জয়দুল হোসেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী তরুণ সংগঠকগণ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতে যার যার সাংগঠনিক অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।














