ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অপরাধ দমনে মৃত্যুদণ্ড নয়, সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘মৃত্যুদণ্ড বিলোপ দিবস’ পালিত Saimum Sairas elected BPMCA senior joint secretary ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘সেরা পূজা মণ্ডপ’ শারদ সম্মাননা পেল দক্ষিণ কালীবাড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০ লক্ষ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লায়ন্স ক্লাবের ফ্রি ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার ক্যাম্প অনুষ্ঠিত। আখাউড়ায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে শাহীন নামের পথচারীর আত্মহত্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্ত্র-গুলি-ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪, কারাগারে ২১; আটক ৯ কিশোর ৬০ বিজিবির অভিযানে ২৫ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় পণ্য ও বিয়ার জব্দ ভাষা সৈনিক অলি আহাদ’র ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল বিজয়নগরে জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম কিস্তির চেক হস্তান্তর।

সরাইলে আশ্রয়ণ প্রকল্পে পানি ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ ৪১০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আইরল গ্রামের পূর্ব পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পে হাঁটু পানি। গত ১০-১৫ দিন ধরে প্রকল্পের বাসিন্ধারা পানির উপরে কষ্ট করে বসবাস করলেও কোন ধরণের ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া সেখান থেকে বাজারে বা অন্য কোথাও যেতে হলে নৌকা ছাড়া অসম্ভব। তাই চরম কষ্টে বসবাসের কথা জানিয়েছেন রমজান মিয়া ও তোবারক মিয়া। স্থানীয় লোকজন ও কয়েকজন সমাজকর্মী জানায়, আইরল গ্রামের পূর্ব পাশের হাওরে স্থাপিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১০টি পরিবারকে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে ঘর। জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে গত ১৫-২০ দিন আগেই তলিয়ে গেছে হাওর ও যাতায়তের কাঁচা সড়ক। চারিদিকে পানি আর মাঝখানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্ধারা। গত ১০-১৫ দিন আগে ওই প্রকল্পের আঙ্গিনা তলিয়ে যায়। এরপর পানি প্রবেশ করে ঘরের ভেতরে। কোন রকমে ঘরের ভেতরে বসবাস করছেন তারা। ১০টি পরিবারের মধ্যে আছে ৬টি পরিবার। প্রকল্পের শুরূ থেকেই নেই ৪টি পরিবার। বসতঘর থেকে বের হলেই গলা সমান পানি। আবার কোথাও সাঁতার পানি। কোথাও কাজ করতে ও হাটবাজার করতে গেলে নৌকা ছাড়া কোন উপায় নেই তাদের। জীবন-যাপনে খরচ বেড়ে গেছে। ওদিকে বন্যার কারণে কমে গেছে কাজ। এ জন্য ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্ধাদের জীবন এখন খুবই কষ্টের। প্রকল্পের বাসিন্ধা মো. কুতুব মিয়া (৫৭) স্ত্রীকে নিয়ে পানির উপরই সেখানে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, আমডার বাড়ি নোয়াগাঁও। ৬ পরিবার খুব কষ্ট কইরা অতদিন ধইরা এইহান থাকতাছি। খাওনেরও কষ্ট। চেয়ারম্যান আর ফতেহ আলী মেম্বার একদিন আইছিল। আর আমডার কোন খুঁজ খবর নিতাছে না। অত দিন অইল এইহানে কেউই রিলিফ বা কোন খাওন লইয়া আইছে না। অহন আমডা সাইয়রে ভাসতাছি। পুবের দুই ঘরের মানুষ অনেক আগে অই গেছেগা। কাঁচা আবুইদ্দা লইয়া হেরা থাকত পারে না। আবুইদ্দা পানিত পইড়া যাগা। আরেক বাসিন্ধা তাবারক মিয়া (৪২) বলেন, আমডার বাড়ি জয়ধরকান্দি। ২ বছর আগ থাইক্কা ওই এইহান থাকতাছি। কাপড় ভিজাইয়া যাওয়া আসা করতাছি। উদ্বোধন করার পর থাইক্কা এইহান ৪ টা পরিবার থাকে না। ৬ নং ওয়ার্ডের বুড্ডা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩ টি ঘরেও প্রবেশ করেছে পানি। নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনসুর আহমেদ বলেন, আইরলে ১০টি ও বুড্ডায় ৩ টি ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আইরলে কিছু মাটি ফেলা হয়েছিল। তাপরও জায়গাটি নিচু। আর বুড্ডায় কোন মাটি ফেলা হয়নি। আজ পর্যন্ত (গতকাল ২৮ মে মঙ্গলবার) তারা কোন ত্রাণ পায়নি। তবে গতকাল বিকেলে কিছু ত্রাণ পেয়েছি। আগামীকাল দিব। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ৩৮টি। ত্রাণ পেয়েছি ৩০টি। আজ বুধবার ত্রাণ বিতরণ করব। নোয়াগাঁও ইউনিয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত টেগ অফিসার মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আইরলের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০টি ঘরেই পানি। আমার জানা মতে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে কোন ধরণের ত্রাণ যায়নি।

মাহবুব খান বাবুল

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সরাইলে আশ্রয়ণ প্রকল্পে পানি ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আইরল গ্রামের পূর্ব পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পে হাঁটু পানি। গত ১০-১৫ দিন ধরে প্রকল্পের বাসিন্ধারা পানির উপরে কষ্ট করে বসবাস করলেও কোন ধরণের ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া সেখান থেকে বাজারে বা অন্য কোথাও যেতে হলে নৌকা ছাড়া অসম্ভব। তাই চরম কষ্টে বসবাসের কথা জানিয়েছেন রমজান মিয়া ও তোবারক মিয়া। স্থানীয় লোকজন ও কয়েকজন সমাজকর্মী জানায়, আইরল গ্রামের পূর্ব পাশের হাওরে স্থাপিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১০টি পরিবারকে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে ঘর। জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে গত ১৫-২০ দিন আগেই তলিয়ে গেছে হাওর ও যাতায়তের কাঁচা সড়ক। চারিদিকে পানি আর মাঝখানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্ধারা। গত ১০-১৫ দিন আগে ওই প্রকল্পের আঙ্গিনা তলিয়ে যায়। এরপর পানি প্রবেশ করে ঘরের ভেতরে। কোন রকমে ঘরের ভেতরে বসবাস করছেন তারা। ১০টি পরিবারের মধ্যে আছে ৬টি পরিবার। প্রকল্পের শুরূ থেকেই নেই ৪টি পরিবার। বসতঘর থেকে বের হলেই গলা সমান পানি। আবার কোথাও সাঁতার পানি। কোথাও কাজ করতে ও হাটবাজার করতে গেলে নৌকা ছাড়া কোন উপায় নেই তাদের। জীবন-যাপনে খরচ বেড়ে গেছে। ওদিকে বন্যার কারণে কমে গেছে কাজ। এ জন্য ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্ধাদের জীবন এখন খুবই কষ্টের। প্রকল্পের বাসিন্ধা মো. কুতুব মিয়া (৫৭) স্ত্রীকে নিয়ে পানির উপরই সেখানে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, আমডার বাড়ি নোয়াগাঁও। ৬ পরিবার খুব কষ্ট কইরা অতদিন ধইরা এইহান থাকতাছি। খাওনেরও কষ্ট। চেয়ারম্যান আর ফতেহ আলী মেম্বার একদিন আইছিল। আর আমডার কোন খুঁজ খবর নিতাছে না। অত দিন অইল এইহানে কেউই রিলিফ বা কোন খাওন লইয়া আইছে না। অহন আমডা সাইয়রে ভাসতাছি। পুবের দুই ঘরের মানুষ অনেক আগে অই গেছেগা। কাঁচা আবুইদ্দা লইয়া হেরা থাকত পারে না। আবুইদ্দা পানিত পইড়া যাগা। আরেক বাসিন্ধা তাবারক মিয়া (৪২) বলেন, আমডার বাড়ি জয়ধরকান্দি। ২ বছর আগ থাইক্কা ওই এইহান থাকতাছি। কাপড় ভিজাইয়া যাওয়া আসা করতাছি। উদ্বোধন করার পর থাইক্কা এইহান ৪ টা পরিবার থাকে না। ৬ নং ওয়ার্ডের বুড্ডা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩ টি ঘরেও প্রবেশ করেছে পানি। নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনসুর আহমেদ বলেন, আইরলে ১০টি ও বুড্ডায় ৩ টি ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আইরলে কিছু মাটি ফেলা হয়েছিল। তাপরও জায়গাটি নিচু। আর বুড্ডায় কোন মাটি ফেলা হয়নি। আজ পর্যন্ত (গতকাল ২৮ মে মঙ্গলবার) তারা কোন ত্রাণ পায়নি। তবে গতকাল বিকেলে কিছু ত্রাণ পেয়েছি। আগামীকাল দিব। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ৩৮টি। ত্রাণ পেয়েছি ৩০টি। আজ বুধবার ত্রাণ বিতরণ করব। নোয়াগাঁও ইউনিয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত টেগ অফিসার মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আইরলের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০টি ঘরেই পানি। আমার জানা মতে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে কোন ধরণের ত্রাণ যায়নি।

মাহবুব খান বাবুল