ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রুমিন ফারহানার গলায় টাকার মালা পরিয়ে দেন এক ভক্ত ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব কর্তৃপক্ষের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন মুশফিকুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজা ও ১টি অটোরিক্সাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শীতার্ত মানুষের মাঝে প্রতিবেশী ঐক্য ফোরামের কম্বল বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আলেমওলামাদের সমাবেশে ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল আশুগঞ্জ উপজেলা কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের বরণ ও কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত এখন সকাল-বিকাল দল থেকে ফোন আসে মন্ত্রীত্ব দিবে, আসনটি ছেড়ে দেবার জন্য – রুমিন ফারহানা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমাবেশে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ নবীনগরে দূরপাল্লার বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

চেয়ারম্যানের বিরূদ্ধে দূর্নীতির ১২ অভিযোগ পুলিশ প্রহরায় তদন্ত, স্বাক্ষী শতাধিক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০২২ ২০৮ বার পড়া হয়েছে

চেয়ারম্যানের বিরূদ্ধে দূর্নীতি

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরাইলের পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাউছার হোসেনের বিরূদ্ধে দায়ের করা ১২ দূর্নীতির তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ প্রহরায় চলে এই তদন্ত। ইউপি সদস্যসহ শতাধিক লোক স্বাক্ষী দিলেও পরিষদের বাহিরে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের সহস্রাধিক লোক অবস্থান করছিল। কিছু লোক পক্ষে কথা বললেও চেয়ারম্যানের কর্মকান্ডে অধিকাংশ লোকজনই ক্ষোভে ফেঁটে যাচ্ছেন। তবে চেয়ারম্যান বলছেন অনিয়ম দূর্নীতি ও লুটপাটের সুযোগ না দেওয়ায় আমার বিরূদ্ধে এটা গভীর ষড়যন্ত্রের বহি:প্রকাশ। সরজমিনে তদন্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তদন্তের দিন ক্ষণটি আগেই জানা ছিল ওই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। তাই আজ সকাল থেকে বিভিন্ন গ্রামের নারী পুরূষরা জড়ো হতে থাকে পরিষদে ও আশপাশে। এক সময় হাজারো মানুষের ভীড় জমে। তদন্ত কর্মকর্তা সরাইল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া যথা সময়ে তদন্ত কাজ শুরূ করেন। ইউনিয়ন পরিষদের ৩ জন মহিলাসহ মোট ১২ জন সদস্যেরই স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরে তাদের সাথে আসা ভুক্তভোগিদের স্বাক্ষীও গ্রহন করেন। চেয়ারম্যানের নানা কর্মকান্ডে স্বাক্ষী দিতে আসা লোকজনের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছিল। উল্লেখযোগ্য অভিযোগ ছিল জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেডলাইসেন্স, মৃত্যুর সনদ প্রদানে ও সরকারি নলকূপ বসানোর কাজে ইচ্ছেমত অতিরিক্ত টাকা আদায়। পরিষদের সদস্য ও সুবিধাভোগিদের সাথে খারাপ আচরণ ও কোন বিষয়ে পাত্তা না দেয়া। ভূয়া প্রকল্প বা একই প্রকল্প একাধিকবার দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা। স্বাক্ষী দিতে আসা ভূঁইশ্বর গ্রামের রাশিদ মিয়া (৪৮) বলেন, উদ্যোক্তা মিঠু চেয়ারম্যানের স্বজন। ৩টি জন্মনিবন্ধনের জন্য আমার কাছ থেকে ২৪০০ টাকা নিয়েছে। একই গ্রামের রেজিয়া (৭৫) বলেন, নাতির জন্মনিবন্ধনের জন্য আমাকে ১৪০০ টাকা গুণতে হয়েছে। পরমানন্দপুর গ্রামের হাফেজ সাঈদ (২৭) বলেন, একটি নাগরিকত্বের সনদের জন্য চেয়েছেন ৫০০ টাকা। নেয়নি। পাকশিমুল গ্রামের মতিউর রহমান (৬৫) বলেন, ১টি ওয়ারিশ নামা নিতে চেয়ারম্যানের হাতে আমাকে নগদ ২৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। কথা বললেই কাজ না হওয়ার হুমকি। কালিশিমুল গ্রামের শাহ পরাণ (৪০) জানান, দুই মাস আগে ১টি ট্রেডলাইসেন্সের জন্য এসেছিলাম। ২৬০০ টাকা চেয়েছেন। তাই এখনো নেইনি। ইউপি সদস্য মলাই মিয়া বলেন, শুধু অনিয়ম আর দূর্নীতি করে টাকা কামাই করছেন। সাধারণ জনগণকে পরিষদে আসতে নিষেধ করেন। আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। সবকিছু থেকে দ্বিগুণ তিনগুণ টাকা আদায় করছেন। মানুষকে হয়রানি করছেন। এভাবে একটি পরিষদ চলতে পারে না। জুনাঈদ মিয়া (২৭) বলেন, ইউপি সচিব মিঠুকে ভিন্ন নামে একাধিক কমিটির সদস্য করছেন। সম্পাদক করেছেন ওই ব্যক্তি জানেনই না। এভাবে ভূয়া কমিটি দিয়ে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করে কোন কাজ না করেই আত্মসাৎ করছেন চেয়ারম্যান। আমরা উনার অপসারণ চাই। অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান কাউছার হোসেন বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ সকল অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা। আমি চোখে না দেখে জন্মনিবন্ধনসহ কোন সনদ দেয় না। কারণ জালজালিয়াতি হলে পরে দায়িত্ব নিবে কে? তারা শুরূ থেকেই লুটপাটের চেষ্টা করছেন। আমি সেই সুযোগ দিচ্ছি না। কারণ আমি ইউনিয়নবাসীর কাছে স্বচ্ছ কাজ ও সেবা দেয়ার অঙ্গিকার করে এসেছি। আর এ জন্যই আমার বিরূদ্ধে কঠিন এই ষড়যন্ত্র। তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া বলেন, সকল অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগির সাথে কথা বলেছি। তাদের বক্তব্য নোট করেছি। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রমাণ চেয়েছি। এই অভিযোগের উপর স্বচ্ছ সুন্দর একটি প্রতিবেদন ইউএনও মহোদয়কে দেয়ার চেষ্টা করব। প্রসঙ্গত: গত ১২ সেপ্টেম্বর সোমবার পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন নির্বাচিত ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের বিরূদ্ধে ১২টি অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ এনে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চেয়ারম্যানের বিরূদ্ধে দূর্নীতির ১২ অভিযোগ পুলিশ প্রহরায় তদন্ত, স্বাক্ষী শতাধিক

আপডেট সময় : ০৮:২৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০২২

সরাইলের পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাউছার হোসেনের বিরূদ্ধে দায়ের করা ১২ দূর্নীতির তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ প্রহরায় চলে এই তদন্ত। ইউপি সদস্যসহ শতাধিক লোক স্বাক্ষী দিলেও পরিষদের বাহিরে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের সহস্রাধিক লোক অবস্থান করছিল। কিছু লোক পক্ষে কথা বললেও চেয়ারম্যানের কর্মকান্ডে অধিকাংশ লোকজনই ক্ষোভে ফেঁটে যাচ্ছেন। তবে চেয়ারম্যান বলছেন অনিয়ম দূর্নীতি ও লুটপাটের সুযোগ না দেওয়ায় আমার বিরূদ্ধে এটা গভীর ষড়যন্ত্রের বহি:প্রকাশ। সরজমিনে তদন্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, তদন্তের দিন ক্ষণটি আগেই জানা ছিল ওই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। তাই আজ সকাল থেকে বিভিন্ন গ্রামের নারী পুরূষরা জড়ো হতে থাকে পরিষদে ও আশপাশে। এক সময় হাজারো মানুষের ভীড় জমে। তদন্ত কর্মকর্তা সরাইল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া যথা সময়ে তদন্ত কাজ শুরূ করেন। ইউনিয়ন পরিষদের ৩ জন মহিলাসহ মোট ১২ জন সদস্যেরই স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পরে তাদের সাথে আসা ভুক্তভোগিদের স্বাক্ষীও গ্রহন করেন। চেয়ারম্যানের নানা কর্মকান্ডে স্বাক্ষী দিতে আসা লোকজনের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছিল। উল্লেখযোগ্য অভিযোগ ছিল জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেডলাইসেন্স, মৃত্যুর সনদ প্রদানে ও সরকারি নলকূপ বসানোর কাজে ইচ্ছেমত অতিরিক্ত টাকা আদায়। পরিষদের সদস্য ও সুবিধাভোগিদের সাথে খারাপ আচরণ ও কোন বিষয়ে পাত্তা না দেয়া। ভূয়া প্রকল্প বা একই প্রকল্প একাধিকবার দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা। স্বাক্ষী দিতে আসা ভূঁইশ্বর গ্রামের রাশিদ মিয়া (৪৮) বলেন, উদ্যোক্তা মিঠু চেয়ারম্যানের স্বজন। ৩টি জন্মনিবন্ধনের জন্য আমার কাছ থেকে ২৪০০ টাকা নিয়েছে। একই গ্রামের রেজিয়া (৭৫) বলেন, নাতির জন্মনিবন্ধনের জন্য আমাকে ১৪০০ টাকা গুণতে হয়েছে। পরমানন্দপুর গ্রামের হাফেজ সাঈদ (২৭) বলেন, একটি নাগরিকত্বের সনদের জন্য চেয়েছেন ৫০০ টাকা। নেয়নি। পাকশিমুল গ্রামের মতিউর রহমান (৬৫) বলেন, ১টি ওয়ারিশ নামা নিতে চেয়ারম্যানের হাতে আমাকে নগদ ২৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। কথা বললেই কাজ না হওয়ার হুমকি। কালিশিমুল গ্রামের শাহ পরাণ (৪০) জানান, দুই মাস আগে ১টি ট্রেডলাইসেন্সের জন্য এসেছিলাম। ২৬০০ টাকা চেয়েছেন। তাই এখনো নেইনি। ইউপি সদস্য মলাই মিয়া বলেন, শুধু অনিয়ম আর দূর্নীতি করে টাকা কামাই করছেন। সাধারণ জনগণকে পরিষদে আসতে নিষেধ করেন। আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। সবকিছু থেকে দ্বিগুণ তিনগুণ টাকা আদায় করছেন। মানুষকে হয়রানি করছেন। এভাবে একটি পরিষদ চলতে পারে না। জুনাঈদ মিয়া (২৭) বলেন, ইউপি সচিব মিঠুকে ভিন্ন নামে একাধিক কমিটির সদস্য করছেন। সম্পাদক করেছেন ওই ব্যক্তি জানেনই না। এভাবে ভূয়া কমিটি দিয়ে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করে কোন কাজ না করেই আত্মসাৎ করছেন চেয়ারম্যান। আমরা উনার অপসারণ চাই। অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান কাউছার হোসেন বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ সকল অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা। আমি চোখে না দেখে জন্মনিবন্ধনসহ কোন সনদ দেয় না। কারণ জালজালিয়াতি হলে পরে দায়িত্ব নিবে কে? তারা শুরূ থেকেই লুটপাটের চেষ্টা করছেন। আমি সেই সুযোগ দিচ্ছি না। কারণ আমি ইউনিয়নবাসীর কাছে স্বচ্ছ কাজ ও সেবা দেয়ার অঙ্গিকার করে এসেছি। আর এ জন্যই আমার বিরূদ্ধে কঠিন এই ষড়যন্ত্র। তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া বলেন, সকল অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগির সাথে কথা বলেছি। তাদের বক্তব্য নোট করেছি। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রমাণ চেয়েছি। এই অভিযোগের উপর স্বচ্ছ সুন্দর একটি প্রতিবেদন ইউএনও মহোদয়কে দেয়ার চেষ্টা করব। প্রসঙ্গত: গত ১২ সেপ্টেম্বর সোমবার পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন নির্বাচিত ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের বিরূদ্ধে ১২টি অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ এনে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।