ঢাকা ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘মার্কেট অ্যাক্টরস বিজনেস স্কুল’ গঠন নিখোঁজের দুইদিন পর মিলল শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দী লাশ সাঁতার জানত দুই খেলার সাথী, হাঁটু সমান পানিতে মিলল লাশ সাহিত্য একাডেমির আয়োজনে বৈশাখী উৎসব এর তৃতীয় দিনের আয়োজন অনুষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈশাখী উৎসবে বজলুর রহমান পাঠাগারের আবৃত্তি পরিবেশন নবীনগররে ভূমি অফিসে তিন সাংবাদিককে অফিসের ভেতরে ‘তালাবদ্ধ’ করে আটক রাখার অভিযোগ কসবার তিন লাখ পীর এলাকায় ইপিজেড: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন যমুনা টিভির সাংবাদিক আল আমিনকে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি ডিজিটাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংবাদ প্রকাশে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন: নবীনগরে ঠিকাদার প্রকৌশলীকে বাঁশ দিয়ে দাওয়া তিতাস পাড়ে অবস্থিত শ্মশান; ৪০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

দেবরের লাথিতে ভাবির গর্ভপাতের অভিযোগ, থানায় অভিযোগের চারদিনেও মামলা হয়নি

মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকঞ্জি
  • আপডেট সময় : ০৯:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫ ৪৭৭ বার পড়া হয়েছে

দেবরের লাথিতে ভাবির গর্ভপাতের অভিযোগ, থানায় অভিযোগের চারদিনেও মামলা হয়নি

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে গর্ভবতী ভাবিকে মারধর ও লাথি মেরে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে দেবর জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার (২৫) একই এলাকার আব্দুল গনির স্ত্রী। তিনি বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তা এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘরের জানালা খোলা নিয়ে আব্দুল গনি ও তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তার আত্মীয় হেলাল মিয়া, কোহিনুর ও সাকিনা যোগ দিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে আব্দুল গনির ওপর হামলা চালায়। এ সময় স্ত্রী শারমিন আক্তার স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে জাহাঙ্গীর আলম তাকে পেটে লাথি মারেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তার আড়াই মাসের গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দম্পতিকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে শারমিন আক্তার মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শিবানী দেবের আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট এবং গাইনী কনসালটেন্ট ডা. শরীফা মাসুমা ইসমত ভর্তির কাগজে উল্লেখ করেন, শারমিন আক্তার গর্ভবতী ছিলেন না এবং কোনো “abortion” ঘটেনি। তবে এর আগের ২৪ সেপ্টেম্বর ডা. শাকিল আহমেদের করা আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে শারমিনের ৬ সপ্তাহ ৫ দিনের গর্ভধারণ নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসা প্রতিবেদনে অসঙ্গতি ও চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আহত শারমিনের স্বামী আব্দুল গনি বলেন, “আমার গর্ভবতী স্ত্রীর সন্তানকে তারা মেরে ফেলেছে। ডাক্তারও ভুল রিপোর্ট দিয়েছেন। আমি অত্যন্ত অসহায়, এর সঠিক বিচার চাই।” ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তের পর মামলা রুজু করা হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দেবরের লাথিতে ভাবির গর্ভপাতের অভিযোগ, থানায় অভিযোগের চারদিনেও মামলা হয়নি

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে গর্ভবতী ভাবিকে মারধর ও লাথি মেরে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে দেবর জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার (২৫) একই এলাকার আব্দুল গনির স্ত্রী। তিনি বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও তা এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘরের জানালা খোলা নিয়ে আব্দুল গনি ও তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তার আত্মীয় হেলাল মিয়া, কোহিনুর ও সাকিনা যোগ দিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে আব্দুল গনির ওপর হামলা চালায়। এ সময় স্ত্রী শারমিন আক্তার স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে জাহাঙ্গীর আলম তাকে পেটে লাথি মারেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তার আড়াই মাসের গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দম্পতিকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে শারমিন আক্তার মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শিবানী দেবের আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট এবং গাইনী কনসালটেন্ট ডা. শরীফা মাসুমা ইসমত ভর্তির কাগজে উল্লেখ করেন, শারমিন আক্তার গর্ভবতী ছিলেন না এবং কোনো “abortion” ঘটেনি। তবে এর আগের ২৪ সেপ্টেম্বর ডা. শাকিল আহমেদের করা আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে শারমিনের ৬ সপ্তাহ ৫ দিনের গর্ভধারণ নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসা প্রতিবেদনে অসঙ্গতি ও চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আহত শারমিনের স্বামী আব্দুল গনি বলেন, “আমার গর্ভবতী স্ত্রীর সন্তানকে তারা মেরে ফেলেছে। ডাক্তারও ভুল রিপোর্ট দিয়েছেন। আমি অত্যন্ত অসহায়, এর সঠিক বিচার চাই।” ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তের পর মামলা রুজু করা হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”