তিতাস নদী ও বিলে অবৈধ জালবিরোধী অভিযান: নিষিদ্ধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস
- আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
দেশীয় প্রজাতির মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং তিতাস নদীর প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবৈধ জালবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল ও মাছ ধরার ফাঁদ জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। জানা যায়, সোমবার দুপুরে শহরের কাউতলী কুরুলিয়া খাল থেকে শুরু করে ভাদুঘরের পূর্বদিকে বোয়ালীয়া বিলসহ আশপাশের কয়েকটি বিলে অভিযান চালায় মৎস্য বিভাগ। অভিযান চলাকালে মাছ নিধনে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, রিং জাল ও চিংড়ি মাছ ধরার বোতল ফাঁদ জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত এসব অবৈধ জাল ও সরঞ্জাম আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অভিযানকালে আনন্দবাজার এলাকায় অবস্থানরত জেলেদের সঙ্গে কথা বলেন মৎস্য কর্মকর্তারা। এ সময় তাঁদের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হয় এবং দেশীয় মাছের প্রজনন মৌসুমে নদী-খাল ও বিলের পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, সদস্য সোহেল রানা ভূঁইয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অভিযান শেষে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, “দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষা এবং তিতাস নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে। কারেন্ট জাল ও অন্যান্য অবৈধ উপকরণ ব্যবহারের কারণে মা মাছ, পোনা ও ছোট মাছ নির্বিচারে নিধন হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদের জন্য বড় হুমকি।” জেলেদের আইন মেনে মাছ ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “কেউ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।” পরিবেশবাদী সংগঠন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, “তিতাস নদী আমাদের জন্য শুধু একটি নদী নয়, এটি এ অঞ্চলের পরিবেশ ও জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। নদী ও বিলে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”














