ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৭.৫ কেজি গাঁজাসহ ১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার নবীনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলায় গুরুতর আহত ১ সালিসে ধসে পড়ল স্কুলের ছাঁদে ঘেরা দেয়াল, আহত ৩ আখাউড়ায় অবৈধভাবে ভোজ্য তেল মজুদের দায়ে ২ টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০,০০০ টাকা জরিমানা নবীনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যা মামলার ১ জন আসামি ঢাকায় গ্রেফতার জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান দিবস পালন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নানা কর্মসূচী গ্রহন। প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত তিতাস রক্ষায় সাকার মাছ ধ্বংসের ডাক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৎস্য বিভাগের জরুরি অভিযান কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্তকারীকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার নবীনগরে সন্ধানী চক্ষুদান সমিতির সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা প্রদান

গণশৌচাগার দখল করে দোকান দিলেন পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ ২০২২ ৩৬৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গণশৌচাগারের (টয়লেট) সামনে দখল করে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের আমিনপুরে জেলা পরিষদের জায়গায় অবৈধ ওই দোকানে কনফেকশনারি চালু করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে আমিনপুর গ্রামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের জায়গায় সমন্বয় করে পৌরসভা একটি গণশৌচাগার তৈরি করে। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গণশৌচাগারটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার। এর কয়েক বছর পর গণশৌচাগারটি প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে যায়। গত পৌর নির্বাচনে ৭নং কাউন্সিলর হিসেবে জয়লাভ করেন ফারুক মিয়া। গণশৌচাগারের ঠিক পাশে জেলা পরিষদের মার্কেটে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর ফারুক মিয়ার নিজস্ব কার্যালয়। ফারুক মিয়া জয়লাভ করার পর তার নিজ গ্রামের কোরবান মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে পৌরসভার মালিকানাধীন গণশৌচাগারটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কোরবান মিয়া দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি গণশৌচাগারটি কিছুটা সংস্কার করা হয়। কিন্তু ইজারাদার গণশৌচাগারটির আকৃতি বদল করেন। এসময় গণশৌচাগারের সামনে তাকে একটি দোকান তৈরি করার নির্দেশ দেন কাউন্সিলর ফারুক মিয়া। জেলা পরিষদের মালিকাধীন জায়গায় কোন প্রকার অনুমোদন না নিয়ে স্থায়ীভাবে একটি দোকান তৈরি করা হয়। দোকানটি মাসিক ১৫০০/-টাকার মৌখিক চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয় গণশৌচাগারের ইজারাদার কোরবান মিয়ার কাছে। এই বিষয়ে কোরবান মিয়া বলেন, আমার কাছে গণশৌচাগারটি হস্তান্তর করার পর তা সংস্কার করেছি। আগে অনেক অপরিষ্কার ছিল। সংস্কার করতে আমার অনেক টাকা খরচ হয়েছে। আর এই দোকানটি কাউন্সিলর ফারুক ভাইয়ের নির্দেশে আমি তৈরি করেছি। দোকানটির কাউন্সিলর ফারুক ভাইয়েরই। তবে অভিযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুক মিয়া বলেন, ‘কোরবান মিয়ার কথা সঠিক নয়। সে বসতে পারে না বলে দোকান তৈরি করেছে।’এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না, তবে ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার রজব আলী বলেন, আমরা এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আমিনপুরের এই দোকান নির্মাণ করা জায়গাটি কাউকে জেলা পরিষদ লিজ দেয়নি। তাদের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। এ বিষয়ে জড়িতদের চিঠি দেওয়া হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সচিব শামসুদ্দিন বলেন, জেলা পরিষদের জায়গায় গণশৌচাগারটি তৈরি করা আছে। নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন থাকায় পরিষ্কার করতে বলেছি। আমরা কাউকে দোকান নির্মাণ করতে বলিনি।

এনই আকন্ঞ্জি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

গণশৌচাগার দখল করে দোকান দিলেন পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ মার্চ ২০২২

গণশৌচাগারের (টয়লেট) সামনে দখল করে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের আমিনপুরে জেলা পরিষদের জায়গায় অবৈধ ওই দোকানে কনফেকশনারি চালু করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে আমিনপুর গ্রামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের জায়গায় সমন্বয় করে পৌরসভা একটি গণশৌচাগার তৈরি করে। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গণশৌচাগারটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার। এর কয়েক বছর পর গণশৌচাগারটি প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে যায়। গত পৌর নির্বাচনে ৭নং কাউন্সিলর হিসেবে জয়লাভ করেন ফারুক মিয়া। গণশৌচাগারের ঠিক পাশে জেলা পরিষদের মার্কেটে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর ফারুক মিয়ার নিজস্ব কার্যালয়। ফারুক মিয়া জয়লাভ করার পর তার নিজ গ্রামের কোরবান মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে পৌরসভার মালিকানাধীন গণশৌচাগারটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কোরবান মিয়া দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি গণশৌচাগারটি কিছুটা সংস্কার করা হয়। কিন্তু ইজারাদার গণশৌচাগারটির আকৃতি বদল করেন। এসময় গণশৌচাগারের সামনে তাকে একটি দোকান তৈরি করার নির্দেশ দেন কাউন্সিলর ফারুক মিয়া। জেলা পরিষদের মালিকাধীন জায়গায় কোন প্রকার অনুমোদন না নিয়ে স্থায়ীভাবে একটি দোকান তৈরি করা হয়। দোকানটি মাসিক ১৫০০/-টাকার মৌখিক চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয় গণশৌচাগারের ইজারাদার কোরবান মিয়ার কাছে। এই বিষয়ে কোরবান মিয়া বলেন, আমার কাছে গণশৌচাগারটি হস্তান্তর করার পর তা সংস্কার করেছি। আগে অনেক অপরিষ্কার ছিল। সংস্কার করতে আমার অনেক টাকা খরচ হয়েছে। আর এই দোকানটি কাউন্সিলর ফারুক ভাইয়ের নির্দেশে আমি তৈরি করেছি। দোকানটির কাউন্সিলর ফারুক ভাইয়েরই। তবে অভিযুক্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুক মিয়া বলেন, ‘কোরবান মিয়ার কথা সঠিক নয়। সে বসতে পারে না বলে দোকান তৈরি করেছে।’এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না, তবে ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার রজব আলী বলেন, আমরা এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আমিনপুরের এই দোকান নির্মাণ করা জায়গাটি কাউকে জেলা পরিষদ লিজ দেয়নি। তাদের বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। এ বিষয়ে জড়িতদের চিঠি দেওয়া হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সচিব শামসুদ্দিন বলেন, জেলা পরিষদের জায়গায় গণশৌচাগারটি তৈরি করা আছে। নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন থাকায় পরিষ্কার করতে বলেছি। আমরা কাউকে দোকান নির্মাণ করতে বলিনি।

এনই আকন্ঞ্জি