মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ রেখে বিদায় সংবর্ধনা ও ভুরিভোজ, রোগীদের চরম ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ০৬:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় মাঠ পর্যায়ের সকল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজন করা হয়েছে জাঁকজমকপূর্ণ বিদায় সংবর্ধনা ও ভুরিভোজের অনুষ্ঠান। আজ মঙ্গলবার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৩৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। ফলে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো সাধারণ রোগী। জানা যায়, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে ডা. ইসমাইল হোসেন রাহাতের বদলি এবং মো. মনির হোসেন ও বশির আহমেদের অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী মাসিক সমন্বয় সভা ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হলেও, এই অনুষ্ঠানে সংবাদ কর্মীদের অবস্থান টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে গত বছরের (২০২৫ সালের) পুরনো ব্যানার টাঙানো হয়। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সদর উপজেলার ৩৩ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) এবং ৪৫ জন স্বাস্থ্য সহকারী তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে তালা ঝুলতে দেখা যায়। ফলে সর্দি, কাশি, আমাশয়, ডায়রিয়া, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের সেবাসহ সরকারিভাবে প্রদত্ত ২৮ প্রকারের ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে আসা প্রান্তিক মানুষজন ক্লিনিক বন্ধ পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, বিদায় অনুষ্ঠান ও ভুরিভোজের বিষয়টি আড়াল করতে মূল ব্যানারের পরিবর্তে তড়িঘড়ি করে গত বছরের (২০২৫ সালের) পুরনো ব্যানার টাঙানো হয়। প্রায় শতাধিক লোকের এই আয়োজনে খাবারের মেন্যুতে ছিল গরুর মাংস, মুরগির মাংস, খাসি মুগ ডাল, সবজি, দই ও মিনারেল ওয়াটার। লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ের এই রাজকীয় আয়োজনের অর্থের উৎস নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি কাজ বন্ধ রেখে কার স্বার্থে এবং কোন তহবিলের টাকায় এমন ব্যয়বহুল ভুরিভোজ— তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আজ আমাদের মাসিক মিটিং ছিল। তাই মাঠ কর্মীদের উৎসাহ দিতে সামান্য ডাল-ভাতের আয়োজন করা হয়েছে। এই খরচের টাকা আমরা সব ডাক্তাররা মিলে বহন করেছি।’ মাঠ পর্যায়ে সেবা বন্ধ থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে রোগীদের জন্য কাজ করার আরও অন্যান্য সংস্থার লোকজন রয়েছে।



















