ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তরী বাংলাদেশের সবুজ অভিযাত্রা: শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ নোঙর বাংলাদেশের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান এমপি শ্যামলের চেক জালিয়াতি মামলায় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ”লাউ গেল, কদু এল– বদলালো কী? মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে নবীনগরে বৃক্ষরোপণ ও সচেতনতামূলক সমাবেশ ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিদায় করেছি: এমপি শ্যামল ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসে ‘চ্যানেল’ সিন্ডিকেট: হয়রানিতে সাধারণ গ্রাহক। শিক্ষাসেবার মানোন্নয়নে অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দু’বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আয়োজন হচ্ছে নৌকাবাইচ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক জব্দ

তরী বাংলাদেশের সবুজ অভিযাত্রা: শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

তরী বাংলাদেশের সবুজ অভিযাত্রা:শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দাউদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তরী বাংলাদেশের ব্যতিক্রমী বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি, ক্রমবর্ধমান পরিবেশদূষণ, নির্বিচার বৃক্ষনিধন ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য যখন ক্রমেই বিপন্ন, ঠিক তখনই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের দায়বদ্ধতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন তরী বাংলাদেশ। সংগঠনটির বিজয়নগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে দাউদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা গাছ বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত অ্যাসেম্বলির সময় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষ সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কর্মসূচিকে ঘিরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। তরী বাংলাদেশ, বিজয়নগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং একটি চারাকে সযত্ন পরিচর্যার মাধ্যমে পরিণত বৃক্ষে রূপ দেওয়াই প্রকৃত পরিবেশ-দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণের এই উদ্যোগ তাদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের মানসিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত চারাগুলো যথাযথ স্থানে রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকে ব্যক্তিগত দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার লড়াই কোনো একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা সংগঠনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ। আর সেই অংশগ্রহণের সবচেয়ে কার্যকর ক্ষেত্র হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব চিন্তা ও আচরণ গড়ে তোলা গেলে তার ইতিবাচক প্রভাব পরিবার থেকে শুরু করে বৃহত্তর সমাজে বিস্তৃত হবে।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক সদস্য খালেদা মুন্নি, আহ্বায়ক সদস্য সুশান্ত পাল এবং বিজয়নগর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব হোসাইন আলমগীর। দাউদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাজাহান খান বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণের এ উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধু বৃক্ষরোপণের আগ্রহই সৃষ্টি হবে না, বরং প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধও সুদৃঢ় হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে পাওয়া চারাগুলো যথাযথ স্থানে রোপণ ও সযত্নে পরিচর্যার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে তরী বাংলাদেশের সদস্য কাজী লোকমান হোসেন, রুবেল মিয়া, খাইরুল আলম জুয়েল, সুমন মিয়া, হাসিবুল হোসেন, খান আলাওল ইসলাম চৌধুরী, মো. শাহজাহান ও সিরাজুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা গাছ বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে বৃক্ষরোপণকে নিছক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও সামাজিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রয়াস নেওয়া হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন প্রাপ্ত চারাগুলো উপযুক্ত স্থানে রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করে এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সেগুলোকে পরিণত বৃক্ষে রূপান্তরিত করে। তরী বাংলাদেশ সূত্রে জানা যায়, পরিবেশের বিপর্যয় প্রতিরোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সবুজায়নকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপদে ধারাবাহিকভাবে বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তরী বাংলাদেশের সবুজ অভিযাত্রা: শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ

আপডেট সময় : ০৯:১৫:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাউদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তরী বাংলাদেশের ব্যতিক্রমী বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি, ক্রমবর্ধমান পরিবেশদূষণ, নির্বিচার বৃক্ষনিধন ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য যখন ক্রমেই বিপন্ন, ঠিক তখনই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের দায়বদ্ধতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন তরী বাংলাদেশ। সংগঠনটির বিজয়নগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে দাউদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা গাছ বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত অ্যাসেম্বলির সময় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে চারা তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষ সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কর্মসূচিকে ঘিরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। তরী বাংলাদেশ, বিজয়নগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং একটি চারাকে সযত্ন পরিচর্যার মাধ্যমে পরিণত বৃক্ষে রূপ দেওয়াই প্রকৃত পরিবেশ-দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণের এই উদ্যোগ তাদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের মানসিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত চারাগুলো যথাযথ স্থানে রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকে ব্যক্তিগত দায়িত্বের গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার লড়াই কোনো একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা সংগঠনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ। আর সেই অংশগ্রহণের সবচেয়ে কার্যকর ক্ষেত্র হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব চিন্তা ও আচরণ গড়ে তোলা গেলে তার ইতিবাচক প্রভাব পরিবার থেকে শুরু করে বৃহত্তর সমাজে বিস্তৃত হবে।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন তরী বাংলাদেশের আহ্বায়ক সদস্য খালেদা মুন্নি, আহ্বায়ক সদস্য সুশান্ত পাল এবং বিজয়নগর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব হোসাইন আলমগীর। দাউদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাজাহান খান বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণের এ উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধু বৃক্ষরোপণের আগ্রহই সৃষ্টি হবে না, বরং প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধও সুদৃঢ় হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে পাওয়া চারাগুলো যথাযথ স্থানে রোপণ ও সযত্নে পরিচর্যার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে তরী বাংলাদেশের সদস্য কাজী লোকমান হোসেন, রুবেল মিয়া, খাইরুল আলম জুয়েল, সুমন মিয়া, হাসিবুল হোসেন, খান আলাওল ইসলাম চৌধুরী, মো. শাহজাহান ও সিরাজুল ইসলামসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা গাছ বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে বৃক্ষরোপণকে নিছক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব ও সামাজিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার প্রয়াস নেওয়া হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন প্রাপ্ত চারাগুলো উপযুক্ত স্থানে রোপণ করে নিয়মিত পরিচর্যা করে এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সেগুলোকে পরিণত বৃক্ষে রূপান্তরিত করে। তরী বাংলাদেশ সূত্রে জানা যায়, পরিবেশের বিপর্যয় প্রতিরোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সবুজায়নকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপদে ধারাবাহিকভাবে বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।