ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ জনকে কুপিয়ে জখম, টাকা লুট; প্রধান আসামি গ্রেফতার মাসুদ রানা-নবীনগর পৌরসভার ‘মেয়র’পদে নির্বাচন করার ঘোষণা! ট্রেনের ছাদে লুকিয়ে রাখা স্কুলব্যাগ থেকে মিলল ১২ কেজি গাঁজা হাসপাতালে নারী কর্মচারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি; হাসপাতাল ভাঙচুর নাসিরনগরে হত্যা মামলার ১ জন আসামি গ্রেফতার সরাইলে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল, এলাকায় চাঞ্চল্য। আশুগঞ্জে পৃথক পৃথক অভিযানে শুল্কবিহীন সিগারেট মাদকসহ ৫ জনকে গ্রেফতার মৃত্যুর পর পুলিশ ও বাতিঘরের উদ্যোগে স্বজনদের কাছে কামালের মরদেহ হস্তান্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটির নেতৃত্বে মাহমুদ ও সুজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, গ্রেফতার ১

বাঞ্ছারামপুরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধে হামলা বাড়িঘর ভাঙচুর, ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫ ১১৬০ বার পড়া হয়েছে

বাঞ্ছারামপুরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধে হামলা বাড়িঘর ভাঙচুর, ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামে বাড়ির সীমানা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং পাঁচটি বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় পঞ্চাশ লাখ টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ শিপন মিয়া বাদী হয়ে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন, শনিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। ফরদাবাদ গ্রামের মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শিপন মিয়াসহ তার স্বজনদের সাথে আসামিদের বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে, শিশু মিয়া, সাদ্দাম মিয়া, হিমন, ফারুক মিয়া, সোহেল মিয়া, শাহ পরান, রুহুল আমিনসহ কয়েকজন শান্তির বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। বাজারের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা তাদেরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লে, সেই সুযোগে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা পাঁচটি বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং আলমারি ও সিন্দুক ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাদের বাড়ি থেকে মালামাল লুট হয়েছে তারা হলেন: মামলার বাদী মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে শিপন মিয়া, মৃত মালেক মিয়ার ছেলে শিশু মিয়া, কবির মিয়ার ছেলে সাদ্দাম মিয়া এবং মৃত আদম আলীর দুই ছেলে মফিজ মিয়া ও মোমেন মিয়া। ভুক্তভোগীদের দাবি, পাঁচটি বাড়ি থেকে সব মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশ লাখ টাকার সম্পদ লুট করা হয়েছে।

বাদী মোহাম্মদ শিপন মিয়া জানান, “তারা আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করেছিল। আমরা যখন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটছি, সেই সুযোগে তারা আমাদের সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাঞ্ছারামপুরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধে হামলা বাড়িঘর ভাঙচুর, ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট

আপডেট সময় : ১০:১৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামে বাড়ির সীমানা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন এবং পাঁচটি বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় পঞ্চাশ লাখ টাকার মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ শিপন মিয়া বাদী হয়ে ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন, শনিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। ফরদাবাদ গ্রামের মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শিপন মিয়াসহ তার স্বজনদের সাথে আসামিদের বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে, শিশু মিয়া, সাদ্দাম মিয়া, হিমন, ফারুক মিয়া, সোহেল মিয়া, শাহ পরান, রুহুল আমিনসহ কয়েকজন শান্তির বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। বাজারের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা তাদেরকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লে, সেই সুযোগে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা পাঁচটি বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং আলমারি ও সিন্দুক ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

যাদের বাড়ি থেকে মালামাল লুট হয়েছে তারা হলেন: মামলার বাদী মৃত হানিফ মিয়ার ছেলে শিপন মিয়া, মৃত মালেক মিয়ার ছেলে শিশু মিয়া, কবির মিয়ার ছেলে সাদ্দাম মিয়া এবং মৃত আদম আলীর দুই ছেলে মফিজ মিয়া ও মোমেন মিয়া। ভুক্তভোগীদের দাবি, পাঁচটি বাড়ি থেকে সব মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশ লাখ টাকার সম্পদ লুট করা হয়েছে।

বাদী মোহাম্মদ শিপন মিয়া জানান, “তারা আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করেছিল। আমরা যখন আহতদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটছি, সেই সুযোগে তারা আমাদের সর্বস্ব লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হবে।