ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত। চাঁদা দাবি ও বাসে আগুন দেওয়ার হুমকিতে ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা অপকর্মের দায়ে যমুনা হাসপাতালের পদ হারালেন জুলফিকার সরাইলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে: নিহত ৪, আহত অন্তত ১০ বাঞ্ছারামপুরে দেশীয় এলজি বন্দুক, কার্তুজ ও মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ১ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ জনকে কুপিয়ে জখম, টাকা লুট; প্রধান আসামি গ্রেফতার মাসুদ রানা-নবীনগর পৌরসভার ‘মেয়র’পদে নির্বাচন করার ঘোষণা! ট্রেনের ছাদে লুকিয়ে রাখা স্কুলব্যাগ থেকে মিলল ১২ কেজি গাঁজা হাসপাতালে নারী কর্মচারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি; হাসপাতাল ভাঙচুর নাসিরনগরে হত্যা মামলার ১ জন আসামি গ্রেফতার

চাঁদা দাবি ও বাসে আগুন দেওয়ার হুমকিতে ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ২৮৪ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাঁদা দাবি ও বাসে আগুন দেওয়ার হুমকিতে ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে বাসে আগুন দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই সিআর মামলাটি (নং- ১২০২/২০২৬) দায়ের করেন ‘লাবিবা বাস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর চালক মো. হোসেন মিয়া। মামলার আসামিরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ছয়বাড়িয়া এলাকার মো. সাইদুল ইসলাম শাহেদ (৫০), সরাইলের শাহবাজপুরের মনসুর আলী দানা মিয়া (৫৫) এবং শহরের ভাদুঘর টিঅ্যান্ডটি পাড়ার শেখ মো. জামসেদ (৫৭)। আদালতে দায়ের করা মামলার আরজি থেকে জানা যায়, আসামিরা পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। গত ২ জুন সকাল ১০টার দিকে আসামিরা ভাদুঘর বাস টার্মিনালে লাবিবা বাস কাউন্টারে এসে বাদী হোসেন মিয়ার কাছে চাঁদা দাবি করে। তারা লাবিবা পরিবহনের ৩২টি বাসের প্রতি ট্রিপের জন্য ৩০০ টাকা করে প্রতিদিন মোট ৯ হাজার ৬০০ টাকা চাঁদা দাবি করে।

বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা হুমকি দিয়ে বলে, চাঁদা না দিলে লাবিবা পরিবহনের কোনো বাস সড়কে চলতে দেওয়া হবে না এবং বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাদী ও তার লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় আসামিরা। মামলার এজাহারে আসামিদের অতীত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের সমিতি বা সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু আসামিরা সরকারি সেই নির্দেশ অমান্য করে গত ১০ জানুয়ারি গোপনে একটি অবৈধ নির্বাচনের আয়োজন করে। স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষককে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বানিয়ে এই নির্বাচন করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ চালক ও শ্রমিকরা বাস-ট্রাক দিয়ে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে প্রশাসন ওই অবৈধ নির্বাচন বন্ধ করে দেয় এবং ব্যালট পেপারসহ সব সরঞ্জাম জব্দ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

বাদী অভিযোগ করেন, অবৈধ নির্বাচন সম্পন্ন করতে না পারার ক্ষোভ থেকেই আসামিরা বর্তমানে বাস মালিক সমিতি ও কাউন্টারগুলোর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে চাঁদাবাজির পাঁয়তারা করছে। বর্তমানেও আসামিরা জোরজবরদস্তি করে তাদের চাঁদাবাজির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। নিরুপায় হয়ে বাদী মো. হোসেন মিয়া ন্যায়বিচারের আশায় তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিসহ বিজ্ঞ আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চাঁদা দাবি ও বাসে আগুন দেওয়ার হুমকিতে ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

আপডেট সময় : ০৫:২৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে বাসে আগুন দেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই সিআর মামলাটি (নং- ১২০২/২০২৬) দায়ের করেন ‘লাবিবা বাস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর চালক মো. হোসেন মিয়া। মামলার আসামিরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ছয়বাড়িয়া এলাকার মো. সাইদুল ইসলাম শাহেদ (৫০), সরাইলের শাহবাজপুরের মনসুর আলী দানা মিয়া (৫৫) এবং শহরের ভাদুঘর টিঅ্যান্ডটি পাড়ার শেখ মো. জামসেদ (৫৭)। আদালতে দায়ের করা মামলার আরজি থেকে জানা যায়, আসামিরা পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। গত ২ জুন সকাল ১০টার দিকে আসামিরা ভাদুঘর বাস টার্মিনালে লাবিবা বাস কাউন্টারে এসে বাদী হোসেন মিয়ার কাছে চাঁদা দাবি করে। তারা লাবিবা পরিবহনের ৩২টি বাসের প্রতি ট্রিপের জন্য ৩০০ টাকা করে প্রতিদিন মোট ৯ হাজার ৬০০ টাকা চাঁদা দাবি করে।

বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা হুমকি দিয়ে বলে, চাঁদা না দিলে লাবিবা পরিবহনের কোনো বাস সড়কে চলতে দেওয়া হবে না এবং বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাদী ও তার লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় আসামিরা। মামলার এজাহারে আসামিদের অতীত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের সমিতি বা সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু আসামিরা সরকারি সেই নির্দেশ অমান্য করে গত ১০ জানুয়ারি গোপনে একটি অবৈধ নির্বাচনের আয়োজন করে। স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষককে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বানিয়ে এই নির্বাচন করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ চালক ও শ্রমিকরা বাস-ট্রাক দিয়ে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে প্রশাসন ওই অবৈধ নির্বাচন বন্ধ করে দেয় এবং ব্যালট পেপারসহ সব সরঞ্জাম জব্দ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

বাদী অভিযোগ করেন, অবৈধ নির্বাচন সম্পন্ন করতে না পারার ক্ষোভ থেকেই আসামিরা বর্তমানে বাস মালিক সমিতি ও কাউন্টারগুলোর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে চাঁদাবাজির পাঁয়তারা করছে। বর্তমানেও আসামিরা জোরজবরদস্তি করে তাদের চাঁদাবাজির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। নিরুপায় হয়ে বাদী মো. হোসেন মিয়া ন্যায়বিচারের আশায় তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিসহ বিজ্ঞ আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।