ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ জনকে কুপিয়ে জখম, টাকা লুট; প্রধান আসামি গ্রেফতার মাসুদ রানা-নবীনগর পৌরসভার ‘মেয়র’পদে নির্বাচন করার ঘোষণা! ট্রেনের ছাদে লুকিয়ে রাখা স্কুলব্যাগ থেকে মিলল ১২ কেজি গাঁজা হাসপাতালে নারী কর্মচারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি; হাসপাতাল ভাঙচুর নাসিরনগরে হত্যা মামলার ১ জন আসামি গ্রেফতার সরাইলে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিল, এলাকায় চাঞ্চল্য। আশুগঞ্জে পৃথক পৃথক অভিযানে শুল্কবিহীন সিগারেট মাদকসহ ৫ জনকে গ্রেফতার মৃত্যুর পর পুলিশ ও বাতিঘরের উদ্যোগে স্বজনদের কাছে কামালের মরদেহ হস্তান্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স সোসাইটির নেতৃত্বে মাহমুদ ও সুজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা, গ্রেফতার ১

সরকারি চাকরি করেও তিনি আওয়ামী লীগের সম্পাদক!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২ ২৮৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারি কর্মচারি হয়েও সরাইলের চুন্টা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে আসীন আছেন শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। আবার আগামীতে একই পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করে ব্যানারে প্রচার করছেন। তিনি বড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। গত মাসেরও অধিক সময় ধরে স্কুল ফাঁকি দিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কাজে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরূদ্ধে। সেখানকার আ’লীগের একাংশের নেতা কর্মীরা উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে তার বিরূদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় রিপোর্ট হয়েছে। ছবিসহ ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারি হয়েও রাজনৈতিক দলের পদে থেকে কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিধি সম্মত নয় বলে লিখিত অভিযোগ করেছেন একই ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের প্রয়াত ওসমান গণির ছেলে রফিকুল ইসলাম। অবশেষে গত ২৪ জুলাই রবিবার শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে শোকজ করেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল আজীজ। লিখিত অভিযোগপত্র ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সরাইলের চুন্টা ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হয়েও আবুল কালাম গত ১৫-২০ বছর ধরে রাজনৈতিক দলের পদে আসীন রয়েছেন। ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে শতভাগ সরকারি হয়ে যায় ওই বিদ্যালয়টি। কিন্তু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়েননি কালাম। সময় সময় স্কুল ফাঁকি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন রাজনৈতিক কর্মকান্ড। তিনি আওয়ামীলীগ নেতা। তাই উনার সকল অনিয়ম দূর্নীতি ও ফাঁকি বেলা শেষে বৈধ কর্মকর্তাদের কাছে। গত দেড়/দুই মাস ধরে চুন্টা ইউনিয়নে চলছে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কাজ। আবুল কালাম স্কুল ফাঁকি দিয়ে চলে যা”েছন ওয়ার্ড কমিটি গঠনের সভায়। এভাবে ঘুরে ফিরে ৯টি ওয়ার্ড কমিটি করেছেন তিনি। কমিটি গুলোর অনুমোদন পেয়েছে উনার স্বাক্ষরেই। আবার আগামী ২৯ জুলাই চুন্টা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। ওই সম্মেলনে আবুল কালাম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীও। সম্প্রতি উনার রাজনৈতিক কর্মকান্ডকে বিধি বহির্ভূত উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন রসুলপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ২৪ জুলাই রবিবার শিক্ষক আবুল কালামকে শোকজ করেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা। শোকজ পত্রে বলা হয়েছে সরকারি চাকুরী বিধিমালা অনুযায়ী কোন সরকারী কর্মচারী কোন রাজনৈতিক দলের পদে আসীন বা পদপ্রার্থী হতে পারেন না। আপনি কেন সরকারি চাকুরী বিধিমালা লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক দলের পদে আসীন ও আসন্ন কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদকের পদে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। এর সন্তোষজনক জবাব পত্র প্রাপ্তির সাথে সাথে নিম্ন স্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে দাখিল করতে বলা হলো। শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিয়ম জানা নেই। জেলা উপজেলার নেতারা দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। তা পালন করছি। সম্মেলন শেষ করে চলে আসব। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেফালী বাপ্পি বলেন, “ ছুটি নিয়ে তিনি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহন করেন কিনা জানি না। নিয়ম মাফিক তিনি প্রাপ্ত ছুটি চাইলে ছুটি দেই।” উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আজীজ বলেন, সহকারি শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বিরূদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি চাকরি করে রাজনীতি করার বিধান নেই। তাকে কারণ দর্শানো দেয়া হয়েছে। রাজনীতি করে এমন প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস’া নেয়া হবে।

মাহবুব খান বাবুল

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সরকারি চাকরি করেও তিনি আওয়ামী লীগের সম্পাদক!

আপডেট সময় : ০২:২২:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২

সরকারি কর্মচারি হয়েও সরাইলের চুন্টা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে আসীন আছেন শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। আবার আগামীতে একই পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করে ব্যানারে প্রচার করছেন। তিনি বড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। গত মাসেরও অধিক সময় ধরে স্কুল ফাঁকি দিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কাজে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরূদ্ধে। সেখানকার আ’লীগের একাংশের নেতা কর্মীরা উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে তার বিরূদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন। জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় রিপোর্ট হয়েছে। ছবিসহ ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারি হয়েও রাজনৈতিক দলের পদে থেকে কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিধি সম্মত নয় বলে লিখিত অভিযোগ করেছেন একই ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের প্রয়াত ওসমান গণির ছেলে রফিকুল ইসলাম। অবশেষে গত ২৪ জুলাই রবিবার শিক্ষক আবুল কালাম আজাদকে শোকজ করেছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল আজীজ। লিখিত অভিযোগপত্র ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সরাইলের চুন্টা ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হয়েও আবুল কালাম গত ১৫-২০ বছর ধরে রাজনৈতিক দলের পদে আসীন রয়েছেন। ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে শতভাগ সরকারি হয়ে যায় ওই বিদ্যালয়টি। কিন্তু ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছাড়েননি কালাম। সময় সময় স্কুল ফাঁকি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন রাজনৈতিক কর্মকান্ড। তিনি আওয়ামীলীগ নেতা। তাই উনার সকল অনিয়ম দূর্নীতি ও ফাঁকি বেলা শেষে বৈধ কর্মকর্তাদের কাছে। গত দেড়/দুই মাস ধরে চুন্টা ইউনিয়নে চলছে ওয়ার্ড কমিটি গঠনের কাজ। আবুল কালাম স্কুল ফাঁকি দিয়ে চলে যা”েছন ওয়ার্ড কমিটি গঠনের সভায়। এভাবে ঘুরে ফিরে ৯টি ওয়ার্ড কমিটি করেছেন তিনি। কমিটি গুলোর অনুমোদন পেয়েছে উনার স্বাক্ষরেই। আবার আগামী ২৯ জুলাই চুন্টা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। ওই সম্মেলনে আবুল কালাম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীও। সম্প্রতি উনার রাজনৈতিক কর্মকান্ডকে বিধি বহির্ভূত উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন রসুলপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগটি আমলে নিয়ে গত ২৪ জুলাই রবিবার শিক্ষক আবুল কালামকে শোকজ করেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা। শোকজ পত্রে বলা হয়েছে সরকারি চাকুরী বিধিমালা অনুযায়ী কোন সরকারী কর্মচারী কোন রাজনৈতিক দলের পদে আসীন বা পদপ্রার্থী হতে পারেন না। আপনি কেন সরকারি চাকুরী বিধিমালা লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক দলের পদে আসীন ও আসন্ন কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদকের পদে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। এর সন্তোষজনক জবাব পত্র প্রাপ্তির সাথে সাথে নিম্ন স্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে দাখিল করতে বলা হলো। শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, নিয়ম জানা নেই। জেলা উপজেলার নেতারা দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। তা পালন করছি। সম্মেলন শেষ করে চলে আসব। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেফালী বাপ্পি বলেন, “ ছুটি নিয়ে তিনি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহন করেন কিনা জানি না। নিয়ম মাফিক তিনি প্রাপ্ত ছুটি চাইলে ছুটি দেই।” উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আজীজ বলেন, সহকারি শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বিরূদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি চাকরি করে রাজনীতি করার বিধান নেই। তাকে কারণ দর্শানো দেয়া হয়েছে। রাজনীতি করে এমন প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস’া নেয়া হবে।

মাহবুব খান বাবুল