ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা উন্নয়ন পরিষদের ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপণ সরাইলে নজরুল বর্ষ উদযাপন,পুরস্কার বিতরণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যক্রম শুরু সীমান্তে ৬০ বিজিবির অভিযান: ৪০ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালান পণ্য ও মাদক জব্দ ভাতুরিয়া টু টিয়ারা রাস্তার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন মাদকসেবী নয়, মাদক সম্রাট ও মাফিয়াদের ধরতে কাজ করছি’: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবাগত এসপি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশ্ব খাদ্য দিবস ও আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস ২০২৬ পালিত। অপরাধ দমনে মৃত্যুদণ্ড নয়, সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘মৃত্যুদণ্ড বিলোপ দিবস’ পালিত Saimum Sairas elected BPMCA senior joint secretary

সরাইলে হাফিজ হত্যা মামলায় ৩ ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অগাস্ট ২০২৩ ৩৫২ বার পড়া হয়েছে

চাঞ্চল্যকর হাফিজ উদ্দিন হত্যার ৩ জন পলাতক আসামি গ্রেফতার

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাহবুব খান বাবুলঃ সরাইল থেকেঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের হরিপুরের সালিসকারক ও ব্যবসায়ি হাফিজ (৪৭) হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ৩ ভাইকে গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাপিড এ্যাকশান ব্যাটালিয়ান-৯ (র‌্যাব)। গ্রেপ্তারকৃত এজহারভুক্ত ৩ আসামী হলো পাকশিমুল ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের প্রয়াত আমিন মিয়ার ৩ ছেলে রায়হান (১৯), সাইফুল (২২) ও তফসির (২৭)। গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে র‌্যাব সদস্যরা নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর থানা এলাকায় ও ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ৩ আসামী গ্রেপ্তারের খবরে নিহতের স্বজনদের মাঝে কিছুটা স্বস্থি ফিরে এসেছে।
র‌্যাব, মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব শত্রূতার জের ধরে গত ৪ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে হরিপুর সমুজ আলীর বাড়ির রাস্তায় একা পেয়ে হাফিজ উদ্দিনের গতিরোধ করে রায়হান, সাইফুল, তফসিরের নেতৃত্বে একদল লোক। তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হাফিজ উদ্দিনের উপর হামলা চালায়। ছুরা ও চাকু দিয়ে হাফিজ উদ্দিনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে গুরূতর রক্তাক্ত জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাফিজ উদ্দিনকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে গভীর রাতে হাফিজ মারা যায়। রাতেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায় রায়হান গংরা। পরের দিন ৫ আগস্ট শনিবার নিহত হাফিজের স্ত্রী শাহানা আক্তার বাদী হয়ে সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামীরা পলাতক থাকায় র‌্যাব উক্ত মামলার ছায়া তদন্ত শুরূ করেন। র‌্যাব-৯ এর সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া অফিসার) আফসান-আল-আলম জানান, র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারী ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার এজহারনামীয় ২ নম্বর আসামী রায়হান ও সাইফুলকে ১১ আগস্ট রাত ৩ টা ৩০ মিনিটে অভিযান চালিয়ে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে একই রাত ২টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তফছিরকে গ্রেপ্তার করেন। গতকাল শনিবার ৩ আসামীকে সরাইল থানায় সোপর্দ করেছে র‌্যাব। পুলিশ তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন। প্রসঙ্গত: গত রমজান মাসে হরিপুর গ্রামের জোয়াদ আলীর ছেলে মুজিবুর রহমানের (৩৮) মুদির দোকান চুরি হয়। ওই চুরির ঘটনায় ধরা পড়ে আমিন মিয়ার ছেলে রায়হানের ভাই সাইফুল (২২)। সালিসে ছিলেন হাফিজ উদ্দিন। এতে রায়হান গংরা ক্ষুদ্ধ হয় হাফিজের উপর। এরই জের ধরে গত প্রায় এক মাস আগে রায়হানরা তিন ভাই মিলে হাফিজের উপর হামলা করেছিল। এ ঘটনায় ৫ সন্তানের জনক হাফিজ জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সরাইল থানায় একটি সাধারণ ডারেরী করেছিলেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় কিছু লোক ও পুলিশের সহায়তায় নিস্পত্তি হয়। নিস্পত্তির পরও যে খুনের শিকার হতে হবে এমনটি অজানা ছিল হাফিজ ও তার পরিবারের লোকদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সরাইলে হাফিজ হত্যা মামলায় ৩ ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব

আপডেট সময় : ০৮:১০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ অগাস্ট ২০২৩

মাহবুব খান বাবুলঃ সরাইল থেকেঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের হরিপুরের সালিসকারক ও ব্যবসায়ি হাফিজ (৪৭) হত্যা মামলার অন্যতম আসামী ৩ ভাইকে গ্রেপ্তার করেছেন র‌্যাপিড এ্যাকশান ব্যাটালিয়ান-৯ (র‌্যাব)। গ্রেপ্তারকৃত এজহারভুক্ত ৩ আসামী হলো পাকশিমুল ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের প্রয়াত আমিন মিয়ার ৩ ছেলে রায়হান (১৯), সাইফুল (২২) ও তফসির (২৭)। গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে র‌্যাব সদস্যরা নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর থানা এলাকায় ও ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ৩ আসামী গ্রেপ্তারের খবরে নিহতের স্বজনদের মাঝে কিছুটা স্বস্থি ফিরে এসেছে।
র‌্যাব, মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব শত্রূতার জের ধরে গত ৪ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে হরিপুর সমুজ আলীর বাড়ির রাস্তায় একা পেয়ে হাফিজ উদ্দিনের গতিরোধ করে রায়হান, সাইফুল, তফসিরের নেতৃত্বে একদল লোক। তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হাফিজ উদ্দিনের উপর হামলা চালায়। ছুরা ও চাকু দিয়ে হাফিজ উদ্দিনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে গুরূতর রক্তাক্ত জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাফিজ উদ্দিনকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে গভীর রাতে হাফিজ মারা যায়। রাতেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায় রায়হান গংরা। পরের দিন ৫ আগস্ট শনিবার নিহত হাফিজের স্ত্রী শাহানা আক্তার বাদী হয়ে সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামীরা পলাতক থাকায় র‌্যাব উক্ত মামলার ছায়া তদন্ত শুরূ করেন। র‌্যাব-৯ এর সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া অফিসার) আফসান-আল-আলম জানান, র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারী ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মামলার এজহারনামীয় ২ নম্বর আসামী রায়হান ও সাইফুলকে ১১ আগস্ট রাত ৩ টা ৩০ মিনিটে অভিযান চালিয়ে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে একই রাত ২টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তফছিরকে গ্রেপ্তার করেন। গতকাল শনিবার ৩ আসামীকে সরাইল থানায় সোপর্দ করেছে র‌্যাব। পুলিশ তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন। প্রসঙ্গত: গত রমজান মাসে হরিপুর গ্রামের জোয়াদ আলীর ছেলে মুজিবুর রহমানের (৩৮) মুদির দোকান চুরি হয়। ওই চুরির ঘটনায় ধরা পড়ে আমিন মিয়ার ছেলে রায়হানের ভাই সাইফুল (২২)। সালিসে ছিলেন হাফিজ উদ্দিন। এতে রায়হান গংরা ক্ষুদ্ধ হয় হাফিজের উপর। এরই জের ধরে গত প্রায় এক মাস আগে রায়হানরা তিন ভাই মিলে হাফিজের উপর হামলা করেছিল। এ ঘটনায় ৫ সন্তানের জনক হাফিজ জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সরাইল থানায় একটি সাধারণ ডারেরী করেছিলেন। পরে বিষয়টি স্থানীয় কিছু লোক ও পুলিশের সহায়তায় নিস্পত্তি হয়। নিস্পত্তির পরও যে খুনের শিকার হতে হবে এমনটি অজানা ছিল হাফিজ ও তার পরিবারের লোকদের।