শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ও পরিবেশ সেবার মানোন্নয়নে জেলা পরিষদ ও সনাকের মতবিনিময় সভা
- আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার কল্যাণ, ভূমি এবং পরিবেশ সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সেবাগ্রহীতারা সচেতন হলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। প্রতিটি দপ্তরের কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও জনবল রয়েছে, যদিও কোথাও কোথাও জনবল সংকট আছে। সকলে নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করলে আমাদের এতো সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় না।” পৌরসভার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “পৌরসভার যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি সীমাবদ্ধতাও আছে। পৌর নাগরিকরা সচেতন হলে ড্রেন ময়লায় ভরত না, রাস্তাঘাট নষ্ট হতো না এবং যত্রতত্র ময়লা দেখা যেত না।” ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের ভিড় এবং বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় দেখছেন তিনি। জেলা পরিষদের নিজস্ব জায়গায় মার্কেট স্থাপন, খাল দখল এবং সরকারি রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণের মতো বিষয়ে তিনি নাগরিকদের অসচেতনতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতিকে দায়ী করেন। তবে এসব বিষয়ে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তা চলমান থাকবে বলে তিনি জানান। নারীদের জন্য পাবলিক টয়লেটের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “শীঘ্রই উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে আধুনিক সুবিধা সংবলিত নারী-বান্ধব টয়লেট নির্মাণ করা হবে।” এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বান্নিঘাট এলাকায় টিউবওয়েল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। উলচাপাড়া মালেকা ছাহেব আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও গৌতমপাড়া ঘাটুরা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় বেঞ্চ এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ভেন্ডিং মেশিন প্রদানের বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদির মিয়া বলেন, “ইতোমধ্যে জেলা পরিষদ শতাধিক শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছে। রেলওয়ের যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফ্যান দেওয়া হয়েছে এবং মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় প্লাস্টিক বর্জনের লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” সনাক সভাপতি জয়দুল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. আবদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য মো. আরজু মিয়া। তিনি বলেন, “সনাক জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে, যাতে তারা সেবাগ্রহণের সময় কোনো অনিয়মের শিকার না হন।” সনাকের সহ-সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজসহ অন্যান্য বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সনাক সদস্য মোক্তার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “ভূমিসেবায় জনগণ সন্তুষ্ট নয়। সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত হুইলচেয়ার না থাকায় ইমার্জেন্সি রোগীদের স্থানান্তরে সমস্যা হচ্ছে এবং হাসপাতালের ভেতরে ধূমপান চলছে। এছাড়া হকারদের যন্ত্রণায় শহরে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করা যাচ্ছে না।” অ্যাকটিভ সিটিজেনস গ্রুপ (এসিজি-স্বাস্থ্য)-এর সমন্বয়ক শামীম আহম্মেদ শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং লিজের শর্ত ভঙ্গকারীদের লিজ বাতিলের দাবি জানান। সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সগুলো সম্পূর্ণ অকার্যকর উল্লেখ করে তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এসিজি (ভূমি)-এর সমন্বয়ক সঞ্জয় কুমার দাস উপজেলা ভূমি সেবার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কক্ষ, সেবাগ্রহীতাদের বসার ব্যবস্থা, হেল্পডেস্ক ও অভিযোগ বাক্স স্থাপনের দাবি জানান। এসিজি (পরিবেশ)-এর সহ-সমন্বয়ক নুসরাত জাহান বুশরা শহরে নারীদের জন্য পাবলিক টয়লেট না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় ইয়েস ও এসিজি গ্রুপের সদস্যসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং সেবার মানোন্নয়নে নিজেদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন।














