ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জোরপূর্বক জায়গা দখল ও দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি
- আপডেট সময় : ১০:১২:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নয়নপুরে সালিশি বৈঠকের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা অমান্য করে জোরপূর্বক জায়গা দখল ও সীমানা প্রাচীর (দেয়াল) নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ৪ শতক জায়গার মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধের জেরে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নয়নপুর মৌজায় বিএস ৪৪৫ নম্বর দাগ ও ২০২৬-১০০০৪৯ নম্বর খতিয়ানের আওতাভুক্ত ৪ শতাংশ জমি রেকর্ডীয় সাফকাওলা দলিলমূলে মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করেন সৈয়দ ফয়সাল বারী। তবে সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ওই জমি দখল করে জোর করে দেয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে কাউতলি এলাকার খবির ও মতিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী সৈয়দ ফয়সাল বারী জানান, তিনি প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে জায়গাটি ক্রয় করেছেন। ইতোমধ্যে তার নামে জমির খারিজ (নামজারি) সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সরকারকে জমির খাজনাও পরিশোধ করে আসছেন। “খবির ও মতিন সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আমার জায়গাটি দখল করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আগামীকাল (১২ মে) একটি সালিশি বৈঠক বসার কথা ছিল। তারা সেই বৈঠকে মীমাংসার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। কিন্তু তারা সেই বৈঠকের তোয়াক্কা না করে আজই পেশিশক্তির জোরে জায়গায় দেয়াল নির্মাণ শুরু করেছে।” অন্যদিকে, অভিযুক্ত খবির উদ্দিন (কাউতলি এলাকার মৃত আব্দুল আলী মিয়ার ছেলে) এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওই জায়গার মালিকানা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “এই জায়গার বৈধ কাগজপত্র আমাদের কাছেও রয়েছে। আমরা পূর্বের প্রকৃত মালিকের কাছ থেকেই জায়গাটি কিনেছি।” সৈয়দ ফয়সাল বারীর দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা কাজ করতে এলে তারা আমাদের বাধা দেয় এবং একটি দলিল দেখায়। তারা যে দলিলটি দেখাচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া।” এদিকে, জায়গা দখল ও দেয়াল নির্মাণের খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২নং পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নির্মল আকাশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই নির্মল আকাশ বলেন, “জায়গা নিয়ে বিরোধ এবং দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গেই কথা বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন অবনতি না হয় সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে। আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকতে বলেছি। দুই পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”














