ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ৪ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় পথচারী নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক বিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ ৩ জন গ্রেফতার “আবেশ” এর উদ্যোগে দিনব্যাপী “গেট টুগেদার এন্ড পিকনিক ২০২৫অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ছেলের হাতে মা খুন অবৈধভাবে শটগানের কার্তুজসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার তারুণ্যের উৎসবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে পিঠা উৎসব ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোটরসাইকেল সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে এক নারী নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আমিন এসোসিয়েশনের জরুরি সভায় সার্ভেয়ার এমরানকে বয়কটের সিদ্ধান্ত আশুগঞ্জ উপজেলা হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি গঠন সদর হাসপাতালে রোগীদের কম্বল দিলেন ওসি মোজাফ্ফর

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক আছে গাইনী নেই মেশিন আছে সিজার নেই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩ ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

সরাইল উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাহবুব খান বাবুলঃ সরাইল থেকেঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন পূর্বে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। কিন্তু উন্নীত হয়নি সেবার মান। সরকারের দেয়া কোটি টাকার মেশিন ও যন্ত্রপাতি থাকলেও গর্ভবতী মহিলাদের সিজার হচ্ছে না। বর্তমানে এই হাসপাতালে এ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ আছে। নেই গাইনী বিশেষজ্ঞ। রহস্যজনক কারণে এই দুই পদের চিকিৎসক এক সাথে না থাকাটা এখানের দীর্ঘ দিনের রেওয়াজ। তাই অত্যাধুনিক মেশিন থাকলেও বন্ধ সিজার কার্যক্রম। ৮ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে ৬ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ। এক বছরেরও অধিক সময় ধরে চিকিৎসক নেই ৪ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। ৫০ শয্যা হাসপাতালের সেবা বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার বাসিন্দারা।

হাসপাতাল সূত্রে ও অনুসন্ধানে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে ৩০ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে সরাইল হাসপাতালটি। রোগীর বেড, চিকিৎসক, জনবল ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির আশায় বুক বেঁধেছিল স্থানীয়রা। কিন্তু সরাইলবাসীর সেই আশা পূরণ হয়নি আদৌ। এই হাসপাতালে নিয়মিত থাকছে না বরাদ্ধকৃত চিকিৎসক। ২-৪জন চিকিৎসক মাঝে মধ্যে আসলেও আবার দ্রূত বদলি হয়ে চলে যাচ্ছেন। নামে ৫০ শয্যা হাসপাতালে বাস্তবে ৫০টি বেড না থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের স্বল্প খরচে সিজারের মাধ্যমে নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্যই কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক মেশিন দিয়েছেন সরকার। কিন্তু শুরূ থেকেই চিকিৎসকের অভাবে দীর্ঘ দিনের জন্য বন্ধ থাকছে সিজার। অজানা কারণে এই হাসপাতালে এ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ থাকলে থাকেন না গাইনী বিশেষজ্ঞ। আবার গাইনী বিশেষজ্ঞ থাকলে থাকেন না এ্যানেসথেসিয়া। অর্থাৎ উল্লেখিত ওই দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এখানে এক সাথে থাকেন না। আবার গাইনী বিশেষজ্ঞ এখানে যোগদান করে জেলা শহরের প্রাইভেট হাসপাতালে দিনে রাতে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করলেও সরাইল হাসপাতালে আসেন না। এমন ঘটনা ঘটছে গত দুই ২-৩ বছর ধরে। এমন অনিয়মের জন্য কর্তৃপক্ষ তাদেরকে একাধিকবার শোকজ করলেও ক্ষমতার দাপুটে চুল পরিমাণ নড়েনটি ওই চিকিৎসকরা। এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিকে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। তাই লম্বা সময় ঝুলে থাকায় সিজার কক্ষের তালায় ঝং ধরার ঘটনাও ঘটেছে।

সিজার কক্ষে ময়লার স্তুপ, টিকটিকি ও তেলাপোকার মলমূত্র জমে দূর্গন্ধও তৈরী হয়েছে। দীর্ঘ সময় ব্যবহার না হওয়ায় মূল্যবান যন্ত্রপাতি গুলো বিকল হয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। অথচ সরকারি হাসপাতালের আশপাশের প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে নিয়মিত মহিলাদের সিজার হচ্ছে। অপরিপক্ক ধাত্রীরাও চুক্তির মাধ্যমে করছেন সন্তান প্রসবের কাজ। তাদের ভুল চিকিৎসায় শিশু ও মায়ের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ব্যবস্থা নিতে গিয়ে স্থানীয় কতিপয় দালালের দ্বারা বাঁধা গ্রস্থও হয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরাইল হাসপাতালের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বরাদ্ধ রয়েছে ৮ জন। বর্তমানে আছেন মাত্র ২ জন। এরা হলেন-এ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা: শুভজিৎ ঘোষ ও অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা: শ্যামল রঞ্জন দেবনাথ। দীর্ঘ দিন ধরে খালি রয়েছে সার্জারী, চর্ম, চক্ষু, মেডিসিন, ডেন্টাল সার্জন ও গাইনীসহ ৬ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ। গত এক/দেড় বছর ধরে উপজেলার ৪ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রেও যাচ্ছেন না কোন চিকিৎসক। ওই কেন্দ্র গুলোতে দরিদ্র অসহায় লোকজন সকাল ৯টা থেকে চিকিৎসার আশায় ঘুরতে থাকে। অনেক কেন্দ্র সমগ্র দিনই বন্ধ থাকে। মাঝে মধ্যে খুললেও চিকিৎসক থাকে না। ফলে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সেবা নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে গ্রামের লোকজন। ভুক্তভোগি আয়েশা বেগম ও জ্যোস্না বেগম বলেন, আমরা গরীব মানুষ। কম টাকায় সন্তান প্রসবের আশায় হাসপাতালে এসেছি। স্যাররা বলছে ডাক্তার নেই। বাহিরে অনেক টাকা লাগে। সরাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আইয়ুব খান বলেন, এত মূল্যবান যন্ত্রপাতি থাকার পরও চিকিৎসকের সিজার না হওয়ার কথা শুনে আসছি গত ৩-৪ বছর ধরে। এর পেছনে অবশ্যই কোন অশুভ শক্তি কাজ করছেন। গর্ভবতী দরিদ্র অসহায় মহিলাদের সিজার নিশ্চিত করে মা শিশুর জীবন রক্ষা ও অর্থ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।

সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. নোমান মিয়া চিকিৎসকের অভাবে গর্ভবতী মহিলাদের সিজার বন্ধ থাকা ও ৬ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, সমস্যা গুলি সমাধানের জন্য চেষ্টা করছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছি। আশা করছি সমাধান হয়ে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক আছে গাইনী নেই মেশিন আছে সিজার নেই

আপডেট সময় : ০১:০৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ জুলাই ২০২৩

মাহবুব খান বাবুলঃ সরাইল থেকেঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন পূর্বে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। কিন্তু উন্নীত হয়নি সেবার মান। সরকারের দেয়া কোটি টাকার মেশিন ও যন্ত্রপাতি থাকলেও গর্ভবতী মহিলাদের সিজার হচ্ছে না। বর্তমানে এই হাসপাতালে এ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ আছে। নেই গাইনী বিশেষজ্ঞ। রহস্যজনক কারণে এই দুই পদের চিকিৎসক এক সাথে না থাকাটা এখানের দীর্ঘ দিনের রেওয়াজ। তাই অত্যাধুনিক মেশিন থাকলেও বন্ধ সিজার কার্যক্রম। ৮ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে ৬ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ। এক বছরেরও অধিক সময় ধরে চিকিৎসক নেই ৪ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। ৫০ শয্যা হাসপাতালের সেবা বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার বাসিন্দারা।

হাসপাতাল সূত্রে ও অনুসন্ধানে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে ৩০ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে সরাইল হাসপাতালটি। রোগীর বেড, চিকিৎসক, জনবল ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির আশায় বুক বেঁধেছিল স্থানীয়রা। কিন্তু সরাইলবাসীর সেই আশা পূরণ হয়নি আদৌ। এই হাসপাতালে নিয়মিত থাকছে না বরাদ্ধকৃত চিকিৎসক। ২-৪জন চিকিৎসক মাঝে মধ্যে আসলেও আবার দ্রূত বদলি হয়ে চলে যাচ্ছেন। নামে ৫০ শয্যা হাসপাতালে বাস্তবে ৫০টি বেড না থাকার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের স্বল্প খরচে সিজারের মাধ্যমে নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্যই কোটি টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক মেশিন দিয়েছেন সরকার। কিন্তু শুরূ থেকেই চিকিৎসকের অভাবে দীর্ঘ দিনের জন্য বন্ধ থাকছে সিজার। অজানা কারণে এই হাসপাতালে এ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ থাকলে থাকেন না গাইনী বিশেষজ্ঞ। আবার গাইনী বিশেষজ্ঞ থাকলে থাকেন না এ্যানেসথেসিয়া। অর্থাৎ উল্লেখিত ওই দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এখানে এক সাথে থাকেন না। আবার গাইনী বিশেষজ্ঞ এখানে যোগদান করে জেলা শহরের প্রাইভেট হাসপাতালে দিনে রাতে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করলেও সরাইল হাসপাতালে আসেন না। এমন ঘটনা ঘটছে গত দুই ২-৩ বছর ধরে। এমন অনিয়মের জন্য কর্তৃপক্ষ তাদেরকে একাধিকবার শোকজ করলেও ক্ষমতার দাপুটে চুল পরিমাণ নড়েনটি ওই চিকিৎসকরা। এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিকে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। তাই লম্বা সময় ঝুলে থাকায় সিজার কক্ষের তালায় ঝং ধরার ঘটনাও ঘটেছে।

সিজার কক্ষে ময়লার স্তুপ, টিকটিকি ও তেলাপোকার মলমূত্র জমে দূর্গন্ধও তৈরী হয়েছে। দীর্ঘ সময় ব্যবহার না হওয়ায় মূল্যবান যন্ত্রপাতি গুলো বিকল হয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। অথচ সরকারি হাসপাতালের আশপাশের প্রাইভেট হাসপাতাল গুলোতে নিয়মিত মহিলাদের সিজার হচ্ছে। অপরিপক্ক ধাত্রীরাও চুক্তির মাধ্যমে করছেন সন্তান প্রসবের কাজ। তাদের ভুল চিকিৎসায় শিশু ও মায়ের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ব্যবস্থা নিতে গিয়ে স্থানীয় কতিপয় দালালের দ্বারা বাঁধা গ্রস্থও হয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরাইল হাসপাতালের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বরাদ্ধ রয়েছে ৮ জন। বর্তমানে আছেন মাত্র ২ জন। এরা হলেন-এ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা: শুভজিৎ ঘোষ ও অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা: শ্যামল রঞ্জন দেবনাথ। দীর্ঘ দিন ধরে খালি রয়েছে সার্জারী, চর্ম, চক্ষু, মেডিসিন, ডেন্টাল সার্জন ও গাইনীসহ ৬ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ। গত এক/দেড় বছর ধরে উপজেলার ৪ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রেও যাচ্ছেন না কোন চিকিৎসক। ওই কেন্দ্র গুলোতে দরিদ্র অসহায় লোকজন সকাল ৯টা থেকে চিকিৎসার আশায় ঘুরতে থাকে। অনেক কেন্দ্র সমগ্র দিনই বন্ধ থাকে। মাঝে মধ্যে খুললেও চিকিৎসক থাকে না। ফলে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সেবা নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে গ্রামের লোকজন। ভুক্তভোগি আয়েশা বেগম ও জ্যোস্না বেগম বলেন, আমরা গরীব মানুষ। কম টাকায় সন্তান প্রসবের আশায় হাসপাতালে এসেছি। স্যাররা বলছে ডাক্তার নেই। বাহিরে অনেক টাকা লাগে। সরাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আইয়ুব খান বলেন, এত মূল্যবান যন্ত্রপাতি থাকার পরও চিকিৎসকের সিজার না হওয়ার কথা শুনে আসছি গত ৩-৪ বছর ধরে। এর পেছনে অবশ্যই কোন অশুভ শক্তি কাজ করছেন। গর্ভবতী দরিদ্র অসহায় মহিলাদের সিজার নিশ্চিত করে মা শিশুর জীবন রক্ষা ও অর্থ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।

সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. নোমান মিয়া চিকিৎসকের অভাবে গর্ভবতী মহিলাদের সিজার বন্ধ থাকা ও ৬ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, সমস্যা গুলি সমাধানের জন্য চেষ্টা করছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছি। আশা করছি সমাধান হয়ে যাবে।