বিশ্ব নদী দিবসে তরী বাংলাদেশের গণ-গোসল কর্মসূচি অনুষ্ঠিত।
- আপডেট সময় : ১০:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২৫৬ বার পড়া হয়েছে
“নদী বাঁচাতে নদীতে আসুন”-এই স্লোগানকে সামনে রেখে জন সচেতনতা বাড়াতে বিশ্ব নদী দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমী গণ-গোসল কর্মসূচি। আজ শনিবার ২৭ সেপ্টেম্নর ২০২৫ তারিখে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন “তরী বাংলাদেশ” এই কর্মসূচির আয়োজন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের তিতাস নদীর ভাদুঘর বাজার ঘাটে। প্রধান অতিধি হিসেবে এই গণ গোসল কর্মসূচি উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( উন্নয়ন ও মানবসম্পদ), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জনাব রঞ্জন চন্দ্র দে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন ” নদী এখন অতিমাত্রায় দূষিত হচ্ছে আর এই দূষণের দায় ব্যক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেরও আছে। নদী সুরক্ষায় সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। নদী দূষণ ঠেকাতে মানুষকে সচেতন করার জন্য তরী বাংলাদেশ এর এই ব্যক্তিক্রমধর্মী আয়োজন প্রশংসার দাবিদার। তরী বাংলাদেশের প্রতি শুভ কামনা। “
নদী শুধু জলধারা নয়, এটি এক সভ্যতার ভিত্তি। তরী বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা মনে করেন, নদীকে রক্ষা করতে হলে তার সঙ্গে মানুষের বন্ধন পুনঃস্থাপন জরুরি। গণ-গোসল তাই কেবল প্রতীকী নয়, বরং নদীর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা। তরী বাংলাদেশের আহবায়ক শামীম আহমেদ বলেন “তিতাস নদী আমাদের প্রাণ। অথচ দখল-দূষণে তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। বিশ্ব নদী দিবসে আমরা মানুষকে আবার নদীর দিকে ফেরাতে চাই। মানুষ যতো নদী মুখী হবে, নদীতে আসবে নদী ততই প্রাণবন্ত ও দখল – দূষণ মুক্ত থাকবে। জনগণ সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আমরা আশা করবো নদীর অভিভাবক হিসেবে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর গুলো তাদের যথাযথ নজরদারি নদীর উপর রাখবে। তাতে নদীর পানি,সীমানা, নাব্যতা,জীববৈচিত্র্য সব ঠিক থাকবে। আমার ফিরে পাবো আমাদের দেশীয় মাছের আধার। “
তাছাড়া বক্তব্য রাখেন তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক কমিটির সদস্য খালেদা মুন্নী, সোহেল রানা ভূইয়া, সুশান্ত পাল, খাইরুজ্জামান ইমরান, মোস্তফা দেলোয়ার, আব্দুর সাকির ছোটন, জুবাইদুর রহমান মেহেদী,শাকিল আহমেদ প্রমূখ। বক্তারা তাদের বক্তব্যে তুলে ধরেন – তরী বাংলাদেশ এর আয়োজিত এই গণ-গোসলের মাধ্যমে বার্তা দিয়েছে মানুষ যেন নদীকে আবারো তাদের জীবনের অংশ মনে করে। এই কর্মসূচি নদী দূষণ ও দখলের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। নদী সুরক্ষায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ আরো বৃদ্ধি করতে হবে। নদীর পানির গুণগত মান রক্ষার প্রয়োজনীয়তা, সাংস্কৃতিক বন্ধনে নদীর গুরুত্ব পুনঃস্থাপন প্রভৃতি বিষয়েও বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন।
উক্ত আয়োজনে তরী বাংলাদেশ এর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যগণ সহ স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পরিবেশ কর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক এবং নদী তীরবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ সহ শতাধিক মানুষ এই গণ-গোসল কর্মসূচিতে অংশ নেন। তরী বাংলাদেশ এর আহবায়ক কমিটির সদস্য খালেদা মুন্নী বলেন ” নদী সুরক্ষায় তরী বাংলাদেশ দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎতেও এমন কর্মসূচি অব্যহত থাকবে। ” সবার আন্তরিক সহযোগিতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি”।














