ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘সেরা পূজা মণ্ডপ’ শারদ সম্মাননা পেল দক্ষিণ কালীবাড়ি সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০ লক্ষ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লায়ন্স ক্লাবের ফ্রি ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার ক্যাম্প অনুষ্ঠিত। আখাউড়ায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে শাহীন নামের পথচারীর আত্মহত্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্ত্র-গুলি-ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪, কারাগারে ২১; আটক ৯ কিশোর ৬০ বিজিবির অভিযানে ২৫ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় পণ্য ও বিয়ার জব্দ ভাষা সৈনিক অলি আহাদ’র ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল বিজয়নগরে জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম কিস্তির চেক হস্তান্তর। বাবার বিরুদ্ধে মামলা ষড়যন্ত্রমূলক: ফেসবুকে মেয়ের প্রতিবাদ, উল্টো হুমকির অভিযোগ মূলগ্রাম কলেজে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ

কসবায় নির্যাতনে গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অক্টোবর ২০২২ ৪০৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় স্বামীর মানসিক নির্যাতনে কেড়ির বড়ি খেয়ে রেশমা আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার (০৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের সোনারগাঁও গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রেশমা আক্তার ওই এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে খায়রুল ইসলামের স্ত্রী। বেলা ১১টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন। রেশমা আক্তারের মামা আনোয়ার হোসেন ও ফুফা আব্দুল আলীম অভিযোগ করে জানান, কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের চৌবেপুর গ্রামের শুটকি ব্যবসায়ী আলমগীর মিয়ার একমাত্র মেয়ে রেশমা আক্তার। প্রায় ২ বছর আগে পারিবারিক ভাবে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে রেশমাকে বিয়ে দেওয়া হয় খায়রুল ইসলামের কাছে। খায়রুল গাজীপুরে একটি প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। বিয়ের পর পরই খায়রুল এড়িয়ে চলতো রেশমাকে। তার পরিবারের কয়েকজন জানিয়েছিল, খায়রুলের মতের বাইরে রেশমাকে বিয়ে করিয়েছিল পরিবার। তাই সে রেশমাকে মেনে নিতে পারেননি। সে বাড়িতে না এসে অধিকাংশ সময় গাজীপুরে থাকতেন। রেশমার সাথে খারাপ আচরণ করতেন। তাদের সম্পর্ক ভাল করতে খায়রুলের গাজীপুরের বাসায় রেশমাকে পরিবারের লোকজন পাঠিয়ে দিলেও সে কোন প্রকার পাত্তা দিতেন না। বরং বাসায় রেশমাকে একা ফেলে সে রাতে ফেরেনি। পরিবারে এনিয়ে দুই পরিবারের মাঝে মনোমালিন্য চলে আসছিল। এসব বিষয় নিয়ে মেহারী ও খাড়েরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে শালিশ সভা করে দুজনকে মিলিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই সম্পর্ক বেশিদিন ভাল যায়নি। গত বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) ছুটিতে বাড়িতে আসে খায়রুল। এরপর রেশমাকে মানসিক নির্যাতন করে যাচ্ছিল খায়রুল। এরই জেরে রোববার ভোরে ঘরে থাকা কেড়ির বড়ি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে রেশমা। এই অবস্থায় তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন কেউ রেশমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি, হাসপাতালে পাঠায় এলাকার কিশোরদের দিয়ে। পরে রেশমা মারা গেলে খায়রুল সহ তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কসবায় নির্যাতনে গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অক্টোবর ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় স্বামীর মানসিক নির্যাতনে কেড়ির বড়ি খেয়ে রেশমা আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার (০৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের সোনারগাঁও গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রেশমা আক্তার ওই এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে খায়রুল ইসলামের স্ত্রী। বেলা ১১টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন। রেশমা আক্তারের মামা আনোয়ার হোসেন ও ফুফা আব্দুল আলীম অভিযোগ করে জানান, কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের চৌবেপুর গ্রামের শুটকি ব্যবসায়ী আলমগীর মিয়ার একমাত্র মেয়ে রেশমা আক্তার। প্রায় ২ বছর আগে পারিবারিক ভাবে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে রেশমাকে বিয়ে দেওয়া হয় খায়রুল ইসলামের কাছে। খায়রুল গাজীপুরে একটি প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। বিয়ের পর পরই খায়রুল এড়িয়ে চলতো রেশমাকে। তার পরিবারের কয়েকজন জানিয়েছিল, খায়রুলের মতের বাইরে রেশমাকে বিয়ে করিয়েছিল পরিবার। তাই সে রেশমাকে মেনে নিতে পারেননি। সে বাড়িতে না এসে অধিকাংশ সময় গাজীপুরে থাকতেন। রেশমার সাথে খারাপ আচরণ করতেন। তাদের সম্পর্ক ভাল করতে খায়রুলের গাজীপুরের বাসায় রেশমাকে পরিবারের লোকজন পাঠিয়ে দিলেও সে কোন প্রকার পাত্তা দিতেন না। বরং বাসায় রেশমাকে একা ফেলে সে রাতে ফেরেনি। পরিবারে এনিয়ে দুই পরিবারের মাঝে মনোমালিন্য চলে আসছিল। এসব বিষয় নিয়ে মেহারী ও খাড়েরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে শালিশ সভা করে দুজনকে মিলিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই সম্পর্ক বেশিদিন ভাল যায়নি। গত বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) ছুটিতে বাড়িতে আসে খায়রুল। এরপর রেশমাকে মানসিক নির্যাতন করে যাচ্ছিল খায়রুল। এরই জেরে রোববার ভোরে ঘরে থাকা কেড়ির বড়ি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে রেশমা। এই অবস্থায় তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন কেউ রেশমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি, হাসপাতালে পাঠায় এলাকার কিশোরদের দিয়ে। পরে রেশমা মারা গেলে খায়রুল সহ তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।