চুরির দায়ে সুলতানপুরের বোরহান উদ্দিন গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ
- আপডেট সময় : ১১:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ব্যবসায়ীর ফাঁকা বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি এবং চুরি যাওয়া ব্ল্যাংক চেক দিয়ে উল্টো ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেই মামলা দায়েরের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল হোতা বোরহান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চুরির দায় প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে শুক্রবার (২৪ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত বোরহান উদ্দিন জেলার সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত বছর ঈদের ছুটিতে (৩০ মার্চ বিকেলে) শহরের হালদার পাড়া এলাকার এল রহমান টাওয়ারের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা তালাবদ্ধ করে পরিবার নিয়ে উজানিসারে গ্রামের বাড়িতে যান ব্যবসায়ী মো. মাহদী হাসান। ছুটি শেষে ৩ এপ্রিল দুপুরে বাসায় ফিরে তিনি দেখতে পান, জানালার গ্রিল কাটা এবং ভেতরের আলমারি ও ওয়ারড্রোব ভাঙা।
বাসা থেকে দুর্বৃত্তরা নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, সাড়ে ৩ ভরি স্বর্ণালংকার (আনুমানিক মূল্য ৭ লাখ টাকা), এইচপি ও এসার ব্র্যান্ডের ২টি ল্যাপটপ, স্যামসাং ব্র্যান্ডের ২টি স্মার্টফোন, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের একটি স্বাক্ষর করা ব্ল্যাংক চেক এবং বিভিন্ন মূল্যবান কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী মাহদী হাসান সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা চোরদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যা সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।
তবে ঘটনার কয়েক মাস পর আসে নতুন মোড়। চুরি যাওয়া সেই ব্ল্যাংক চেকটি ব্যবহার করে উল্টো মাহদী হাসানের বিরুদ্ধেই চেক জালিয়াতির মামলা ঠুকে দেন নয়নমনি আক্তার নামের এক নারী। চেকের পাতায় নয়নমনি নিজের নাম, ১৮ সেপ্টেম্বর তারিখ এবং নির্দিষ্ট অংকের টাকা বসিয়ে আদালতে এই মামলাটি করেন।
বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ নিবিড় তদন্ত শুরু করে এবং বেরিয়ে আসে ঘটনার আসল রহস্য। পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়, নয়নমনি আক্তারের সাথে ব্যবসায়ী মাহদী হাসানের কোনো পূর্বপরিচয় বা ব্যবসায়িক লেনদেন কখনোই ছিল না। মূলত গ্রেপ্তারকৃত বোরহান উদ্দিন (নয়নমনির মামা) এবং হারুন মিয়ার (নয়নমনির বাবা) যোগসাজশেই চুরির এই পুরো ছক কষা হয়।
তদন্তে আরও নিশ্চিত হওয়া যায়, গত ৩০ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে এই চক্রটিই মাহদী হাসানের বাসার জানালার গ্রিল কেটে চুরি সংঘটিত করে। পরবর্তীতে চুরির ঘটনা আড়াল করতে এবং ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে চুরি যাওয়া ব্ল্যাংক চেকটি ব্যবহার করে উল্টো মিথ্যা মামলা দায়ের করে নয়নমনি।
সার্বিক তদন্ত শেষে পুলিশ নয়নমনি আক্তার, বোরহান উদ্দিন এবং হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩৮০, ৪৫৪, ৪৫৭ ও ১০৯ ধারায় চুরির অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করে। এরই প্রেক্ষিতে চুরির দায় প্রমাণিত হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাতে সদর মডেল থানা পুলিশ মূল পরিকল্পনাকারী বোরহান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠায়।
চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।














