মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়ন প্রকল্প”-এর ফেইজ আউট পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০৭:৫২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ৩২৬ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ)-এর সহযোগিতায় এসোসিয়েশেন ফর সোশ্যাল সার্ভিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এসসাড) এসসাড এর পরিচালনায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়ন প্রকল্প”-এর ফেইজ আউট পরিকল্পনা সভা-২০২৫, ২৩ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় । মো. আবুল বসার মোল্লা সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার , আশুগঞ্জ। বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব, পাপিয়া আক্তার , উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার, ব্রাহ্মণবিাড়িয়া সদর । এসোসিয়েশন খফর সোশ্যাল সার্ভিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এসসাড) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ পারভেজ এর স্বাগত বক্ত্বব্য এর পর বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষকগণ ফেইজআউপ পরবর্তী কিভাবে বিজ্ঞান শিক্ষার জনপ্রিয়করণ কার্য়ক্রম নিজ নিজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরিচালনা করবেন , তার দিক নির্দেশনা ও গঠণমূলক বক্তব্য রাখেন। সভাটি পরিচালনা করেন , এসসাড এর সহকারী সমন্বয়কারী মোঃ এমদাদুল হক সরকার।
এই প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১২টি এবং আশুগঞ্জ উপজেলার ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান শিক্ষার জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে ২৯১৮ খ্রি. বিজ্ঞান ক্লাব গঠন করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
প্রধান অতিথি জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, “এসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল সার্ভিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এসসাড) ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই বিজ্ঞান শিক্ষার জনপ্রিয় করার কার্যক্রম জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। গ্রামীণ পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষাকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে এই কার্যক্রম একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেকচিত হবে। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান মেলা ও কুইজ প্রতিযোগিতা , বিজ্ঞান বিষয়ক বির্তক প্রতিযোগিতা , দেয়ালিকা প্রতিযোগিতা , অভিভাবক সভার আয়োজন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণার আগ্রহ সৃষ্টি করার মাধ্যমে এসোসেয়েশন ফর সোশ্যাল সার্ভিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট ( এসসাড) এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে সরকার এই ধরনের উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেবে বলে আমি আশাবাদী।”তিনি আরও বলেন,“বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্মই পারে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে। তাই বিজ্ঞান শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজন। এসসাড যে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এই কাজটি করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
বিশেষ অতিথি বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব বলেন,“শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতা নয়—তার বাস্তব প্রয়োগই প্রকৃত শিক্ষা। এসসাড যে নিরলসভাবে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, তা জেলার উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একটি শিশুর হাতে যখন বিজ্ঞান কিট বা মডেল থাকে, তখন তার চিন্তা বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়, কল্পনা পায় বাস্তবের রূপ। এই পরিবর্তনটাই আমাদের সমাজকে আলোকিত করবে।”তিনি আরও যোগ করেন,“প্রেস ক্লাব সবসময় এমন ইতিবাচক উদ্যোগের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা চাই, এসসাডের এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকুক এবং অন্যান্য বেসরকারি সংগঠনও এর আদর্শ অনুসরণ করুক।”
সভাপতির বক্তব্যে মো. আবুল বসার মোল্লা বলেন, “ছয় বছরের এই প্রকল্পের সাফল্য প্রমাণ করেছে—যদি আন্তরিকতা ও পরিকল্পনা থাকে, তাহলে সীমিত সম্পদ দিয়েও শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব। শিক্ষকদের হাতে প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীদের হাতে বাস্তব জ্ঞান ও বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন—সবমিলিয়ে এসসাড সত্যিই এক গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছে।”তিনি সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,“এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রতিটি বিদ্যালয় বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়।”সভায় উপস্থিত ছিলেন সদর ও আশুগঞ্জ উপজেলার ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগন।














