ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভূমি সেবার মানোন্নয়নে এসিজি ও ভূমি কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় সভা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ও পরিবেশ সেবার মানোন্নয়নে জেলা পরিষদ ও সনাকের মতবিনিময় সভা সাংবাদিক ফরহাদুল ইসলাম পারভেজ এর চাচা ব্যাংকার লিয়াকত আলীর ইন্তেকাল জানাযা ও দাফন সম্পন্ন স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে বাড়ির আঙ্গিনাসহ চারপাশ নিজ দায়িত্বে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে জেলা পরিষদ প্রশাসকের উদ্যোগে চাকরি ফিরে পেলেন প্রতিবন্ধী পাপন কনিকাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ প্রশাসককে নোঙর বাংলাদেশের ফুলেল শুভেচ্ছা তরী বাংলাদেশের সবুজ অভিযাত্রা: শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ নোঙর বাংলাদেশের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান এমপি শ্যামলের চেক জালিয়াতি মামলায় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

ঘাটলা তুমি কার?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ এপ্রিল ২০২২ ৭৬০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দূর থেকে মনে হয় কি যেন একটা দাঁড়িয়ে আছে। কাছে গেলেও প্রথমে বুঝা কঠিন। কারণ মাটি থেকে এটির উচ্চতা প্রায় ৮-১০ ফুট। চারটি সিমেন্টের তৈরী পিলারের উপরে একটি চৌকি। চৌকি থেকে বেশ কয়েকটি সিঁড়ি নীচের দিকে গিয়ে সবুজ ঘাস ও ঝোঁপঝাঁড়ে মিলিত হয়েছে। একপাশে গ্রামীণ সড়ক। আর তিন পাশে ফসলি জমি। এটির সামনে ছোট একটি পরিত্যাক্ত ডোবা। পানি নেই। চৌকির এক পাশে একটি ফলক সাটানো। ফলকটিতে বাংলায় লেখা- ‘রাণীদিয়া লাতাইরা পুকুরে দক্ষিণপাড়ে গণগাটলা নির্মাণ। বাস্তবায়নে-উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিল। অর্থ বছর-২০১৬-২০১৭ ইং।’ বানান ভুল থাকলেও ফলকটি পড়ে বুঝা গেল এটি একটি ঘাটলা। মজার বিষয় হচ্ছে ফলকে বরাদ্ধকৃত অর্থের পরিমাণ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও প্রকল্পের সভাপতির নাম নেই। এটি সরাইল উপজেলার অরূয়াইল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড রাণীদিয়া গ্রামে নির্মিত। নির্মাণের ৪ বছরের মধ্যে মানুষের কোন উপকারে আসেনি এটি। ব্যবহারই বা করবে কি করে? এই ঘাটলার চৌকিতে যেতে বাঁশের সিঁড়ি লাগবে। স্থানীয়রা জানায়, এটি নির্মাণে লাভ হয়েছে প্রকল্পের সভাপতির। ঠিকাদার ও মালামাল বিক্রেতার। আর এখন বর্ষা মৌসুমে জেলেদের। সরকারি তহবিলের অর্থ এভাবেই লুটপাট হয়। কে ছিলেন সভাপতি? বলতেও নারাজ স্থানীয় লোকজন। আর তখনই প্রশ্ন করতে হল। ঘাটলা তুমি কার? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক জনপ্রতিনিধি বলেন, ফসলি মাঠে ঘাটলা দিয়ে কি লাভ? টাকা আত্মসাৎ করতে প্রকল্প এনেছেন। বাস্তবায়নের জায়গা নেই। পুকুর না থাকলেও জায়গাটি খালি ছিল। তাই কোন রকমে লেপপোজ করে বিল উত্তোলন করে নিলেন। যারা বিল ছাড় করেছেন তারাই বা কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছেন? আসলে তো সরিষার মধ্যেই ভূত। ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. রইছ মিয়া বলেন, ওই পুকুরে তো এখন ধান চাষ হয়। ঘাটলা থেকে সেটি ১০ ফুট দূরে। মাটি থেকে ঘাটলার চৌকির উচ্চতা কমপক্ষে ৯ ফুট। ঘাটলাটি ব্যবহার হয় না।

মাহবুব খান বাবুল

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঘাটলা তুমি কার?

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ এপ্রিল ২০২২

দূর থেকে মনে হয় কি যেন একটা দাঁড়িয়ে আছে। কাছে গেলেও প্রথমে বুঝা কঠিন। কারণ মাটি থেকে এটির উচ্চতা প্রায় ৮-১০ ফুট। চারটি সিমেন্টের তৈরী পিলারের উপরে একটি চৌকি। চৌকি থেকে বেশ কয়েকটি সিঁড়ি নীচের দিকে গিয়ে সবুজ ঘাস ও ঝোঁপঝাঁড়ে মিলিত হয়েছে। একপাশে গ্রামীণ সড়ক। আর তিন পাশে ফসলি জমি। এটির সামনে ছোট একটি পরিত্যাক্ত ডোবা। পানি নেই। চৌকির এক পাশে একটি ফলক সাটানো। ফলকটিতে বাংলায় লেখা- ‘রাণীদিয়া লাতাইরা পুকুরে দক্ষিণপাড়ে গণগাটলা নির্মাণ। বাস্তবায়নে-উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিল। অর্থ বছর-২০১৬-২০১৭ ইং।’ বানান ভুল থাকলেও ফলকটি পড়ে বুঝা গেল এটি একটি ঘাটলা। মজার বিষয় হচ্ছে ফলকে বরাদ্ধকৃত অর্থের পরিমাণ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও প্রকল্পের সভাপতির নাম নেই। এটি সরাইল উপজেলার অরূয়াইল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড রাণীদিয়া গ্রামে নির্মিত। নির্মাণের ৪ বছরের মধ্যে মানুষের কোন উপকারে আসেনি এটি। ব্যবহারই বা করবে কি করে? এই ঘাটলার চৌকিতে যেতে বাঁশের সিঁড়ি লাগবে। স্থানীয়রা জানায়, এটি নির্মাণে লাভ হয়েছে প্রকল্পের সভাপতির। ঠিকাদার ও মালামাল বিক্রেতার। আর এখন বর্ষা মৌসুমে জেলেদের। সরকারি তহবিলের অর্থ এভাবেই লুটপাট হয়। কে ছিলেন সভাপতি? বলতেও নারাজ স্থানীয় লোকজন। আর তখনই প্রশ্ন করতে হল। ঘাটলা তুমি কার? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক জনপ্রতিনিধি বলেন, ফসলি মাঠে ঘাটলা দিয়ে কি লাভ? টাকা আত্মসাৎ করতে প্রকল্প এনেছেন। বাস্তবায়নের জায়গা নেই। পুকুর না থাকলেও জায়গাটি খালি ছিল। তাই কোন রকমে লেপপোজ করে বিল উত্তোলন করে নিলেন। যারা বিল ছাড় করেছেন তারাই বা কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছেন? আসলে তো সরিষার মধ্যেই ভূত। ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. রইছ মিয়া বলেন, ওই পুকুরে তো এখন ধান চাষ হয়। ঘাটলা থেকে সেটি ১০ ফুট দূরে। মাটি থেকে ঘাটলার চৌকির উচ্চতা কমপক্ষে ৯ ফুট। ঘাটলাটি ব্যবহার হয় না।

মাহবুব খান বাবুল