জায়গাটি রেলওয়ে অধিদপ্তরের কিন্তু তাতে নজর ছিল অনেকের। চলছিল অবৈধ দখলের চিন্তাভাবনা। কেউ সিএনজি স্টেশন করবে, আবার কারোও দোকান বানানোর মতলব। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জায়গাটির বন্দোবস্ত দেয়ায় মাঠে মারা গেছে তাদের সবার সকল স্বপ্ন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে রেলওয়ের ওই জায়গা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বন্দোবস্ত এনে বিপদে পড়েছেন জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আনারকলি। তাকে এখন বিভিন্ন চক্রের দালাল বা লোক নানাভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। আশুগঞ্জ-আড়াইসিধা সড়কের পাশে সোনারামপুরে ১১৮৮ বর্গফুট রেলভূমি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বন্দোবস্ত আনেন রেলওয়ের ওই জায়গার পার্শ্ববর্তী ফকিরবাড়ির বাসিন্দা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আনারকলি।
রেলওয়ের বাণিজ্যিক বন্দোবস্তের ওই জায়গায় তিনি ঘর নির্মাণ কাজ শুরুর পর একের পর এক বাধা আসতে শুরু করে। দাবি করা হয় মোটা অংকের টাকার চাঁদা। শুধু তাই নয়, স্থানীয় এসিল্যান্ড রেলওয়ের ওই সম্পত্তিতে গিয়ে বাগড়া দেন।মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীকে চড় দেবেন বলেও এগিয়ে যান তিনি। এ ঘটনায় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন আঁচ করতে পেরে। নিজের অপরাধ ঢাকতে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এবার অন্য কৌশলে এগিয়ে আসে জায়গা লোভী ও চাঁদাবাজ চক্র। চিহ্নিত এই অপরাধীদের চেহারা দেখা গেছে টিভি স্বাক্ষাৎকারে। এনিয়েই এখন আলোচনা আশুগঞ্জে। জায়গাটিতে দোকানঘর করার কাজ শুরুর পর গত ৩০শে এপ্রিল আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের এসিল্যান্ড আশরাফুল হক সেখানে যান। তিনি জায়গাটি খাস বলে কাজ বন্ধ করতে বলেন। এ সময় মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর সঙ্গে জায়গার মালিকানা নিয়ে তার বাকবিতণ্ডা হয়। ওইদিনের ঘটনার বিষয়ে তিনি থানায় একটি জিডি করেন। যাতে ঘটনাস্থলে খারাপ আচরণসহ গালমন্দ করার অভিযোগ আনা হয় আনারকলির বিরুদ্ধে। তবে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেন, জায়গাটি রেলওয়ের এবং আমি এর লাইসেন্স হোল্ডার এটি এসিল্যান্ডকে অবহিত করি। কিন্তু তিনি আমার কাগজ ভুঁয়া বলে এক পর্যায়ে আমাকে চড় দেয়ার কথা বলেন। তখন আমি তার কাছে জানতে চাই তিনি আমাকে চড় মারতে পারেন কেন। ওইদিন ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা এসে উপজেলায় গেলে ইউএনও আমার বিরুদ্ধে করা জিডির কপি তাদের সরবরাহ করেন। তখনই আমি জিডির বিষয়টি জানতে পারি। আশুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আজাদ রহমানও ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন। তিনি জানান- এসিল্যাল্ড বলছিলেন জায়গাটি খাসের। আর আনারকলি বলছিলেন এটি রেলওয়ের। এ নিয়ে তাদের দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ওই ঘটনার পর ইউএনও অরবিন্দু বিশ্বাসকে ফোন করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসিল্যান্ড তার পারমিশন ছাড়াই সেখানে গেছেন বলে জানান তিনি। এদিকে চাঁদা না পেয়ে গত কয়েকদিন আগে সাদেকুল ইসলাম সাচ্চু নামে নামধারী এক সাংবাদিক মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে তার ফেসবুকে একাধিক আপত্তিকর পোস্ট দেয়। তার বিরুদ্ধে সেখানে ঘর নির্মাণে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে। সাচ্চুকে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সেল্টার হিসেবেই চেনে আশুগঞ্জের মানুষ। বিনিময়ে মাদক স্পট থেকে টাকা নেয় সে। বর্তমানে কোনো টিভিতে জড়িত না থাকলেও সে টিভি জার্নালিষ্টএসোসিয়েশন বানিয়ে এর সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত বলে জানান স্থানীয় সাংবাদিকরা। চরচারতলার শরীফ সরকার হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি সাচ্চু। আশুগঞ্জ থানার অন্যতম দালাল হিসেবেও পরিচয় রয়েছে তার। নারীঘটিত অনেক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। জেলা শহরের দক্ষিণ মোড়াইলের এক বিধবা নারী ও তার মেয়ের সঙ্গে সাচ্চুর অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি আলোচিত। রুমেল নামে মোড়াইল এলাকার এক বাসিন্দা জানান, সে এই ঘটনায় ধরা পড়েছিল। এ নিয়ে অনেক দেনদরবারও হয়। নানা অপরাধে জড়িত সাংবাদিক নামধারী এই সাচ্চু গত ১৯শে মে তার দলবল নিয়ে ওই জায়গায় মহড়া দেন। এ সময় তারা সেখানে একটি টিভিতে স্বাক্ষাৎকার দেয়। টিভিতে যে ৩ জনের স্বাক্ষাৎকার প্রচার হয় তারা সবাই কথিত সাংবাদিক সাচ্চুর সহযোগী এবং এলাকার চিহ্নিত অপরাধী বলে জানান স্থানীয় লোকজন। তাদের একজন নূরুল্লাহ সরকার। তার বিরুদ্ধে ৮/১০টি মামলা রয়েছে। সে আশুগঞ্জের সবচেয়ে বড় ইয়াবা ডিলার। আরেকজন সালমান মাদকসেবী এবং সাচ্চুর অফিস সহকারী। তাকে দিয়ে বিভিন্ন মাদকস্পট থেকে টাকা তোলা হয়। সিএনজি থেকে চাঁদা উত্তোলনকারী মাহবুবও তার শেখানো স্বাক্ষাৎকার দেয় টিভিতে। এছাড়াও স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী নজরুল সেখানে তাদের সঙ্গে ছিলেন। আনারকলি জানান, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তার পরিবারে ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। তার দাদা একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে ৩ সন্তান নিয়ে জীবন-জীবিকা করে বেঁচে থাকতে বাড়ির সীমানাবর্তী রেলওয়ের ওই জায়গা বন্দোবস্ত আনেন তিনি। বন্দোবস্তের কাগজ তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান এবং প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দকে দেখিয়েছেন। এরপর গত ২৫শে এপ্রিল থেকে ওই জায়গায় কাজ শুরুর পরই তাকে একের পর এক নানা অজুহাতে বাধা দেয়া হতে থাকে।

এনই আকন্ঞ্জি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here