বয়স জালিয়াতি: বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডের সাবেক দুই শীর্ষ কর্মকর্তা কারাগারে
- আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৯৪ বার পড়া হয়েছে
বয়স জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির মামলায় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) সাবেক দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শারমিন জাহান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন বিজিএফসিএলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক নুরুল আবছার এবং সাবেক জিএম (প্রশাসন) মো. নাসিবুজ্জামান তালুকদার। এই মামলার প্রধান আসামি ও মূল অভিযুক্ত সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এটিএম শাহ আলম বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি এটিএম শাহ আলম চাকরি করাকালীন তার শিক্ষাগত সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম সাল ১৯৬১-এর পরিবর্তে ১৯৬২ সাল দেখিয়ে বয়স জালিয়াতি করেন। এই জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর তার অবসরের (পিআরএল) নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও অতিরিক্ত আরও এক বছর দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি বিজিএফসিএল থেকে অনৈতিকভাবে বেতন-ভাতা হিসেবে ৭৪ লাখ ৪ হাজার টাকার বেশি উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
এটিএম শাহ আলমের এই প্রতারণার বিষয়টি সামনে এলে বিজিএফসিএল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে সনদ জালিয়াতির প্রমাণ মেলার পর কোম্পানির ৭১৭তম বোর্ড সভায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একইসঙ্গে, এই প্রতারণায় সহযোগিতার অভিযোগে তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক নুরুল আবছার এবং জিএম (প্রশাসন) মো. নাসিবুজ্জামান তালুকদারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে, বিজিএফসিএলের তৎকালীন উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাসার মিজি বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করেন। তবে মামলা দায়েরের পরপরই প্রধান আসামি এটিএম শাহ আলম দেশ ত্যাগ করেন বলে জানা যায়। অপর দুই আসামি নুরুল আবছার ও মো. নাসিবুজ্জামান তালুকদার উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন। সোমবার তারা নিম্ন আদালতে হাজির হলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহবুবুর রহমান জানান, “আদালত শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য অপরাধের ধারা থাকায় তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”

























