ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দত্তক ছেলের অজুহাতে স্ত্রীর বড় বোনের সম্পত্তি গ্রাসের পাঁয়তারা সরাইল বিএনপি সভাপতির! সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ২৭ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক জব্দ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা উন্নয়ন পরিষদের ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপণ সরাইলে নজরুল বর্ষ উদযাপন,পুরস্কার বিতরণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যক্রম শুরু সীমান্তে ৬০ বিজিবির অভিযান: ৪০ লক্ষাধিক টাকার চোরাচালান পণ্য ও মাদক জব্দ ভাতুরিয়া টু টিয়ারা রাস্তার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন মাদকসেবী নয়, মাদক সম্রাট ও মাফিয়াদের ধরতে কাজ করছি’: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবাগত এসপি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশ্ব খাদ্য দিবস ও আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস ২০২৬ পালিত।

দত্তক ছেলের অজুহাতে স্ত্রীর বড় বোনের সম্পত্তি গ্রাসের পাঁয়তারা সরাইল বিএনপি সভাপতির!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

দত্তক ছেলের অজুহাতে স্ত্রীর বড় বোনের সম্পত্তি গ্রাসের পাঁয়তারা সরাইল বিএনপি সভাপতির!

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি দোকান ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসী এবং সরাইল থানা বিএনপির সভাপতির পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, সরাইল থানা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর নিজের ছেলেকে দত্তক দেওয়ার অজুহাতে তাঁর স্ত্রীর আপন বড় বোনের কোটি টাকার সম্পত্তি গ্রাস করার পাঁয়তারা করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি প্রবাসীর বৈধ সম্পত্তিতেও ভাগ বসাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রবাসী মো. সাইফুল ইসলাম নিজের কেনা সম্পত্তি দখল ও রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার হুমকির অভিযোগ এনে সরাইল থানা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর ও তাঁর ছেলে নাজমুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁর ছেলেও ওই বৃদ্ধা শ্যালিকার পালিত সন্তান। তাই বৃদ্ধা নিজেই তাঁর ছেলেকে দুটি দোকান উপহার দিয়েছেন। উল্টো তিনি ওই প্রবাসীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। প্রবাসীর অভিযোগ— রাজনৈতিক প্রভাবে দোকান দখলের চেষ্টা: পুলিশ সুপার বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে প্রবাসী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মৃত সিরাজুল ইসলাম তাঁর বাবা এবং তিনি সরাইল সদরের বাসিন্দা। ২০০৫ সালের ২৮ জুন সাফ কবলা দলিল মূলে তিনি সরাইল মৌজার বিএস ১৪১৭৩ দাগের ১ শতক জায়গার মালিক হন। সেখানে নির্মাণত দোকান তিনি তা ভাড়া দিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। অভিযোগে তিনি বলেন, “বিবাদীরা লাঠিয়াল ও ভূমিদস্যু প্রকৃতির। তারা রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শন করে আমার এই দোকান জোরপূর্বক দখল করার পাঁয়তারা করছে এবং আমার ভাড়াটিয়াকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান তালাবদ্ধ করার চেষ্টা করছে। গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় তারা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে দোকানের শাটার তালাবদ্ধ করার অপচেষ্টাও করেছে।” সাইফুল আরও অভিযোগ করেন, তিনি প্রবাসে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বিবাদীরা তাঁকে রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে, যার কারণে তিনি শান্তিতে চলাফেরা করতে পারছেন না। তিনি তাঁর স্বত্ব দখল বজায় রাখতে পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে সরাইল থানা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রবাসীর আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মৃত সিরাজুল ইসলাম (সরাইলের একজন স্বনামধন্য প্রধান শিক্ষক) নিঃসন্তান ছিলেন। মো. সাইফুল ইসলাম তাঁর পালিত ছেলে। সিরাজুল ইসলাম তাঁর প্রায় সকল সম্পত্তি এই পালিত ছেলেকে সাফ কবলা করে দিয়েছেন । নিজের ছেলেকে ওই পরিবারের দত্তক দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেন, “সিরাজ স্যারের স্ত্রী আমার স্ত্রীর আপন বড় বোন। বর্তমানে তিনি জীবিত আছেন। আমার এক বড় ছেলেকেও তিনি ছোটবেলা থেকে লালন-পালন করেছেন এবং আমার ছেলেই এখন বয়স্ক ওই পালক মায়ের দেখাশোনা করে। তাই বয়স্ক বৃদ্ধা নিজেই আমার ছেলেকে দুটি দোকান দিয়েছেন। এ সময় তিনি প্রবাসী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জালিয়াতির পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, “পালক পুত্রকে যেহেতু সরাসরি দান করার বিধান নেই, তাই সিরাজ স্যার ও তাঁর স্ত্রী মিলে সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে সাইফুল ইসলামকে জায়গা রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু সে জালিয়াতি করে দলিলের চেয়ে অতিরিক্ত জায়গা নিজ নামে খারিজ করেছে।” তিনি দাবি করেন, একটি দোকানের জায়গা দলিলের মূলে ২.৪২৫ শতক হলেও সে জালিয়াতি করে ২.৭৮ শতক জায়গা খারিজ করেছে। একইভাবে পৈতৃক সম্পত্তির ৭ শতকের জায়গায় ৮ শতক খারিজ করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং এটি তদন্তাধীন রয়েছে। জায়গা বেশি খারিজ করার অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার খারিজের সকল জায়গা তারা একসাথে দেখাচ্ছে। মূলত ১ শতক জায়গাটি আমার অন্য স্থানের। তারা ইচ্ছা করে সেটার সাথে আমার বাড়ি ও দোকানের জায়গার প্যাঁচ লাগিয়ে একটি কৃত্রিম ঝামেলা ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে, যাতে তারা আমার সম্পত্তি গ্রাস করতে পারে।” এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম জানান, “লিখিত অভিযোগটি পুলিশ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দত্তক ছেলের অজুহাতে স্ত্রীর বড় বোনের সম্পত্তি গ্রাসের পাঁয়তারা সরাইল বিএনপি সভাপতির!

আপডেট সময় : ০৯:২৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে একটি দোকান ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসী এবং সরাইল থানা বিএনপির সভাপতির পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, সরাইল থানা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর নিজের ছেলেকে দত্তক দেওয়ার অজুহাতে তাঁর স্ত্রীর আপন বড় বোনের কোটি টাকার সম্পত্তি গ্রাস করার পাঁয়তারা করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি প্রবাসীর বৈধ সম্পত্তিতেও ভাগ বসাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রবাসী মো. সাইফুল ইসলাম নিজের কেনা সম্পত্তি দখল ও রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার হুমকির অভিযোগ এনে সরাইল থানা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর ও তাঁর ছেলে নাজমুল ইসলাম রনির বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাঁর ছেলেও ওই বৃদ্ধা শ্যালিকার পালিত সন্তান। তাই বৃদ্ধা নিজেই তাঁর ছেলেকে দুটি দোকান উপহার দিয়েছেন। উল্টো তিনি ওই প্রবাসীর বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। প্রবাসীর অভিযোগ— রাজনৈতিক প্রভাবে দোকান দখলের চেষ্টা: পুলিশ সুপার বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে প্রবাসী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মৃত সিরাজুল ইসলাম তাঁর বাবা এবং তিনি সরাইল সদরের বাসিন্দা। ২০০৫ সালের ২৮ জুন সাফ কবলা দলিল মূলে তিনি সরাইল মৌজার বিএস ১৪১৭৩ দাগের ১ শতক জায়গার মালিক হন। সেখানে নির্মাণত দোকান তিনি তা ভাড়া দিয়ে ভোগদখল করে আসছেন। অভিযোগে তিনি বলেন, “বিবাদীরা লাঠিয়াল ও ভূমিদস্যু প্রকৃতির। তারা রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রদর্শন করে আমার এই দোকান জোরপূর্বক দখল করার পাঁয়তারা করছে এবং আমার ভাড়াটিয়াকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান তালাবদ্ধ করার চেষ্টা করছে। গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় তারা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে দোকানের শাটার তালাবদ্ধ করার অপচেষ্টাও করেছে।” সাইফুল আরও অভিযোগ করেন, তিনি প্রবাসে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বিবাদীরা তাঁকে রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে, যার কারণে তিনি শান্তিতে চলাফেরা করতে পারছেন না। তিনি তাঁর স্বত্ব দখল বজায় রাখতে পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে সরাইল থানা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রবাসীর আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মৃত সিরাজুল ইসলাম (সরাইলের একজন স্বনামধন্য প্রধান শিক্ষক) নিঃসন্তান ছিলেন। মো. সাইফুল ইসলাম তাঁর পালিত ছেলে। সিরাজুল ইসলাম তাঁর প্রায় সকল সম্পত্তি এই পালিত ছেলেকে সাফ কবলা করে দিয়েছেন । নিজের ছেলেকে ওই পরিবারের দত্তক দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনিছুল ইসলাম ঠাকুর বলেন, “সিরাজ স্যারের স্ত্রী আমার স্ত্রীর আপন বড় বোন। বর্তমানে তিনি জীবিত আছেন। আমার এক বড় ছেলেকেও তিনি ছোটবেলা থেকে লালন-পালন করেছেন এবং আমার ছেলেই এখন বয়স্ক ওই পালক মায়ের দেখাশোনা করে। তাই বয়স্ক বৃদ্ধা নিজেই আমার ছেলেকে দুটি দোকান দিয়েছেন। এ সময় তিনি প্রবাসী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জালিয়াতির পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, “পালক পুত্রকে যেহেতু সরাসরি দান করার বিধান নেই, তাই সিরাজ স্যার ও তাঁর স্ত্রী মিলে সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে সাইফুল ইসলামকে জায়গা রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু সে জালিয়াতি করে দলিলের চেয়ে অতিরিক্ত জায়গা নিজ নামে খারিজ করেছে।” তিনি দাবি করেন, একটি দোকানের জায়গা দলিলের মূলে ২.৪২৫ শতক হলেও সে জালিয়াতি করে ২.৭৮ শতক জায়গা খারিজ করেছে। একইভাবে পৈতৃক সম্পত্তির ৭ শতকের জায়গায় ৮ শতক খারিজ করেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং এটি তদন্তাধীন রয়েছে। জায়গা বেশি খারিজ করার অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার খারিজের সকল জায়গা তারা একসাথে দেখাচ্ছে। মূলত ১ শতক জায়গাটি আমার অন্য স্থানের। তারা ইচ্ছা করে সেটার সাথে আমার বাড়ি ও দোকানের জায়গার প্যাঁচ লাগিয়ে একটি কৃত্রিম ঝামেলা ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে, যাতে তারা আমার সম্পত্তি গ্রাস করতে পারে।” এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মুঃ জালাল উদ্দিন ফাহিম জানান, “লিখিত অভিযোগটি পুলিশ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।