ভাষা দিবসে ২৪৪তম বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করল ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর
- আপডেট সময় : ০৫:২৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় উদ্ধার হওয়া এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ দাফন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পূর্ব মেড্ডা তিতাস নদী পাড়স্থ বেওয়ারিশ লাশের কবরস্থানে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ জানাযার নামায শেষে দাফন করা হয়৷ এ নিয়ে সংগঠনটির উদ্যোগে মোট ২৪৪টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন সম্পন্ন হলো। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাতটার দিকে আখাউড়া থানাধীন কেন্দুয়াই ইটভাটার রাস্তার দক্ষিণ পাশে একটি রড-সিমেন্টের দোকানের সামনে আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির পচাগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে আখাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরিচয় শনাক্তের লক্ষ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করলেও তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের মাধ্যমে মরদেহটি দাফন করা হয়।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে ও মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাতটার মধ্যে কোনো এক সময়ে অসুস্থতাজনিত বা অজ্ঞাত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় তাঁর মুখে দাড়ি ছিল এবং পরনে ছিল ফুলহাতা শার্ট, সোয়েটার ও জিন্স প্যান্ট। বাম হাতের কনুই থেকে কবজি পর্যন্ত অংশ পচনশীল অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আখাউড়া থানায় অপমৃত্যু মামলা (নং–০২/২৬) দায়ের করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আজহার উদ্দিন বলেন, “মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা বেওয়ারিশ মরদেহ দাফনের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। পাশাপাশি অজ্ঞাত ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তাও প্রদান করছি। সমাজের প্রতি আমাদের এই অঙ্গীকার ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের দিনে এমন একটি মানবিক উদ্যোগ সংগঠনটির সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবতার প্রতি প্রতিশ্রুতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।























