বিদ্রোহীর হুংকারে শামীমা হতে পারে সরাইল বিএনপির অন্ধের যষ্টি
- আপডেট সময় : ০২:৫২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ৮৫ বার পড়া হয়েছে
আঁধার রজনী শেষে দিগন্তে যখন আলোর রেখা ফুটে ওঠে, ভোরের সূর্য মানুষকে নব উদ্যমে বাঁচতে শেখায়। গত ১৭টি বছর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের দিক নির্দেশনায় এদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ স্বপ্ন দেখতো এমন একটি নির্বাচন হবে যেখানে সকল ভোটার যার যার মতো করে নি: সংকোচে ভোট দিতে পারবে। স্বৈরাচারের কবলমুক্ত বাংলাদেশে গত ১২ই ফেব্রুয়ারি এমন একটি অংশগ্রহণমূলক, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ভূমিধ্বস বিজয়ের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে পুণ:প্রতিষ্ঠিত করেছে। সতেরটি বছর শুনতে যত ছোট, কিন্তু বিএনপি’র প্রতিটি নেতাকর্মীর জন্য সেটা ছিল বিভীষিকাময় ও আতঙ্কের। গুম,খুন,হামলা, মামলা, অত্যাচার নির্যাতন, সহ্য করে, হুলিয়া মাথায় করে কেন্দ্র ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে যে সকল নেতা নেত্রী ছিলেন সম্মুখ সারিতে, যাদের আত্মত্যাগ বিএনপির জন্য আজকের সুদিন এনেছে তাদের মূল্যায়িত হওয়ার দাবি নিছক কোন দাবী নয়। এটা তাদের পাওনাও বটে। দুর্দিনের কান্ডারিরা সুদিনে তাদের ন্যায্য ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দেশসেবায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী । শামীমা আক্তার তাদেরই একজন। পারিবারিক আবহ বিএনপি কেন্দ্রীক। তিনি ছিলেন চাকুরী সূত্রে একজন জনসেবক। নাসিরনগর সূর্যের হাসি ক্লিনিকে প্যারামেডিকেল ডাক্তার হিসেবে কর্ম জীবনটা রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারেন নাই। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সময় দিতে গিয়ে চাকুরী থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পুলিশের ধাওয়ার মুখে নিজ বাড়ি ভাড়া দিয়ে একেক সময় একেক এলাকায় ভাড়া থেকেছেন। দিনরাত এক করে সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নে মিছিলের অগ্রভাগে থেকেছেন। সেজন্য কম নাজেহাল হতে হয়নি। লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট সঙ্গী করেই প্রতিটি কর্মসূচি সফলে কাজ করেছেন। জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে শামীমা আক্তার জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির সদস্য হিসেবে তারেক রহমান মনোনীত ও ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে একক ও দলগত প্রচারণা চালিয়েছেন। যা সকল ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি ঢাকা ১৭ আসনের প্রার্থী জনাব তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় জিয়া পরিষদ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে অংশগ্রহণ করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ২ আসনে জোট মনোনীত প্রার্থী জোনায়েদ আল হাবিবের নির্বাচনী প্রচারণায় জিয়া পরিষদ ও মহিলাদের সংঘটিত করার মাধ্যমে একটানা প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে জোট প্রার্থীর পরাজয় হয়। কিন্তু বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত প্রার্থী রুমিন ফারহানা জয় লাভ করেন। জেলার পাঁচটি আসনে বিএনপি ও জোট প্রার্থী জয়লাভ করলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি’র কোন প্রতিনিধিত্ব নাই। হাওরবেষ্টিত সরাইল এর উন্নয়ন আগামী পাঁচ বছরে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা বিদ্যমান। এমন পরিস্থিতিতে শামীমা আক্তার হতে পারেন বিএনপি’র প্রতিনিধিত্বকারী একজন।
সরাইলের বাসিন্দা জব্বার মিয়া বলেন, ক্ষোভের সাথে বলতে হচ্ছে বিগত কয়েকটি নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন দলের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায় সরাইলবাসী উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। এবার আমরা এর অবসান চাই। বিএনপি’র দু: সাহসিক নারী নেত্রী শামীমা আক্তারকে মহিলা এমপি হিসেবে দেখতে চাই। সরাইলবাসী বিদ্রোহীর হুংকার থেকে বাঁচতে চায়। বিদ্রোহীর হুংকারে শামীমা হতে পারে সরাইল বিএনপির অন্ধের যষ্ঠি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের করজোড়ে নিবেদন, শামীমা আক্তারকে মহিলা এমপি পদে মনোনয়ন দিতে হবে।
আশুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা কামাল সিকদার বলেন, শামীমা আক্তারকে আমরা সুখে দুঃখে পেয়েছি। তিনি বিচক্ষণ সৎ ও কর্মনিষ্ঠ। বর্তমান সরকারের ভিশণ বাস্তবায়নে বিএনপির ঝান্ডা হাতে শামীমা আক্তার যোগ্য প্রার্থী। আমরা আশুগঞ্জবাসী জনাব তারেক রহমানের কাছে বিনীত নিবেদন করছি শামীমা আক্তারকে মহিলা এমপি পদে মনোনয়ন দিতে হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া খোকন বলেন, শামীমাকে দেখেছি জেলার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেই ছুটে গেছেন সরাইলের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে। নির্লোভ, পরোপকারী ও নারী নেতৃত্বের পথিকৃৎ শামীমা সহ আরো যে কজন মহিলা আমাদের দলের কর্মসূচিতে উপস্থিত হতেন তারা ছিলেন আমাদের ঢাল স্বরুপ। পুলিশী হামলার মুখে তারা জেলার নেতৃবৃন্দকে অনেকটাই সুরক্ষা দিতেন। কোন একটি একুশে ফেব্রুয়ারি ফুল দেওয়ার অনুষ্ঠানে যেতে আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের সামনে জড়ো হচ্ছিলাম এমন সময় অতর্কিতে পুলিশ আমাদেরকে আক্রমণ করলে একমাত্র শামীমার দুঃসাহসিক ভূমিকার কারণে তৎকালীন জেলা বিএনপির সেক্রেটারি খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক, আমি সহ ৪/৫ জন গ্রেফতার এড়াতে সক্ষম হই। সেদিন পুলিশ শামীমাকে গ্রেপ্তার না করলেও অনেক হেস্তনেস্ত করেছে। শামীমাকে যদি মহিলা এমপি হিসাবে নমিনেশন দেয়া হয়, তাহলে বিএনপির জন্য ভালো হবে বলে মনে করি। অনেক নারীনেত্রী এমপি হতে চান। তুলনামূলক বিচারে আমি শামীমা আক্তার কেই সমর্থন করবো। শামীমার বিচক্ষণ নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জিয়া পরিষদ গতিশীল সংগঠনে পরিণত হয়েছে। নেতৃত্বের সকল গুণাবলী শতভাগ না হলেও অন্যদের তুলনায় সে অগ্রগামী একথা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি। দেশনায়ক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ থাকবে সব দিক বিবেচনায় যেন শামীমা আক্তারকে মহিলা এমপি হিসেবে নমিনেশন প্রদান করেন। কেন্দ্রীয় জিয়া পরিষদের নেতৃবৃন্দও তাদের আলোচনায় শামীমা আক্তার কে মহিলা এমপি হিসেবে পেতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।



















