ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মীর আনোয়ার এর বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যসহ দূর্নীতির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৮:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫০৮ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাফিক পুলিশ এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (টি, আই) মীর আনোয়ার যোগদান করেন ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ এ। যোগদানের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু করেছেন ক্ষমতার অপব্যবহার। সাবেক পুলিশ সুপার মো: এহতেশামুল হক এর (সুপার আইডি) এই বিশেষ আইডি শুধুমাত্র পুলিশ সুপার ব্যবহার করার জন্য দেয়া হয়। কিন্তু ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টি, আই) মীর আনোয়ার অন্যায়ভাবে এই (সুপার আইডি) ব্যবহার করে অবৈধ, অনিয়ম, দূর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্যের পাহাড় তৈরি করে সদর্পে নিজের ক্ষমতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ট্রাফিক ইনচার্জ মীর আনোয়ার নিজে সরাসরি এবং অনুগত সার্জেন্ট ও টি.এস.আই এর মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবহন থেকে প্রতি মাসে বিপুল অংকের( মাসোয়ারা) চাঁদা আদায় করেছেন । তার এই অনৈতিক কাজে যে সকল ট্রাফিক সদস্য ন্যূনতম বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তাদেরকেই ট্রাফিক বিভাগ থেকে সরিয়ে বিভিন্ন স্থানে বদলি করে দিচ্ছেন। গত দশ মাসে অস্বাভাবিক বদলি পর্যালোচনা করলে এই তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়।
জেলার পরিবহন খাতে চরম অস্থিরতা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক ও মালিক পক্ষের দাবি, সিএনজি অটোরিকশা, বাস, ট্রাক ও মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে নির্বিচারে মামলা দিয়ে আদায় করা হচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থ। অথচ সেই অর্থের বড় অংশ সরকারি রাজস্ব খাতে জমা না পড়ে জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা জানান, এ অনিয়মের বিরুদ্ধে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ ও মানববন্ধন করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো প্রতিকার মেলেনি।
মীর আনোয়ার এর অবৈধ ও দূর্নীতির কয়েকটি নমুনা তুলে ধরা হলো:
১। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মামলা নং-৯২৫০০১৬৩২৬। এই মামলায় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করেছেন। আর সরকারি রাজস্বখাতে জমা দেয়া হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকা।
২। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সময়: রাত ৯ টা ২৪ মিনিট। মামলা নং -৯২৫০০১৬৩৮৩।
এই মামলায় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা আদায় করেছেন। আর সরকারি রাজস্বখাতে জমা দেয়া হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকা।
৩। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সময়: রাত ১০ টা ০৫ মিনিট। মামলা নং -৯২৫০০১৬৩৮৫।
এই মামলায় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করেছেন। আর সরকারি রাজস্বখাতে জমা দেয়া হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকা।
৪। তারিখ: ১৬ মার্চ ২০২৫ মামলা নং-৯২৫০০১৬৩৩৭। এই মামলায় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা আদায় করেছেন। আর সরকারি রাজস্বখাতে জমা দেয়া হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকা।
৫। তারিখ: ১৯ মার্চ ২০২৫, মামলার আইডি নাম্বার: ৯২৫০০১৬৩৫।
ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১০ হাজার টাকা। আর সরকারি রাজস্বখাতে জমা দিয়েছেন ২ হাজার ৫০০ টাকা।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২২ তারিখে অনিয়মভাবে ৩ টি গাড়ি আটক করে। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করেন।
তাহলে প্রশ্ন উঠে, প্রতিটি মামলায় অগণিত টাকা আদায় করে সরকারি রাজস্বখাতে জমা দিয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাফিক ইনচার্জ মীর আনোয়ার এর এসব দূর্নীতির শেষ কোথায়? তাহলে কি আমরা সাধারণ জনগণ ভেবে নেবো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় টি, আই মীর আনোয়ার বীরদর্পে এসব অনিয়ম, দূর্নীতি করে যাচ্ছেন?
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ নিয়ামত খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মো: মেরাজ ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হানিফ, ট্রাক মালিক সমিতির সহ-সভাপতি বিল্লাল মিয়া, ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কার্যকরী সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খোকনসহ সকলের একটাই দাবি জানান বর্তমান পুলিশ সুপার কাছে, অনতিবিলম্বে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মীর আনোয়ারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বিতাড়িত করা হোক। নয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যে কঠিক আন্দোলনের ডাক দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।














