ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন দিবস ২০২৫ পালিত গান গাওয়া বন্ধ করে দেওয়া সেই অন্ধ হেলালের পরিবারের পাশে ‘ভাব বৈঠকী’ মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থা এআরডি- ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র উদ্যোগে মানববন্ধন ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত আখাউড়ায় যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ইউনিভার্সেল মেডিকেলের উদ্যোগে Top Ten Genius সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত কনিকাড়া ‌উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য আহসানুজ্জামান গেন্দু চৌধুরীর ‌ইন্তেকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিপিএফ’র মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ৫ দফা দাবি আদায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশ খালেদা জিয়ার অসুস্থতার মধ্যেই নবীনগরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গান-বাজনা, সমালোচনার ঝড় জুডিশিয়াল সার্ভিস এ্যাসোসিয়েশন ও ইউনিভার্সেল মেডিকেলের স্বাস্থ্যচুক্তি

মাজেদা বেগমের পিঠার সাথে ১০০ পদের ভর্তা ফ্রি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪ ৪৭০ বার পড়া হয়েছে

মাজেদা বেগমের পিঠার সাথে ১০০ পদের ভর্তা ফ্রি

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকঞ্জিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
শীত মৌসুমের পিঠার দোকানগুলোতে রীতিমতো মেলা বসে পিঠাপ্রেমিদের। বিশেষ করে সন্ধ্যায় উপচেপড়া ভিড় লাগে দোকানগুলোতে। আর তাই শীত মৌসুমে বিভিন্ন পিঠা বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হন অনেকেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মাজেদা বেগমও (৫০) এমনই একজন। তার বানানো হরেক স্বাদের পিঠা খেতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন মানুষজন। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি হয় তার দোকানে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ ৯ বছর ধরে পিঠা বিক্রি করেই চলছে মাজেদার সংসার। প্রতিদিন চিতইসহ বিভিন্ন পিঠা তৈরি করেন তিনি। ৮টি চুলায় ১ হাজারেরও বেশি চিতই পিঠা তৈরি হয়। সাধারণ চিতইয়ের পাশাপাশি ডিম ও মসলাসহ স্পেশাল ডিম পিঠাও তৈরি হয় মাজেদার দোকানে। সাধারণ চিতই ১০ টাকা আর ডিম-মশলা দিয়ে বানানো চিতইয়ের জন্য ক্রেতাদের গুনতে হয় ৩০ টাকা।

পিঠার সঙ্গে ১০০ পদের ভর্তা ফ্রি দেয়া হয়। ভর্তা বানানোর জন্য ১২-১৩ রকমের শুঁটকি, বিভিন্ন রকমের মাছ, কয়েক রকমের ডাল, বাদাম, ধনেপাতা, মরিচ ও মৌসুমি সবজি ব্যবহার করা হয়। পার্শ্ববর্তী নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ থেকে পিঠা খেতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে মাজেদা আপার পিঠার সঙ্গে শত পদের ভর্তা দেয়ার কথা জানতে পারি। তাই এসেছি পিঠা খাওয়ার জন্য। আমাদের এলাকায় চিতই পিঠা পাওয়া গেলেও শত পদের ভর্তা পাওয়া যায়না।

নরসিংদী থেকে আসা ইমরান হোসেন বলেন, আমরা পাঁচটি মোটরসাইকেল নিয়ে কয়েকজন বন্ধু মিলে এখানে পিঠা খেতে এসেছি। চিতই পিঠা দিয়ে টাটকা ভর্তার স্বাদ বেশ ভালই লেগেছে।

মাজেদা বেগমের স্বামী মো. রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, আমার পাঁচ মেয়ে, নয় বছর যাবত পিঠা বানানোর ব্যবসা করে দুই মেয়ে বিয়ে দিয়েছি, তিন মেয়ে মাদ্রাসায় পড়ে। আমাদের সংসার ভালই চলছে। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আমাদের দোকানে আসছে পিঠা খেতে। এটি আমাদের জন্য আনন্দের।

মাজেদা বেগম বলেন, প্রথমে ৫০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে পিঠার ব্যবসা শুরু করেছিলাম। এখন দোকানে বেচাকেনা ভালো। শুক্রবারে ভিড় থাকে বেশি। তাই সেদিন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ চালের পিঠা বিক্রি হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মাজেদা বেগমের পিঠার সাথে ১০০ পদের ভর্তা ফ্রি

আপডেট সময় : ০৯:২০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪

মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকঞ্জিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
শীত মৌসুমের পিঠার দোকানগুলোতে রীতিমতো মেলা বসে পিঠাপ্রেমিদের। বিশেষ করে সন্ধ্যায় উপচেপড়া ভিড় লাগে দোকানগুলোতে। আর তাই শীত মৌসুমে বিভিন্ন পিঠা বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হন অনেকেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের মাজেদা বেগমও (৫০) এমনই একজন। তার বানানো হরেক স্বাদের পিঠা খেতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন মানুষজন। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি হয় তার দোকানে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ ৯ বছর ধরে পিঠা বিক্রি করেই চলছে মাজেদার সংসার। প্রতিদিন চিতইসহ বিভিন্ন পিঠা তৈরি করেন তিনি। ৮টি চুলায় ১ হাজারেরও বেশি চিতই পিঠা তৈরি হয়। সাধারণ চিতইয়ের পাশাপাশি ডিম ও মসলাসহ স্পেশাল ডিম পিঠাও তৈরি হয় মাজেদার দোকানে। সাধারণ চিতই ১০ টাকা আর ডিম-মশলা দিয়ে বানানো চিতইয়ের জন্য ক্রেতাদের গুনতে হয় ৩০ টাকা।

পিঠার সঙ্গে ১০০ পদের ভর্তা ফ্রি দেয়া হয়। ভর্তা বানানোর জন্য ১২-১৩ রকমের শুঁটকি, বিভিন্ন রকমের মাছ, কয়েক রকমের ডাল, বাদাম, ধনেপাতা, মরিচ ও মৌসুমি সবজি ব্যবহার করা হয়। পার্শ্ববর্তী নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ থেকে পিঠা খেতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে মাজেদা আপার পিঠার সঙ্গে শত পদের ভর্তা দেয়ার কথা জানতে পারি। তাই এসেছি পিঠা খাওয়ার জন্য। আমাদের এলাকায় চিতই পিঠা পাওয়া গেলেও শত পদের ভর্তা পাওয়া যায়না।

নরসিংদী থেকে আসা ইমরান হোসেন বলেন, আমরা পাঁচটি মোটরসাইকেল নিয়ে কয়েকজন বন্ধু মিলে এখানে পিঠা খেতে এসেছি। চিতই পিঠা দিয়ে টাটকা ভর্তার স্বাদ বেশ ভালই লেগেছে।

মাজেদা বেগমের স্বামী মো. রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, আমার পাঁচ মেয়ে, নয় বছর যাবত পিঠা বানানোর ব্যবসা করে দুই মেয়ে বিয়ে দিয়েছি, তিন মেয়ে মাদ্রাসায় পড়ে। আমাদের সংসার ভালই চলছে। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আমাদের দোকানে আসছে পিঠা খেতে। এটি আমাদের জন্য আনন্দের।

মাজেদা বেগম বলেন, প্রথমে ৫০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে পিঠার ব্যবসা শুরু করেছিলাম। এখন দোকানে বেচাকেনা ভালো। শুক্রবারে ভিড় থাকে বেশি। তাই সেদিন স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ চালের পিঠা বিক্রি হয়।