নবীনগররে ভূমি অফিসে তিন সাংবাদিককে অফিসের ভেতরে ‘তালাবদ্ধ’ করে আটক রাখার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:২৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরের ভূমি অফিসে তিন সাংবাদিককে অফিসের ভেতরে ‘তালাবদ্ধ’ করে আটক রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূমি অফিসে খারিজ করতে ‘কেন ঘুষ নেওয়া হয়’? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গেলে, ওই তিন সাংবাদিককে অফিসের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন ভূমি অফিসের সহকারী নায়েব সামসুদ্দোহা। তবে ঘটনা জানার ঘণ্টাখানেক পরই ইউএনও’র হস্তক্ষেপে ওই সাংবাদিকেরা ‘তালাবদ্ধ’ অবস্থা থেকে মুক্তিলাভ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর ভূমি অফিসে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে বাংলা টিভি’র প্রতিনিধি পিয়াল হাসান রিয়াজ, গ্রিন টিভি’র প্রতিনিধি মমিনুল হক রুবেল ও বাংলাদেশের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি মো. অলিউল্লাহ খারিজ সংক্রান্ত তথ্য জানতে সেখানে যান।
এ সময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মো. সামসুদ্দোহা ও অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান ওই তিন সাংবাদিককে অফিসের ভেতর তালাবদ্ধ রেখে বেরিয়ে যান। এতে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা অন্যান্য সেবা গ্রহীতারাও ভেতরে আটকা পড়েন।
সাংবাদিক পিয়াল হাসান রিয়াজ বলেন, নবীনগর বাজারের আলমাস মিয়া নামের একজন ব্যবসায়ী সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সামসিদ্দোহার কাছে একটি জমির খারিজ করতে এলে, তিনি (সামসুদ্দোহা) ৪০ হাজার টাকা নাকি ঘুষ চান। এ খবর শুনে আমরা তিন সাংবাদিক বিষযটি জানতে এলে, ওই অফিসার ও তার লোকজন প্রথমে আমাদের একজনের মোবাইল কেড়ে নেন। পরে অফিসের ভেতর আমাদেরকে তালাবদ্ধ রেখে ওরা চলে যান। ফলে ভেতরে আমরা একঘণ্টা আটক থাকি। অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা সামসুদ্দোহার সঙ্গে মুঠোফোনে এ প্রতিনিধির কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো সাংবাদিক-টাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলি না’, বলেই ফোনটা রেখে দেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, এটি নিছক ভুল বুঝাবুঝির একটি ঘটনা। নায়েব তিন সাংবাদিকের উপস্থিতিতে অনেকটা ভয়ে তার অফিসে তালা মেরে চলে আসেন। তবে ঘটনাটি শোনার পরপরই আমি একজন সরকারি দলের নেতাকে পাঠিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তালা খোলার ব্যবস্থা করি।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক ফারুক আহমেদ জানান, তখন আমি ইউএও’র কক্ষে ছিলাম। ওই ভূমি কর্মকর্তা হন্তদন্ত হয়ে এসে ইউএনওকে ঘটনাটি জানাচ্ছিলেন। পরে ইউএনও মহোদয় তার পক্ষে আমাকে গিয়ে তালাটি খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলে, আমি গিয়ে তালা খুলে সাংবাদিকদের মুক্ত করি। তিনি এ ঘটনাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন এবং ভূমি কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করেন।
এবিষয়ে ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) সামসুদ্দোহা’র সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করিলে তিনি কল রিসিভ করেন নাই।
এদিকে, নবীনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. হোসেন শান্তি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ওই ভূমি কর্মকর্তার শাস্তি দাবি করেন।




















