ঢাকা ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘মার্কেট অ্যাক্টরস বিজনেস স্কুল’ গঠন নিখোঁজের দুইদিন পর মিলল শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দী লাশ সাঁতার জানত দুই খেলার সাথী, হাঁটু সমান পানিতে মিলল লাশ সাহিত্য একাডেমির আয়োজনে বৈশাখী উৎসব এর তৃতীয় দিনের আয়োজন অনুষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈশাখী উৎসবে বজলুর রহমান পাঠাগারের আবৃত্তি পরিবেশন নবীনগররে ভূমি অফিসে তিন সাংবাদিককে অফিসের ভেতরে ‘তালাবদ্ধ’ করে আটক রাখার অভিযোগ কসবার তিন লাখ পীর এলাকায় ইপিজেড: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন যমুনা টিভির সাংবাদিক আল আমিনকে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি ডিজিটাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংবাদ প্রকাশে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন: নবীনগরে ঠিকাদার প্রকৌশলীকে বাঁশ দিয়ে দাওয়া তিতাস পাড়ে অবস্থিত শ্মশান; ৪০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

১৪ ফেব্রুয়ারি! শফিক রেহমানের লাল গোলাপ ও ভালবাসা দিবস বনাম ৫০ জন শহীদের স্মরণে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২ ১১৬০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কি ঘটেছিলো সেদিন কেনইবা ১ জন না ২ জন না একসাথে ৫০ জন ছাত্রকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়। গ্রেফতার করা হয় ১১০০ ছাত্রকে। সে ইতিহাস জানতে হলে ফিরে তাকাতে হবে ইতিহাসের পেছনে যখন সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের শিক্ষামন্ত্রী ড. মজিদ খান ১৯৮২ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর একটি নতুন শিক্ষানীতির প্রস্তাব করেন। এবং সেই শিক্ষানীতি অনেকটা পাকিস্তান সরকারের আমলে প্রণীত শরীফ শিক্ষা কমিশন বা হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের আদলে সেখানে প্রথম শ্রেণী থেকেই আরবি ও দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য মাপকাঠি করা হয় মেধা অথবা পঞ্চাশ শতাংশ ব্যয়ভার বহনের ক্ষমতা। অর্থাৎ টাকা যার শিক্ষা তার এই নীতি বাস্তবায়ন ছিল মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এদেশের অদম্য সাহসী ছাত্র সমাজ তা প্রতিহত করতে ঐ শিক্ষা কমিশন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেন এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে স্মারকলিপি দিতে শিক্ষার্থীরা মিছিল করে সচিবালয়ের দিকে যাবার সময় পুলিশ গুলি চালায়। ”সেদিন পুলিশের গুলিতে অন্তত ৫০জন নিহত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু দুজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাকি মৃতদেহগুলো গুম করে ফেলে। তাদের স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে স্বজনদের কোন খোঁজ আর পাননি।”তবে হতাহতের এই সংখ্যার বিষয়ে তখন সরকারিভাবে কোন বক্তব্য দেয়া হয়নি।”সেদিন থেকে এই দিনটিকে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসাবে বলা হয়’ কতটা অমানবিক নিষ্ঠুরতা কেটেছিল দিনটা একবার চিন্তা করলেই গা শিউরে ওঠে, আর অন্য দিকে বিশ্ব জুড়ে পালিত হাওয়া ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ১৯৯৩ সালের দিকে সাংবাদিক শফিক রেহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ ভালোবাসা দিবস উদযাপন করতে শুরু করে। তরুণ-তরুণীর কাছে ভালোবাসা দিবস ব্যাপক উচ্ছাসের একটি দিন হয়ে ওঠায় চাপা পড়ে গেছে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস।

ফাহিম মুনতাসির

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১৪ ফেব্রুয়ারি! শফিক রেহমানের লাল গোলাপ ও ভালবাসা দিবস বনাম ৫০ জন শহীদের স্মরণে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস।

আপডেট সময় : ০৯:১০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২

১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কি ঘটেছিলো সেদিন কেনইবা ১ জন না ২ জন না একসাথে ৫০ জন ছাত্রকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়। গ্রেফতার করা হয় ১১০০ ছাত্রকে। সে ইতিহাস জানতে হলে ফিরে তাকাতে হবে ইতিহাসের পেছনে যখন সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের শিক্ষামন্ত্রী ড. মজিদ খান ১৯৮২ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর একটি নতুন শিক্ষানীতির প্রস্তাব করেন। এবং সেই শিক্ষানীতি অনেকটা পাকিস্তান সরকারের আমলে প্রণীত শরীফ শিক্ষা কমিশন বা হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের আদলে সেখানে প্রথম শ্রেণী থেকেই আরবি ও দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য মাপকাঠি করা হয় মেধা অথবা পঞ্চাশ শতাংশ ব্যয়ভার বহনের ক্ষমতা। অর্থাৎ টাকা যার শিক্ষা তার এই নীতি বাস্তবায়ন ছিল মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এদেশের অদম্য সাহসী ছাত্র সমাজ তা প্রতিহত করতে ঐ শিক্ষা কমিশন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেন এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে স্মারকলিপি দিতে শিক্ষার্থীরা মিছিল করে সচিবালয়ের দিকে যাবার সময় পুলিশ গুলি চালায়। ”সেদিন পুলিশের গুলিতে অন্তত ৫০জন নিহত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু দুজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাকি মৃতদেহগুলো গুম করে ফেলে। তাদের স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে স্বজনদের কোন খোঁজ আর পাননি।”তবে হতাহতের এই সংখ্যার বিষয়ে তখন সরকারিভাবে কোন বক্তব্য দেয়া হয়নি।”সেদিন থেকে এই দিনটিকে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসাবে বলা হয়’ কতটা অমানবিক নিষ্ঠুরতা কেটেছিল দিনটা একবার চিন্তা করলেই গা শিউরে ওঠে, আর অন্য দিকে বিশ্ব জুড়ে পালিত হাওয়া ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ১৯৯৩ সালের দিকে সাংবাদিক শফিক রেহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ ভালোবাসা দিবস উদযাপন করতে শুরু করে। তরুণ-তরুণীর কাছে ভালোবাসা দিবস ব্যাপক উচ্ছাসের একটি দিন হয়ে ওঠায় চাপা পড়ে গেছে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস।

ফাহিম মুনতাসির