ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তিতাস রক্ষায় সাকার মাছ ধ্বংসের ডাক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৎস্য বিভাগের জরুরি অভিযান কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্তকারীকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার নবীনগরে সন্ধানী চক্ষুদান সমিতির সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা প্রদান কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘মার্কেট অ্যাক্টরস বিজনেস স্কুল’ গঠন নিখোঁজের দুইদিন পর মিলল শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দী লাশ সাঁতার জানত দুই খেলার সাথী, হাঁটু সমান পানিতে মিলল লাশ সাহিত্য একাডেমির আয়োজনে বৈশাখী উৎসব এর তৃতীয় দিনের আয়োজন অনুষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈশাখী উৎসবে বজলুর রহমান পাঠাগারের আবৃত্তি পরিবেশন নবীনগররে ভূমি অফিসে তিন সাংবাদিককে অফিসের ভেতরে ‘তালাবদ্ধ’ করে আটক রাখার অভিযোগ কসবার তিন লাখ পীর এলাকায় ইপিজেড: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন

জনস্বাস্থ্যের জায়গায় অবৈধ মুরগীর ও পাখি খামার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩ ২৬৮ বার পড়া হয়েছে

অবৈধ মুরগীর ও পাখি খামার

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জায়গায় কোন প্রকার অনুমতি ছাড়া কবুতর, পাখি ও মুরগীর খামার দিয়েছেন দৈনিক হাজিরার কর্মচারী। সেই খামারের বজ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই খামারে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ রোগ রাণীক্ষেত। আশপাশের বাড়িঘরে তা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই নিজেদের গৃহপালিত হাঁস-মুরগী নিয়ে আতঙ্কে আছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উত্তর দিকে এই অফিসের মালিকানাধীন একটি পুকুর রয়েছে। সেই পুকুরের পাড়ে টিন দিয়ে কয়েকটি ঘর তুলা হয়েছে। ওই ঘরের চারপাশে টিন ও প্লাস্টিকের চটের বেস্টনি দেওয়া। উপরে দেওয়া প্লাস্টিকের জাল। এর ভেতরে কবুতর, বাজিঘর পাখি ও মুরগীর খামার দেওয়া হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি কবুতর ও মুরগীকে খাবার দিচ্ছেন এবং ঔষধ ছোটাচ্ছেন। তার নাম জিজ্ঞেস করতেই জানালেন ওলিউল্লাহ। দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে কাজ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে।

ওলিউল্লাহ জানান, এখানে বর্তমানে ৮০টি বিভিন্ন জাতের কবুতর, ৪০টি বাজিঘর পাখি ও ৪০টির মুরগী রয়েছে। বর্তমানে এখানে রানীক্ষেত রোগ আক্রমণ করেছে। অনেক কবুতর, পাখি ও মুরগী মারা গেছে। অনেক গুলো সংক্রমিত হয়ে অসুস্থ। তাই কেউ ক্রয় করতে আসলেও এগুলো বিক্রয় করছেন না। তার দাবি, এটা খামার না। অফিসের সবাই বিষয়টি জানেন। স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ মিয়া বলেন, আমার বাসার সাথেই এই পশু-পাখির খামারটি, খামারের দুর্গন্ধে জানালা বন্ধ করে রাখতে হয় ও আশে-পাশে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অফিসের নির্বাহীর কাছে আমি নিজে গিয়ে মৌখিক এ বিষয়ে জানাইছে। তখন ওনি বলেন মুরগী ও কবুতর পালতেই পারে। শুধু আপনার অসুবিধা হচ্ছে আর কারোর অসুবিধাত হচ্ছে না। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা এনায়েত খান বলেন, ‘এই পশু-পাখির খামারের দুর্গন্ধে আমরা অতিষ্ঠ। আমার বিল্ডিংয়ের নিচতলার দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়। দুতলায়ও গন্ধ আসে।’

মোঃ কালু মিয়া নামের আরেকজন বলেন, ‘খামারটি সড়কের পাশে হওয়ায় পথচারীরাও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ। বারবার বলেও কোন কাজ হয়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. বজলুর রহমান বলেন, ‘রানীক্ষেত একটি সংক্রমিত রোগ। এই রোগে কোন হাস-মুরগী বা পশু আক্রান্ত হলে তা বাতাসে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এর থেকে আশপাশের হাস, মুরগী ও পাখি সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’ এই বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান তালুকদার মুঠোফোনে বলেন, ‘সেখানে আমাদের অফিসের কেউ খামার দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। আমাদের কেউ খামার দেওয়ার কথা না। আমি বিষয়টি অবগত নই। আমি খোঁজ নিব।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জনস্বাস্থ্যের জায়গায় অবৈধ মুরগীর ও পাখি খামার

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জায়গায় কোন প্রকার অনুমতি ছাড়া কবুতর, পাখি ও মুরগীর খামার দিয়েছেন দৈনিক হাজিরার কর্মচারী। সেই খামারের বজ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই খামারে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ রোগ রাণীক্ষেত। আশপাশের বাড়িঘরে তা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই নিজেদের গৃহপালিত হাঁস-মুরগী নিয়ে আতঙ্কে আছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উত্তর দিকে এই অফিসের মালিকানাধীন একটি পুকুর রয়েছে। সেই পুকুরের পাড়ে টিন দিয়ে কয়েকটি ঘর তুলা হয়েছে। ওই ঘরের চারপাশে টিন ও প্লাস্টিকের চটের বেস্টনি দেওয়া। উপরে দেওয়া প্লাস্টিকের জাল। এর ভেতরে কবুতর, বাজিঘর পাখি ও মুরগীর খামার দেওয়া হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি কবুতর ও মুরগীকে খাবার দিচ্ছেন এবং ঔষধ ছোটাচ্ছেন। তার নাম জিজ্ঞেস করতেই জানালেন ওলিউল্লাহ। দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে কাজ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে।

ওলিউল্লাহ জানান, এখানে বর্তমানে ৮০টি বিভিন্ন জাতের কবুতর, ৪০টি বাজিঘর পাখি ও ৪০টির মুরগী রয়েছে। বর্তমানে এখানে রানীক্ষেত রোগ আক্রমণ করেছে। অনেক কবুতর, পাখি ও মুরগী মারা গেছে। অনেক গুলো সংক্রমিত হয়ে অসুস্থ। তাই কেউ ক্রয় করতে আসলেও এগুলো বিক্রয় করছেন না। তার দাবি, এটা খামার না। অফিসের সবাই বিষয়টি জানেন। স্থানীয় বাসিন্দা আজাদ মিয়া বলেন, আমার বাসার সাথেই এই পশু-পাখির খামারটি, খামারের দুর্গন্ধে জানালা বন্ধ করে রাখতে হয় ও আশে-পাশে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অফিসের নির্বাহীর কাছে আমি নিজে গিয়ে মৌখিক এ বিষয়ে জানাইছে। তখন ওনি বলেন মুরগী ও কবুতর পালতেই পারে। শুধু আপনার অসুবিধা হচ্ছে আর কারোর অসুবিধাত হচ্ছে না। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা এনায়েত খান বলেন, ‘এই পশু-পাখির খামারের দুর্গন্ধে আমরা অতিষ্ঠ। আমার বিল্ডিংয়ের নিচতলার দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়। দুতলায়ও গন্ধ আসে।’

মোঃ কালু মিয়া নামের আরেকজন বলেন, ‘খামারটি সড়কের পাশে হওয়ায় পথচারীরাও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ। বারবার বলেও কোন কাজ হয়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. বজলুর রহমান বলেন, ‘রানীক্ষেত একটি সংক্রমিত রোগ। এই রোগে কোন হাস-মুরগী বা পশু আক্রান্ত হলে তা বাতাসে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এর থেকে আশপাশের হাস, মুরগী ও পাখি সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’ এই বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান তালুকদার মুঠোফোনে বলেন, ‘সেখানে আমাদের অফিসের কেউ খামার দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। আমাদের কেউ খামার দেওয়ার কথা না। আমি বিষয়টি অবগত নই। আমি খোঁজ নিব।’