ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক দূর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জিয়া পরিষদের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষকাল ২০২৫ আওয়ামী লীগ আসন ও টাকার অফার করেছিল, আপোষ করিনি: নবীনগরে নুরুল হক নূর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন দিবস ২০২৫ পালিত গান গাওয়া বন্ধ করে দেওয়া সেই অন্ধ হেলালের পরিবারের পাশে ‘ভাব বৈঠকী’ মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংস্থা এআরডি- ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র উদ্যোগে মানববন্ধন ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত আখাউড়ায় যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ইউনিভার্সেল মেডিকেলের উদ্যোগে Top Ten Genius সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত কনিকাড়া ‌উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য আহসানুজ্জামান গেন্দু চৌধুরীর ‌ইন্তেকাল

সরাইলে আশ্রয়ণ প্রকল্পে পানি ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২ ২৪৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আইরল গ্রামের পূর্ব পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পে হাঁটু পানি। গত ১০-১৫ দিন ধরে প্রকল্পের বাসিন্ধারা পানির উপরে কষ্ট করে বসবাস করলেও কোন ধরণের ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া সেখান থেকে বাজারে বা অন্য কোথাও যেতে হলে নৌকা ছাড়া অসম্ভব। তাই চরম কষ্টে বসবাসের কথা জানিয়েছেন রমজান মিয়া ও তোবারক মিয়া। স্থানীয় লোকজন ও কয়েকজন সমাজকর্মী জানায়, আইরল গ্রামের পূর্ব পাশের হাওরে স্থাপিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১০টি পরিবারকে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে ঘর। জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে গত ১৫-২০ দিন আগেই তলিয়ে গেছে হাওর ও যাতায়তের কাঁচা সড়ক। চারিদিকে পানি আর মাঝখানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্ধারা। গত ১০-১৫ দিন আগে ওই প্রকল্পের আঙ্গিনা তলিয়ে যায়। এরপর পানি প্রবেশ করে ঘরের ভেতরে। কোন রকমে ঘরের ভেতরে বসবাস করছেন তারা। ১০টি পরিবারের মধ্যে আছে ৬টি পরিবার। প্রকল্পের শুরূ থেকেই নেই ৪টি পরিবার। বসতঘর থেকে বের হলেই গলা সমান পানি। আবার কোথাও সাঁতার পানি। কোথাও কাজ করতে ও হাটবাজার করতে গেলে নৌকা ছাড়া কোন উপায় নেই তাদের। জীবন-যাপনে খরচ বেড়ে গেছে। ওদিকে বন্যার কারণে কমে গেছে কাজ। এ জন্য ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্ধাদের জীবন এখন খুবই কষ্টের। প্রকল্পের বাসিন্ধা মো. কুতুব মিয়া (৫৭) স্ত্রীকে নিয়ে পানির উপরই সেখানে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, আমডার বাড়ি নোয়াগাঁও। ৬ পরিবার খুব কষ্ট কইরা অতদিন ধইরা এইহান থাকতাছি। খাওনেরও কষ্ট। চেয়ারম্যান আর ফতেহ আলী মেম্বার একদিন আইছিল। আর আমডার কোন খুঁজ খবর নিতাছে না। অত দিন অইল এইহানে কেউই রিলিফ বা কোন খাওন লইয়া আইছে না। অহন আমডা সাইয়রে ভাসতাছি। পুবের দুই ঘরের মানুষ অনেক আগে অই গেছেগা। কাঁচা আবুইদ্দা লইয়া হেরা থাকত পারে না। আবুইদ্দা পানিত পইড়া যাগা। আরেক বাসিন্ধা তাবারক মিয়া (৪২) বলেন, আমডার বাড়ি জয়ধরকান্দি। ২ বছর আগ থাইক্কা ওই এইহান থাকতাছি। কাপড় ভিজাইয়া যাওয়া আসা করতাছি। উদ্বোধন করার পর থাইক্কা এইহান ৪ টা পরিবার থাকে না। ৬ নং ওয়ার্ডের বুড্ডা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩ টি ঘরেও প্রবেশ করেছে পানি। নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনসুর আহমেদ বলেন, আইরলে ১০টি ও বুড্ডায় ৩ টি ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আইরলে কিছু মাটি ফেলা হয়েছিল। তাপরও জায়গাটি নিচু। আর বুড্ডায় কোন মাটি ফেলা হয়নি। আজ পর্যন্ত (গতকাল ২৮ মে মঙ্গলবার) তারা কোন ত্রাণ পায়নি। তবে গতকাল বিকেলে কিছু ত্রাণ পেয়েছি। আগামীকাল দিব। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ৩৮টি। ত্রাণ পেয়েছি ৩০টি। আজ বুধবার ত্রাণ বিতরণ করব। নোয়াগাঁও ইউনিয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত টেগ অফিসার মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আইরলের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০টি ঘরেই পানি। আমার জানা মতে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে কোন ধরণের ত্রাণ যায়নি।

মাহবুব খান বাবুল

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সরাইলে আশ্রয়ণ প্রকল্পে পানি ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুন ২০২২

সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আইরল গ্রামের পূর্ব পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পে হাঁটু পানি। গত ১০-১৫ দিন ধরে প্রকল্পের বাসিন্ধারা পানির উপরে কষ্ট করে বসবাস করলেও কোন ধরণের ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া সেখান থেকে বাজারে বা অন্য কোথাও যেতে হলে নৌকা ছাড়া অসম্ভব। তাই চরম কষ্টে বসবাসের কথা জানিয়েছেন রমজান মিয়া ও তোবারক মিয়া। স্থানীয় লোকজন ও কয়েকজন সমাজকর্মী জানায়, আইরল গ্রামের পূর্ব পাশের হাওরে স্থাপিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১০টি পরিবারকে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে ঘর। জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে গত ১৫-২০ দিন আগেই তলিয়ে গেছে হাওর ও যাতায়তের কাঁচা সড়ক। চারিদিকে পানি আর মাঝখানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্ধারা। গত ১০-১৫ দিন আগে ওই প্রকল্পের আঙ্গিনা তলিয়ে যায়। এরপর পানি প্রবেশ করে ঘরের ভেতরে। কোন রকমে ঘরের ভেতরে বসবাস করছেন তারা। ১০টি পরিবারের মধ্যে আছে ৬টি পরিবার। প্রকল্পের শুরূ থেকেই নেই ৪টি পরিবার। বসতঘর থেকে বের হলেই গলা সমান পানি। আবার কোথাও সাঁতার পানি। কোথাও কাজ করতে ও হাটবাজার করতে গেলে নৌকা ছাড়া কোন উপায় নেই তাদের। জীবন-যাপনে খরচ বেড়ে গেছে। ওদিকে বন্যার কারণে কমে গেছে কাজ। এ জন্য ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্ধাদের জীবন এখন খুবই কষ্টের। প্রকল্পের বাসিন্ধা মো. কুতুব মিয়া (৫৭) স্ত্রীকে নিয়ে পানির উপরই সেখানে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, আমডার বাড়ি নোয়াগাঁও। ৬ পরিবার খুব কষ্ট কইরা অতদিন ধইরা এইহান থাকতাছি। খাওনেরও কষ্ট। চেয়ারম্যান আর ফতেহ আলী মেম্বার একদিন আইছিল। আর আমডার কোন খুঁজ খবর নিতাছে না। অত দিন অইল এইহানে কেউই রিলিফ বা কোন খাওন লইয়া আইছে না। অহন আমডা সাইয়রে ভাসতাছি। পুবের দুই ঘরের মানুষ অনেক আগে অই গেছেগা। কাঁচা আবুইদ্দা লইয়া হেরা থাকত পারে না। আবুইদ্দা পানিত পইড়া যাগা। আরেক বাসিন্ধা তাবারক মিয়া (৪২) বলেন, আমডার বাড়ি জয়ধরকান্দি। ২ বছর আগ থাইক্কা ওই এইহান থাকতাছি। কাপড় ভিজাইয়া যাওয়া আসা করতাছি। উদ্বোধন করার পর থাইক্কা এইহান ৪ টা পরিবার থাকে না। ৬ নং ওয়ার্ডের বুড্ডা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩ টি ঘরেও প্রবেশ করেছে পানি। নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনসুর আহমেদ বলেন, আইরলে ১০টি ও বুড্ডায় ৩ টি ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আইরলে কিছু মাটি ফেলা হয়েছিল। তাপরও জায়গাটি নিচু। আর বুড্ডায় কোন মাটি ফেলা হয়নি। আজ পর্যন্ত (গতকাল ২৮ মে মঙ্গলবার) তারা কোন ত্রাণ পায়নি। তবে গতকাল বিকেলে কিছু ত্রাণ পেয়েছি। আগামীকাল দিব। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ৩৮টি। ত্রাণ পেয়েছি ৩০টি। আজ বুধবার ত্রাণ বিতরণ করব। নোয়াগাঁও ইউনিয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত টেগ অফিসার মো. জামাল উদ্দিন বলেন, আইরলের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০টি ঘরেই পানি। আমার জানা মতে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে কোন ধরণের ত্রাণ যায়নি।

মাহবুব খান বাবুল