ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত। চাঁদা দাবি ও বাসে আগুন দেওয়ার হুমকিতে ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা অপকর্মের দায়ে যমুনা হাসপাতালের পদ হারালেন জুলফিকার সরাইলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে: নিহত ৪, আহত অন্তত ১০ বাঞ্ছারামপুরে দেশীয় এলজি বন্দুক, কার্তুজ ও মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ১ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২ জনকে কুপিয়ে জখম, টাকা লুট; প্রধান আসামি গ্রেফতার মাসুদ রানা-নবীনগর পৌরসভার ‘মেয়র’পদে নির্বাচন করার ঘোষণা! ট্রেনের ছাদে লুকিয়ে রাখা স্কুলব্যাগ থেকে মিলল ১২ কেজি গাঁজা হাসপাতালে নারী কর্মচারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি; হাসপাতাল ভাঙচুর নাসিরনগরে হত্যা মামলার ১ জন আসামি গ্রেফতার

সরাইলে মারধরের মামলায় শিশু গ্রেপ্তার আদালতে প্রেরণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২২ ১০৬৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাহবুব খান বাবুল: সরাইল থেকে:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. রাকিব হোসেন (১৫ বছর, ৫ মাস, ২৫ দিন) নামের এক শিশুকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ। রাকিবের জন্ম নিবন্ধন নং-২০০৭১২১৯৪৯০০২৫৮৫২। গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার মলাইশ গ্রামে অভিযান করে নিজের বাসভবনে ঘুমন্ত অবস্থায় আবু ছালেকের ওই শিশু পুত্রকে গ্রেপ্তার করেন সরাইল থানার এস আই মো. জয়নাল। শিশু অপরাধীকে স্থানীয় সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে শিশু কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর বিধান। গতকাল শনিবার মামলার এজহার ও প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে শিশু রাকিবের বয়স ১৯ বছর রেকর্ড করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ, মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আবুল ছালেক ও মুসা মিয়ার বাড়ি পাশাপাশি। গত শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশে জমিতে ধান কাটছিলেন ছালেক। বাবার কাজে সহযোগিতা করছিল শিশু জুনাঈদ (১৪)। যাওয়া আসার পথে জুনাঈদকে পিস পিস করে ফেলার হুমকি দেয় মুসার শিশু পুত্র রিয়াদ (১৬)। বিষয়টি দাদুকে জানায় জুনাঈদ। দাদু বাহার মিয়া নামের জনৈক ব্যক্তিকে নিয়ে মুসার বাড়িতে যান। মুসাকে হুমকির বিষয়টি জানানোর পর আরো উত্তেজিত হয়ে ওঠে রিয়াদ। রিয়াদ চিৎকার করে বলতে থাকে, বলছি কুবামু কুবামু অই। বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে জুনাঈদের বৃদ্ধ দাদুকে ধাক্কা মারেন মুসা। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন আব্দুর রোপ মিয়ার স্ত্রী রীনা বেগম (৪০)। রীনাকে ঘুষি মারেন মুসা। এতে রীনার ঠোঁট ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। ঠোঁটে বারটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আবারও মারধরের ঘটনা ঘটে। আহত হন মুছার স্ত্রী মোছা. রিনা আক্তার (৩৯)। স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মুছা মিয়া বাদী হয়ে রাতেই সরাইল থানায় একটি মামলা করেন। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে (১টার দিকে) আহত রীনা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। নিজ বসত ঘরে ঘুমিয়ে ছিল রীনার শিশু পুত্র রাকিব (১৫ বছর, ৫ মাস, ২৫ দিন)। রাকিবকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকাল ৩টার দিকে শিশু রাকিবকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আবু তাহের শিশু রাকিবকে শুক্রবার গভীররাতে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে বলেন, তাৎক্ষণিক তথ্য নিতে পারিনি। স্বজনদের কাউকে না পাওয়ায় রাকিবের বয়স পরে ১৬ বছর লিখে আদালতে পাঠিয়েছি। আদালত আদেশ দিলে সংশোধনাগারে পাঠাব। ব্রিটিশ কাউন্সিলের পিফরডি প্রকল্পের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সহায়ক (ডিএফ) মোছা. খোদেজা বেগম বলেন, জাতীসংঘ শিশু অধিকার সনদ ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ১৭ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়স পর্যন্ত প্রত্যেক মানব সন্তানই শিশু। আইনি পক্রিয়ায় তারতম্য, অধিকার নিশ্চিতকরণসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তিতে শিশুদের জন্য কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, আমাদের দেশে ১৭ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়স পর্যন্ত শিশু। অপরাধ করলে শিশুকে হ্যান্ডকাপ পড়ানো যাবে না। উপজেলা/ জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে অপরাধী শিশুকে শিশু কিশোর সংশোধনাগারে প্রেরণ করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সরাইলে মারধরের মামলায় শিশু গ্রেপ্তার আদালতে প্রেরণ

আপডেট সময় : ০৮:২৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২২

মাহবুব খান বাবুল: সরাইল থেকে:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো. রাকিব হোসেন (১৫ বছর, ৫ মাস, ২৫ দিন) নামের এক শিশুকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ। রাকিবের জন্ম নিবন্ধন নং-২০০৭১২১৯৪৯০০২৫৮৫২। গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার মলাইশ গ্রামে অভিযান করে নিজের বাসভবনে ঘুমন্ত অবস্থায় আবু ছালেকের ওই শিশু পুত্রকে গ্রেপ্তার করেন সরাইল থানার এস আই মো. জয়নাল। শিশু অপরাধীকে স্থানীয় সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে শিশু কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর বিধান। গতকাল শনিবার মামলার এজহার ও প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে শিশু রাকিবের বয়স ১৯ বছর রেকর্ড করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ, মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আবুল ছালেক ও মুসা মিয়ার বাড়ি পাশাপাশি। গত শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশে জমিতে ধান কাটছিলেন ছালেক। বাবার কাজে সহযোগিতা করছিল শিশু জুনাঈদ (১৪)। যাওয়া আসার পথে জুনাঈদকে পিস পিস করে ফেলার হুমকি দেয় মুসার শিশু পুত্র রিয়াদ (১৬)। বিষয়টি দাদুকে জানায় জুনাঈদ। দাদু বাহার মিয়া নামের জনৈক ব্যক্তিকে নিয়ে মুসার বাড়িতে যান। মুসাকে হুমকির বিষয়টি জানানোর পর আরো উত্তেজিত হয়ে ওঠে রিয়াদ। রিয়াদ চিৎকার করে বলতে থাকে, বলছি কুবামু কুবামু অই। বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে জুনাঈদের বৃদ্ধ দাদুকে ধাক্কা মারেন মুসা। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন আব্দুর রোপ মিয়ার স্ত্রী রীনা বেগম (৪০)। রীনাকে ঘুষি মারেন মুসা। এতে রীনার ঠোঁট ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। ঠোঁটে বারটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আবারও মারধরের ঘটনা ঘটে। আহত হন মুছার স্ত্রী মোছা. রিনা আক্তার (৩৯)। স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মুছা মিয়া বাদী হয়ে রাতেই সরাইল থানায় একটি মামলা করেন। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে (১টার দিকে) আহত রীনা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। নিজ বসত ঘরে ঘুমিয়ে ছিল রীনার শিশু পুত্র রাকিব (১৫ বছর, ৫ মাস, ২৫ দিন)। রাকিবকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকাল ৩টার দিকে শিশু রাকিবকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আবু তাহের শিশু রাকিবকে শুক্রবার গভীররাতে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে বলেন, তাৎক্ষণিক তথ্য নিতে পারিনি। স্বজনদের কাউকে না পাওয়ায় রাকিবের বয়স পরে ১৬ বছর লিখে আদালতে পাঠিয়েছি। আদালত আদেশ দিলে সংশোধনাগারে পাঠাব। ব্রিটিশ কাউন্সিলের পিফরডি প্রকল্পের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সহায়ক (ডিএফ) মোছা. খোদেজা বেগম বলেন, জাতীসংঘ শিশু অধিকার সনদ ও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ১৭ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়স পর্যন্ত প্রত্যেক মানব সন্তানই শিশু। আইনি পক্রিয়ায় তারতম্য, অধিকার নিশ্চিতকরণসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তিতে শিশুদের জন্য কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, আমাদের দেশে ১৭ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়স পর্যন্ত শিশু। অপরাধ করলে শিশুকে হ্যান্ডকাপ পড়ানো যাবে না। উপজেলা/ জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে অপরাধী শিশুকে শিশু কিশোর সংশোধনাগারে প্রেরণ করতে হবে।