ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভূমি সেবার মানোন্নয়নে এসিজি ও ভূমি কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় সভা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমি ও পরিবেশ সেবার মানোন্নয়নে জেলা পরিষদ ও সনাকের মতবিনিময় সভা সাংবাদিক ফরহাদুল ইসলাম পারভেজ এর চাচা ব্যাংকার লিয়াকত আলীর ইন্তেকাল জানাযা ও দাফন সম্পন্ন স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে বাড়ির আঙ্গিনাসহ চারপাশ নিজ দায়িত্বে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে জেলা পরিষদ প্রশাসকের উদ্যোগে চাকরি ফিরে পেলেন প্রতিবন্ধী পাপন কনিকাড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ প্রশাসককে নোঙর বাংলাদেশের ফুলেল শুভেচ্ছা তরী বাংলাদেশের সবুজ অভিযাত্রা: শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ নোঙর বাংলাদেশের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান এমপি শ্যামলের চেক জালিয়াতি মামলায় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

সরাইলে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২ ১৪১৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিদ্যুৎ কেড়ে নিল আলমাছ ভূঁইয়া (১৪) ওরফে ইফরাত নামের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর প্রাণ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার দেওড়া গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে। আলমাছ উপজেলার দেওড়া পূর্বপাড়া ভূঁইয়া বাড়ির মো. হাকিম ভূঁইয়ার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে আলমাছ ছিল সবার বড়। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা আলমাছকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ছিল পিতা মাতার। আকস্মিক এক ঝড়ে পরিবারটির স্বপ্ন ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছে। পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠছে ওই বাড়ির পরিবেশ। চোখের জলে ভাসছে প্রিয় সহপাঠিরা। সমগ্র গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, পিতা হাকিম ভূঁইয়া প্রাইভেট চাকরি করেন। তার তিন ছেলে। আলমাছ ভূঁইয়া (১৪), আরাত (১১) ও তোয়াফ (০৮)। আলমাছ পড়ত নবম শ্রেণিতে। আয়াত ৬ষ্ট ও তোয়াফ তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। ছেলেদের পড়া লেখা নিয়ে বরাবরই স্বপ্ন দেখতেন হাকিম ভূঁইয়া। যত কষ্টই হউক সন্তাদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। নিজে কঠোর পরিশ্রম করলেও সন্তানদের কষ্ট দেননি। বুঝতে দেননি অভাব কি? সবার বড় ছিল আলমাছ। তাই আলমাছকে ঘিরে অনেক স্বপ্নও ছিল পরিবারটির। এক সময় পড়া লেখা শেষ করে বড় চাকরি করবে আলমাছ। পিতার মত সংসারের হাল ধরবে। ছোট দুই ভাইকে আদর স্নেহ ও ভালবাসা দিয়ে মানুষ করবে। কে জানত এক নিমিষে সকল স্বপ্ন ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যাবে? বিদ্যুৎ সবকিছু কেড়ে নিল ওই পরিবারটির। আলমাছদের বসত ঘরের পেছনেই ছিল একটি পেয়ারা গাছ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মায়ের অজান্তেই ওই পেয়ারা গাছের ডাল কাটতে দা নিয়ে যায় আলমাছ। তাদের ঘরের বিদ্যুতের সার্ভিস ক্যাবলটি টানা ছিল ওই পেয়ারা গাছের মধ্য দিয়েই। বিষয়টি খেয়াল করেনি সে। পুরো বডি লোহার তৈরী দা দিয়ে ডাল কাটছিল। হঠাৎ দা-এর একটি কুপ সার্ভিস ক্যাবলে পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে আলমাছ। এক সময় নিচে পড়ার বিকট শব্দে মা সহ সকলেই দৌঁড়ে আসেন। তখন আলমাছ আর নড়ছে না। দ্রূত সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলমাছকে মৃত ঘোষণা করেন। তরতাজা কিশোর আলমাছের আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। গোটা পরিবারে চলছে এখন কান্নার রোল। প্রতি মুহুর্তে বাকরূদ্ধ হয়ে পড়ছেন আলমাছের পিতা মাতা। স্বজনদের আহাজারি আর চিৎকারে ভারী থেকে ভারী হয়ে ওঠছে গোটা বাড়ির পরিবেশ। শান্তনা দেওয়ার সাধ্য যে কারোর নেই। কান্নাজড়িত কন্ঠে হাকিম ভূঁইয়া বলেন, আমার জন্য এমন কেয়ামত আল্লাহ কেন দিলেন? কথা ছিল আমার লাশ কাঁধে নিয়ে দাফন করবে আমার বাবা। আজকে উল্টো কেন? আমার কাঁধে কেন ছেলের লাশ? পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টের এই মূহুর্তটি সহ্য করতে পারছি না। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কারো কোন অভিযোগ ছিল না। তারপরও পুলিশ পাঠিয়ে খুঁজ খবর নিয়েছি।

মাহবুব খান বাবুল

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সরাইলে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে শিক্ষার্থীর মৃত্যু পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ

আপডেট সময় : ০৯:২২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ অগাস্ট ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিদ্যুৎ কেড়ে নিল আলমাছ ভূঁইয়া (১৪) ওরফে ইফরাত নামের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর প্রাণ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার দেওড়া গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে। আলমাছ উপজেলার দেওড়া পূর্বপাড়া ভূঁইয়া বাড়ির মো. হাকিম ভূঁইয়ার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে আলমাছ ছিল সবার বড়। মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা আলমাছকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ছিল পিতা মাতার। আকস্মিক এক ঝড়ে পরিবারটির স্বপ্ন ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়েছে। পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠছে ওই বাড়ির পরিবেশ। চোখের জলে ভাসছে প্রিয় সহপাঠিরা। সমগ্র গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, পিতা হাকিম ভূঁইয়া প্রাইভেট চাকরি করেন। তার তিন ছেলে। আলমাছ ভূঁইয়া (১৪), আরাত (১১) ও তোয়াফ (০৮)। আলমাছ পড়ত নবম শ্রেণিতে। আয়াত ৬ষ্ট ও তোয়াফ তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। ছেলেদের পড়া লেখা নিয়ে বরাবরই স্বপ্ন দেখতেন হাকিম ভূঁইয়া। যত কষ্টই হউক সন্তাদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। আর সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। নিজে কঠোর পরিশ্রম করলেও সন্তানদের কষ্ট দেননি। বুঝতে দেননি অভাব কি? সবার বড় ছিল আলমাছ। তাই আলমাছকে ঘিরে অনেক স্বপ্নও ছিল পরিবারটির। এক সময় পড়া লেখা শেষ করে বড় চাকরি করবে আলমাছ। পিতার মত সংসারের হাল ধরবে। ছোট দুই ভাইকে আদর স্নেহ ও ভালবাসা দিয়ে মানুষ করবে। কে জানত এক নিমিষে সকল স্বপ্ন ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যাবে? বিদ্যুৎ সবকিছু কেড়ে নিল ওই পরিবারটির। আলমাছদের বসত ঘরের পেছনেই ছিল একটি পেয়ারা গাছ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মায়ের অজান্তেই ওই পেয়ারা গাছের ডাল কাটতে দা নিয়ে যায় আলমাছ। তাদের ঘরের বিদ্যুতের সার্ভিস ক্যাবলটি টানা ছিল ওই পেয়ারা গাছের মধ্য দিয়েই। বিষয়টি খেয়াল করেনি সে। পুরো বডি লোহার তৈরী দা দিয়ে ডাল কাটছিল। হঠাৎ দা-এর একটি কুপ সার্ভিস ক্যাবলে পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়ে আলমাছ। এক সময় নিচে পড়ার বিকট শব্দে মা সহ সকলেই দৌঁড়ে আসেন। তখন আলমাছ আর নড়ছে না। দ্রূত সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলমাছকে মৃত ঘোষণা করেন। তরতাজা কিশোর আলমাছের আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। গোটা পরিবারে চলছে এখন কান্নার রোল। প্রতি মুহুর্তে বাকরূদ্ধ হয়ে পড়ছেন আলমাছের পিতা মাতা। স্বজনদের আহাজারি আর চিৎকারে ভারী থেকে ভারী হয়ে ওঠছে গোটা বাড়ির পরিবেশ। শান্তনা দেওয়ার সাধ্য যে কারোর নেই। কান্নাজড়িত কন্ঠে হাকিম ভূঁইয়া বলেন, আমার জন্য এমন কেয়ামত আল্লাহ কেন দিলেন? কথা ছিল আমার লাশ কাঁধে নিয়ে দাফন করবে আমার বাবা। আজকে উল্টো কেন? আমার কাঁধে কেন ছেলের লাশ? পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টের এই মূহুর্তটি সহ্য করতে পারছি না। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কারো কোন অভিযোগ ছিল না। তারপরও পুলিশ পাঠিয়ে খুঁজ খবর নিয়েছি।

মাহবুব খান বাবুল