ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কর্তৃক আয়োজিত স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে সাত দিনব্যাপী মুক্তির উৎসব ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী মেলা শুরু হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গত ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ ২০২২ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ উৎসব চলছে। মেলায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দীর্ঘ বিরতির পর নাটকের আগমন ঘটে। নাটকের আগমনে শহরের বোদ্ধাদের মাঝে উচ্ছাস সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক সময় নাটকের অবস্থান শক্ত থাকলেও সামাজিক ও রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণে নাটকে দীর্ঘসময় ভাটা পড়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান অন্তর্ভুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাট্য সংস্থা (ব্রানাস), সাহিত্য একাডেমি ও আশুগঞ্জ গণনাট্য পরিষদসহ ৩টি নাট্যদল থাকলেও বর্তমানে সাহিত্য একাডেমিই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে সাহিত্য একাডেমিতে নাটকের সুবাতাস বইছে। তারই ধারাবাহিকতায় সাহিত্য একাডেমির প্রযোজনায় সত্য ঘটনা অবলম্বনে সংগঠনের সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন রচিত ও আল আমিন শাহীনের নির্দেশনায় নাটক “রক্তাক্ত-৭১” প্রদর্শিত হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দীর্ঘ সময় নাটকের ভাটা পড়েছিল। এ শহরের নাটকের কথা উঠলেই সাহিত্য একাডেমির নামটা উচ্চারিত হয়। আমরা আবার চেষ্টা করছি নাটকের আবহ তৈরি করার। সংগঠনের সভাপতি কবি জয়দুল হোসেনের লেখা নাটকটি আমরা মঞ্চে আনার জন্য টানা বিশ দিন পরিশ্রম করে আজ আমরা মঞ্চায়িত করতে পেরে মনে একটি প্রশান্তি ফিরে এসেছে। রাত তখন ১০টা বাজে, যখন মাঠ ভর্তি দর্শকদের রিয়েকশন আর কমেন্টগুলো পাচ্ছিলাম সেই অনুভূতি প্রকাশ করার ভাষা আমার জানা নাই। সাহিত্য একাডেমির নির্বাহী সদস্য জামিনুর রহমান বলেন, থিয়েটার আসলে কী? বা থিয়েটার কেন করা উচিত। জার্মান নাট্যতত্ত্ববিদ ব্রেখটের মতে, থিয়েটার হলো মানবিক যুক্তিবোধকে শক্তিশালী করার এবং গোটা জাতিকে আলোকিত করার সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রত্যক্ষ মাধ্যম। ব্রেখটের কথা অনুসরণে বলা যায়, সরকার যদি বাংলাদেশের জেলা-উপজেলা ইউনিয়ন-গ্রাম পর্যায়ে নাটকের দল গঠনে উৎসাহিত করে ও থিয়েটার হল নির্মাণ করে দিয়ে অর্ধেক ভাড়ায় নাটক প্রদর্শনের ব্যবস’া করা দিতো তাহলে এ দেশটি ক্রমে সভ্যতার শিখরে পৌঁছে যাবে অনায়াসে। আমাদের দেশে রাজনৈতিক সভা, বিভিন্ন ধর্মীয় সভা ও রাস্ট্রের উন্নয়ন প্রদর্শন সভা করে যে পরিমান অর্থ খরচ করা হয় দিনশেষে এগুলো কোনো কাজেই আসে না৷ যদি আসতো তাহলে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও ঘুষ দুর্নীতিসহ আরো নানা বিষয়ে এমন দুরবস’া বিরাজ করতো না।
নাট্যকার কবি জয়দুল হোসেন বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের এই উৎসবে বর্তমান প্রজন্ম অনেকেই সঠিক ইতিহাস জানেনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী রাজাকারদের সহযোগিতায় আমাদের অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও এমন অজস্র সত্য ঘটনা রয়েছে। আর এমন সত্য ঘটনা অবলম্বনের ধারাবাহিকতায় রক্তাক্ত-৭১ নাটকটি রচনা করেছি। নাটক মঞ্চায়িত করতে পেরে মনে এক অন্যরকম তৃপ্তি পেয়েছি। নাটকের শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন পাভেল রহমান। নাটকে অভিনয় করেন, জামিনুর রহমান, নাঈম রহমান, নুরুল আমিন, সাথী ইসলাম, রিপন দেবনাথ, সৈকত হোসেন জয়, সানজিদা আকতার, নূর এহতেশাম মাহদী, রোকসানা আকতার তৃপ্তি, সাব্বির আহমেদ, সাব্বির মিয়া, বিনয়, সৈয়দ সরকার প্রমূখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here