সরাইলে বিপ্লবী উল্লাসকর দত্তের বাড়িটি পরিদর্শন করলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের টীম

0
73
বিলীন হতে চলেছে বিপ্লবী উল্লাসকর দত্তের পৈত্রিক ভিটার স্মৃতি
বিলীন হতে চলেছে বিপ্লবী উল্লাসকর দত্তের পৈত্রিক ভিটার স্মৃতি

মাহবুব খান বাবুলঃ সরাইল থেকেঃ

অবশেষে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ বিপ্লবী উল্লাসকর দত্তের সরাইলের পৈতৃক ভিটিটি পরিদর্শন করে গেলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি টীম। আজ দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত হাসিবুল হাসানের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের ওই টীমটি বাড়িটি সরজমিনে ঘুরে গেছেন। বিকেলে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে যান। সেখানে তারা একটি ফরম জমা দিয়ে সেটি পূরণ করে প্রেরণের জন্যে বলে গেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতর সূত্র জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে হাসিবুল হাসান নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪ সদস্যের টীমটি উল্লাসকর দত্তের কালীকচ্ছের দুই শতাধিক বছরের পুরাতন ঐতিহাসিক বাড়িটিতে যান। তারা সরজমিনে দুই ঘন্টারও অধিক সময় ধরে ঘুরে ফিরে বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন কাজ শেষ করে তারা ৩ টার দিকে চলে যান সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে। নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে সরাসরি সাক্ষাত করে এ বিষয়ে কথা বলেন। পরে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি ফরম দিয়ে তা পূরণ করে পাঠানোর কথা বলেন। এ বিষয়ে পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথেও কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দীন বলেন, বাড়িটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা। স্থানীয় লোকজনের মতামত ও বর্তমান অবস্থা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের টীমকে বলেছি। উপজলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দীন ঠাকুর বলেন, সরাইলের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের দাবী উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বীর পুরুষের বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সংরক্ষণ করুন। উল্লাসকর দত্তের স্মৃতি রক্ষার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হউক। যাতে করে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ব্রিটিশ বিরুধী আন্দোলনের ইতিহাস ও উল্লাসকর দত্তের দেশ প্রেমের বীরত্বগাঁথা ইতিহাস জানতে পারে। এই স্মৃতি থেকে যেন ভবিষ্যত প্রজন্ম দেশ প্রেমে উদ্ভুদ্ধ হতে পারে। এ দাবী শুধু সরাইলের নয়। এই দাবী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ সমগ্র বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতি সামাজিক সংগঠন ও স্বাধীনতাকামী মানুষের গণ দাবী। প্রসঙ্গতঃ সম্প্রতি উল্লাসকর দত্তের বাড়িটির সামনের অংশে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এতে করি চিরতরে বিহীন হয়ে যাবে ঐতিহাসিক ওই বাড়িটি। এরই প্রতিবাদে ও বাড়িটিকে সরকারী ভাবে সংরক্ষণের দাবীতে বিভিন্ন সভা সমাবেশ মানববন্ধন করছেন। কেউ কেউ স্মারকলিপিও দিচ্ছেন। দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় এ বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here