হাত-পা বেঁধে পিকআপ থেকে অনুমান ২৬৬ কেজি পাবদা মাছ ছিনতাই ।

মোঃ নজরুল ইসলাম (৩৮), পিতা-মৃত হান্নান মুন্সী, সাং-শর্শী, থানা-ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা-ময়মনসিংহ পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী। বিগত ৬/৭ বৎসর যাবত ঈশ্বরগঞ্জ থানা এলাকা হতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আখাউড়া (তন্তর বাজার),কুমিল্লা কোম্পানীগঞ্জসহ বিভিন্ন মাছের আড়ৎ এ মাছ বিক্রি করে আসছে। গত ২২/০৯/২০১৯খ্রিঃ রাত অনুমান ১১.৩০ ঘটিকায় পিকআপ নং ঢাকা মেট্রো-ন-২০-১৬৩৩ এর চালক মোঃ আরশাদ (২৫), পিতা-মৃত বিল্লাল হোসেন, সাং-সাদারপাড়া ও পিকআপের হেলপার ওয়াসিম আকরাম (২২), সাং-কুমড়া শাশন, উভয় থানা- ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা-ময়মনসিংহ ঈশ্বরগঞ্জ হতে ১৩৩ টি সাদা রংয়ের পলিব্যাগে প্রায় ২৬৬ কেজি পাবদা মাছ (মূল্য অনুমান ৮০,০০০/- টাকা) নিয়ে কুমিল্লা কোম্পানীগঞ্জ এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। ২২/০৯/২০১৯খ্রিঃ তারিখ দিবাগত রাত অনুমান ০২.১৫ ঘটিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানাধীন পুনিয়াউট রেলক্রসিং এর কাছাকাছি পৌছলে পিছন দিক হতে একটি পিকআপ মাছ ভর্তি উক্ত পিকআপকে অনুসরণ করে। একই তারিখে রাত অনুমান ০২.৪৫ ঘটিকায় মাছ ভর্তি পিকআপটি আখাউড়া থানাধীন ধরখার ইউপিস্থ,কুমিল্লা টু সিলেট মহাসড়কের তন্তর বাজারের কাছাকাছি সাত পুকুরপাড় নামক স্থানে পৌছামাত্র পিছনে আসা পিকআপটি তাদের পিকআপের সামনে ব্যারিকেড দেয়। মাছ ভর্তি পিকআপটি বাধাপ্রাপ্ত হলে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে পড়ে। গতিরোধকারী পিকআপ হতে ৭/৮ জন দুস্কৃতিকারী লোহার রড, চাপাতি, চাক্কু, লোহার পাইপ দিয়ে মাছ ব্যবসায়ী, পিকআপের ড্রাইভার ও হেলপারকে মারপিট করে এবং চাকু দিয়ে চালকের হাটুতে জখম করে। দুস্কৃতিকারীরা এক পর্যায়ে চালকের পকেটে থাকা ০১টি সিম্ফনী মোবাইল সেট, হেলপারের ব্যবহৃত ০১টি লাভা মোবাইল সেট এবং বাদীর পকেটে থাকা নগদ ৭,০০০/-টাকা নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রশি দিয়ে তাদের হাত-পা বেঁধে পিকআপে থাকা অনুমান ২৬৬ কেজি পাবদা মাছ দুস্কৃতিকারীদের পিকআপে উঠিয়ে রাত্র অনুমান ০৩.০০ ঘটিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে চলে যায়। আসামীরা চলে যাওয়ার পর তাদের শোর-চিৎকারে রাস্তায় চলাচলরত অন্য পিকআপ গাড়ির ড্রাইভার হেলপার গাড়ি থেকে নেমে তাদের হাতের বাঁধন খুলে দেয়।
উক্ত ঘটনাটি আখাউড়া থানা জানতে পেরে উক্ত সংবাদ প্রাপ্তির পর পর আখাউড়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থানা পুলিশ মামলার বাদী নজরুলকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাপকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও পাশ্ববর্তী জেলা সমূহে মাছ বিক্রির হাটে উক্ত মাছ বিক্রির জন্য নেওয়া হয়েছে কিনা মোবাইলে খোঁজ খবর নেওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশ ও মোঃ নজরুল ইসলাম জানতে পারে যে, সরাইল থানাধীন শাহাবাজপুর মাছ বাজারে মোঃ কাউয়ুম, পিতা মৃত শাহ আলম,সাং-বিরাসা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উক্ত মাছ বিক্রি করার জন্য অবস্থান করছে। তাৎক্ষনিক মাছ বাজারের লোকজনকে খবর দিলে তারা কাউয়ুমকে আটক করে দ্রুত পুলিশ সেখানে পৌছে কাইয়ুমকে আটক করে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জানতে পারে যে, গত ২২/০৯/১৯খ্রিঃ তারিখ রাত অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুনিয়াউট হতে সাভার থানাধীন তালবাগ এলাকার মৃত সোলেমান মোডল এর ছেলে মোঃ কামাল হোসেন (৩৫),পুনিয়াউট এলাকার মৃত শিবু মিয়ার ছেলে চ ল (৩০) একটি লাল রংয়ের পিকআপে উঠে চ ল পিকআপটি চালিয়ে কাউতলী স্টেডিয়াম এলাকায় আসে। সেখানে কাইয়ুম ও সালাউদ্দিন আসে। সালাউদ্দিন তার পিকআপ দিয়ে ধাক্কা দিয়ে চ লের পিকআপকে চালু করে। এরপর চ লের পিকআপটি চালায় কাইয়ুম। কাইয়ুমের পাশে আকাশ ও সালাউদ্দিন বসে। কামাল ও চ ল পিকআপের পিছনে বসে। কাইয়ুম পিকআপ চালিয়ে বিশ্বরোড় মোড়ে তেল নিয়ে দাড়িয়ে থাকে । এর পর কাইয়ুম উক্ত মাছের পিকআপকে অনুসরন করার একপর্যায়ে ধাওয়া দিতে থাকে। এরপর মাছের পিকআপটিকে ঘটনাস্থলে ধাক্কা দিয়ে গতিরোধ করে মাছের পিকআপে থাকা লোকজনকে আঘাত করে রশি দিয়ে বেঁেধ উক্ত পিকআপে থাকা মাছ গুলো তাদের লাল পিকআপে তুলে পুনিয়াউট এলাকায় এসে পুনরায় সালাহ উদ্দিনের পিকআপে তোলে বিক্রির জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে থাকে । একপর্যায়ে তারা শাহবাজপুরে উক্ত মাছ বিক্রির জন্য কাইয়ুমকে রেখে বাকি সবাই চলে আসে। উক্ত ঘটনার বিষয়ে মোঃ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে আখাউড়া থানার মামলা নং- ৩৪ তারিখ- ২৪/০৯/২০১৯খ্রিঃ ধারা- ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড রুজু করে।
উক্ত ঘটনাটি আখাউড়া থানা কর্তৃক জানতে পেরে পুলিশ সুপার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জনাব মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করার জন্য আখাউড়া থানা ও উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। উক্ত নির্দেশনার আলোকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, (প্রশাসন ও অপরাধ) (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন ,পিপিএম-সেবা এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল, মোহাম্মদ রেজাউল কবির , অফিসার ইনচার্জ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা, মোঃ সেলিম উদ্দিন, অফিসার ইনচার্জ আখাউড়া থানা, রসুল আহম্মেদ নিজামী, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা মোঃ আতিক রহমান, ০২নং পুলিশ ফাঁড়ী, পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ সোহাগ রানা, আখাউড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আরিফুল আমিন, ইনচার্জ দরখার ফাঁড়ী মোঃ মাসুদ আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) ইশতিয়াক আহম্মেদ,এসআই (নিরস্ত্র) সফিক বাবু, এসআই (নিরস্ত্র) নারায়ন চন্দ্র দাশ,এসআই (নিরস্ত্র), ধর্মজিৎ এর সমন্বয়ে মোট ০৪টি টিম গঠন করা হয়।
গ্রেফতারকৃত কাইয়ুমের দেয়া তথ্য মতে পুলিশ সুপার এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন এর নেতৃত্বে গঠিত ০৪টি টিম ব্যাপক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ পূর্বক ঘটনার সাথে জড়িতদের অবস্থান নির্ণয় করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থানে একযোগে ২৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে ০১। পুনিয়াউটের বাহার চিশতির ছেলে জুনাইদ বাহার প্রকাশ আকাশ ০২। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শেরপুর ফুলবাড়িয়ার ফারুকের ছেলে সালাহ উদ্দিন (২৪) ও ০৩। ঢাকার সাভার থানার মৃত সোলেমানের ছেলে কামাল হোসেন (৩৫ কে গ্রেফতার করেন এবং ঘটনায় ব্যবহৃত সালাহ উদ্দিনের পিকআপ ঢাকা মেট্টো-ন-১৮-৭৯৬৯ আটক করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) এস.এম মাসুদ আলম চৌধুরী, ইনচার্জ, ধরখার পুলিশ ফাঁড়ী ধৃত আসামী মোঃ কাইয়ুম এর স্বীকারোক্তি মতে ২৩/০৯/২০১৯খ্রিঃ ১৮.৪৫ ঘটিকায় লুণ্ঠিত মাছের বিক্রয়লদ্ধ বিসমিল্লাহ মৎস্য আড়ৎ হতে ২৬,৩৭৪/-টাকা, মেসার্স মেঘনা মৎস্য আড়ৎ হতে ৯০৫৫/-টাকা এবং মেসার্স তিতাস মৎস্য আড়ৎ হতে ১২,৫৭৬/-টাকা সর্বমোট ৪৮,০০৫/- টাকা জব্দ করেন।
অভিযুক্ত জুনায়েদ বাহার @ আকাশ ও কামাল হোসেন বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ পূর্বক জবানবন্দি প্রদান করেন। ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।

digital

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Next Post

আজ সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন

রবি সেপ্টে. 29 , 2019
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হলেন মাহবুব আলম…………. স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা […]

শিরোনাম