আবারও ভুল চিকিৎসার শিকার খ্রীষ্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতাল

0
47

আদালতে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল : অবৈধ ডিগ্রীও ব্যবহার করছেন ডাক্তাররা

ডিঃ ব্রাঃ ডেক্স॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খ্রীষ্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে আবারও ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন পাপিয়া নামের আর এক রোগী। আদালতে দায়ের করা মামলার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। আদালতের নির্দেশে জেলার সিভিল সার্জনের গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের তদন্ত করে গত ১২ জানুয়ারী আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। শুধু ভুল চিকিৎসা নয়, হাসপাতালের চিকিৎসকরা অবৈধভাবে বিভিন্ন ডিগ্রী ব্যবহার করছেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এই হাসপাতালটিতে সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং অন্যান্য আনুসাঙ্গিক ব্যবস্থা না থাকার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর আগে ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেন স্কুল শিক্ষিকা নওশীন আহমেদ দিয়া (২৯) কে ভুল চিকিৎসা ও ঔষধ প্রয়োগে মৃত্যু ঘটনার অভিযোগে হাসপাতালটির পরিচালক ডাক্তার ডিউক চৌধুরী ও তার হাসপাতালে কর্মরত দুই চিকিৎসক অরুনেশ্বর পাল অভি ও মো: শাহাদাত হোসেন রাসেল ১ জানুয়ারি জেলে যান। পাপিয়াকে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে তার পিতা আবুল খায়েরের মামলায় ডা. ডিউক চৌধুরী, হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. এঞ্জেলা চৌধুরী, ডা. অরুনেশ্বর পাল ও ডা. তনুশ্রী রায়কে আসামী করা হয়। আদালতের নির্দেশে জেলার সিভিল সার্জন ৫ ডিসেম্বর ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাসুম ইফতেখারকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন ডা. ফৌজিয়া আখতার, ডা. মোঃ মাহমুদুল হাছান, সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী মোঃ জাহিদুল হক। তদন্ত কমিটি ১৭ ডিসেম্বর তদন্ত কার্য্যক্রম সম্পন্ন করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, রোগীর (পাপিয়া) আল্ট্রাসনোগ্রামে সঠিক রিপোর্ট না আসার ফলে রোগীর রোগ নির্ণয় সঠিকভাবে হয়নি এবং পরবর্তী জটিলতার সৃষ্টি হয়। এইরূপ জটিল ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ সনোলজিষ্ট দ্বারা দ্বিতীয়বার আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা উচিত ছিল বলে একমত পোষন করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের ২মার্চ রোগীকে যখন খ্রীষ্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে আনা হয় তখন রোগীকে ভর্তি করা হয়নি। ডিএন্ডসি অপারেশন নোটে ডাক্তার এমএ মজিদের নাম দেখা যায়, কিন্তু তার কোন ব্যবস্থাপত্র পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র ডাক্তার অরুনেশ্বর পালের ব্যবস্থাপত্র দেখা যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ রয়েছে, এমন আধুনিক হাসপাতালে ইমার্জেন্সি অপারেশনের জন্যে সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ আনুসাঙ্গিক কোন ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালের চিকিৎসকগণ এমবিবিএস ডিগ্রীর পর যেসকল ডিগ্রী ব্যবহার করছেন তা বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অনুসারে বৈধ নয়। এরআগে নবীনগরের জালশুকা গ্রামের মোঃ আবুল খায়ের তার মেয়ে পাপিয়ার ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দেড় মাসের অন্তসত্বা অবস্থায় পাপিয়ার তলপেটে প্রচন্ড ব্যাথা হলে খ্রীষ্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কোন পরীক্ষা ছাড়াই হাসপাতালের চিকিৎসকরা পাপিয়ার ডিএন্ডসি করার পরামর্শ দেন এবং ৫৮০০ টাকা ফি নেন। পাপিয়া ও তার স্বজনদের আপত্তির পরও ডিএন্ডসি করেন তারা। কিন্তু ডিএন্ডসি করার সময় তার জরায়ুর রক্তনালী কেটে ফেলা হয়। বাসায় নেয়ার পরপরই প্রচন্ড ব্যাথা ও রক্তপাত শুরু হয়। পুণরায় ওই হাসপাতালে নিয়ে আসলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তির পর পাপিয়ার জটিল অপারেশন করা হয়। ১২ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়। জীবন বাঁচলেও স্বাভাবিক চলাফেরা করার সক্ষমতা হারিয়েছেন পাপিয়া। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহআলম জানান, পাপিয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা হলে আদালত এ বিষয়ে তাকে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেন। তদন্ত কমিটির দেয়া রিপোর্ট ১২ জানুয়ারি আদালতে জমা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১ জুন ভুল চিকিৎসায় পারভীন বেগম (২৮) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয় ডিউকের হাসপাতালে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে