হাত না ধুয়ে যে গ্রামে প্রবেশ নিষেধ

0

গ্রামে প্রবেশের মুখে বাঁশের ব্যারিকেড। তার পাশেই একটি বেসিন। বেসিনের ওপর রাখা ৩টি বোতল। এর একটি হাত ধোয়া এবং শরীরে স্প্রে করার, অন্য দুটি গাড়ি জীবাণুমুক্ত করার।

বেসিনের পানির ড্রামের ওপর সাঁটানো একটি নোটিশ। যাতে লেখা আছে ‘প্রিয় গ্রামবাসী, আসসালামু আলাইকুম। একটি বিশেষ ঘোষণা। সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনার আতঙ্কে সারা বিশ্ববাসী এখন আতঙ্কিত। তাই গ্রামের সর্বসাধারণ ভাই-বোনদের জানানো যাচ্ছে যে, আপনারা সবাই যার যার ঘরে অবস্থান করুন। অপ্রয়োজনে বাইরে ঘুরাঘুরি করবেন না।

গ্রামের মূল রাস্তায় জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুতরাং গ্রাম থেকে বের হওয়ার সময় ও প্রবেশের সময় জীবাণুনাশক স্প্রেটি ব্যবহার করুন। যদি কেউ গাড়ি নিয়ে আসা-যাওয়া করেন তবে উক্ত স্প্রে দিয়ে আপনার গাড়িটিও স্প্রে করবেন। উক্ত কাজটি নিজে করুন এবং অন্যকেও উৎসাহিত করুন।

বি. দ্র. লেখা হয়েছে, উক্ত কাজটি করার ক্ষেত্রে কেউ যদি আপত্তি পোষণ করেন বা কারো সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন তার প্রতি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অতএব, নিজের জীবনকে মূল্যায়ন করুন, গ্রামকে ভাইরাস মুক্ত রাখুন।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সচেতনতা সৃষ্টিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের জালশুকা গ্রামের যুবকদের এই ব্যবস্থা।সোমবার বিকালে এই কার্যক্রম চালুর আগে ২৪ মার্চ নিজের গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় জীবাণুনাশক স্প্রে ছড়িয়েছে তারা।

এই যুবকদের একজন রেজাউল হক বুলু বলেন, গ্রামের ভেতর আসা-যাওয়ার সময় সবাই যেন জীবাণূমুক্ত হতে পারেন সেই জন্য তারা এই ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাছাড়া হুট করে কেউ যেন গ্রামের ভেতর গাড়ি নিয়ে ঢুকে না পড়ে। সে জন্য বাঁশের ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। সেখানে নেমে গাড়ির যাত্রীরা নিজে ও গাড়ি জীবাণূমুক্ত করেই গ্রামে ঢুকবেন। মোট কথা গ্রামে যেন প্রাণঘাতী এই ভাইরাস ঢুকতে না পারে সেটাই আমাদের চেষ্টা। জানা গেছে, জেলার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নে এই গ্রামটিতে আড়াইহাজার লোকের বাস। এর মধ্যে এই সময়ে গ্রামে ৫ জন প্রবাসী রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন ইতালি থেকে আসা।

বুলু আরও জানান, ইতালি আগত ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। বাকি ৪ জনের হোম কোয়ারেন্টিন শেষ হলেও তারা অবাধে ঘোরাফেরা করছেন না। তাছাড়া গ্রামের বাসিন্দা
যারা ঢাকা এবং অন্য জায়গা থেকে এসেছেন তাদেরও আমরা সচেতন থাকার অনুরোধ করেছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-নবীনগর সড়ক থেকেই গ্রামে প্রবেশের এই সড়ক শুরু।
১৫০-২০০ ফুট এগিয়ে একটি বাংলো ঘর, ‘লালকুটির’। এর সামনে বসেই গ্রামে লোকজনের চলাচল নজরে রাখেন স্থানীয় সোহাগ, রিজেন, আলমগীর, মজিবুর, শুভন, রিয়াদ,
দুলন, মামুন, জসিম, ক্যাডেট ইকরাম, রাজু, আরমান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে