বৃহস্পতিবার , ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

হাজার বছর বেঁচে থাকুক শেখ সাহেবের মেয়ে শেখ হাসিনা; প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে হাজেরা

 হাজার বছর বেঁচে থাকুক শেখ সাহেবের মেয়ে শেখ হাসিনা; প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে হাজেরা

ডিঃব্রাঃ
দরিদ্র হাজেরা বেগম (৫৫)। বাড়ি চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামে। সহায় সম্পত্তি কিছুই নেই। নেই স্বামী ও সন্তান। বয়সও হয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তি করেই জীবন-যাপন করছেন। সমগ্র দিন রোদ বৃষ্টি ঝড় উপেক্ষা করে ঘুরেন গ্রাম থেকে গ্রামে। সন্ধ্যায় বা রাতে ফিরেন। তাও অন্যের ঘরে। আজ একজনের ঘরে। কাল আরেক জনের ঘরে। এমনই ভাবে যাযাবরের মত চলছিল হাজেরার জীবন। পেটের আহার যোগাড় করাই কষ্টসাধ্য বিষয়। নিজের জায়গা ও ঘর স্বপ্নেও কল্পনা করেননি হাজেরা। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের সরকার বিনামূল্যে ঘর দিবে।

এমন খবরে নিজের একটি ঘরের স্বপ্ন দেখতে থাকেন হাজেরা। জনপ্রতিনিধি ও পরিচিত জনদের কাছে ধরণা দিতে থাকেন। হাজেরার দৃষ্টিতে অসম্ভব ও অকল্পনীয় বিষয়টিই বাস্তবে রূপ নিতে থাকে। হাজেরা জানতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের গৃহ প্রদানের ব্যবস্থা করছেন। হাজেরার চেষ্টা সফল হয়। নিজের নামটি ঘর পাওয়ার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেন।

এরপর প্রতিদিন খবর নিতে ছুটে যান ইউনিয়ন পরিষদে। ভিক্ষাবৃত্তির ফাঁকে পরিচিত জনদের জিজ্ঞেস করেন কবে আসবে শেখ হাসিনার ঘর? প্রতিদিনই অন্যের ঘরে ঘুমিয়েও নিজের ঘর পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। অবশেষে এসেছে সেই মাহেন্দ্র ক্ষণ। গত ১৮ জুন শুক্রবার হাজেরা খবর পায় ২০ জুন রোববার প্রধানমন্ত্রী ঘর প্রদান কার্যক্রম উদ্ধোধন করবেন। সেইদিন সরাইল থেকে হাজেরাকেও জায়গার কাগজপত্র ও ঘরের চাবি বুঝিয়ে দিবেন ইউএনও। আনন্দে আত্মহারা হাজেরা।

দু’হাত তুলে অনেক ক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে চেয়ে থাকেন। এরপর দু’চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলেন আল্লাহ বেঁচে থাকতে নিজের ঘরে মাথা গোজার ঠাঁই করে দিয়েছেন। সবুর মাবুদের কাছে। হাজার বছর বেঁচে থাকুক শেখ সাহেবের মেয়ে শেখ হাসিনা। “বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” এই স্লোগানকে সামনে রেখে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২০ জুন রোববার সকালে সারাদেশে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৫৩,৩৪০ টি গৃহহীন পরিবারকে (জমিসহ) গৃহ প্রদান (আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প) কার্যক্রমের উদ্ধোধন করেছেন।

সরাইলেও ওইদিন দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩১ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সিরাজুল ইসলাম অডিটরিয়ামে নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের (৩১২) সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদ খালিদ জামিল খানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন-সহকারি পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মো. আনিসুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবু হানিফ, উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক এডভোকেট মো. নাজমুল হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবদুর রাশেদ।

উপস্থিত ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফারজানা প্রিয়াংকা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসেন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. আনোয়ার হোসেন ও সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ। ঘরের কাগজপত্র বুকে চেপে ধরে হাজেরা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন হাজেরা। কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আহ: নিজের ঘরে থাকব। বেঁচে থাক হাসিনা। সারা দিন ময়ালে ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি করি। রাতে কোথায় ঘুমাব? কার বাড়িতে আশ্রয় নিব? এমন চিন্তায় থাকতাম। শেখ হাসিনা আমাকে জায়গাসহ একটা ঘর দিয়েছেন। তাও আবার চারিদিকে ইটের দেওয়াল।

তারপর আবার ঘরের ভেতরেই টয়লেট ও রান্নাঘর। নিজের একটা ছনের ঘরই ছিল না। এত সুবিধা দুনিয়াতে বেঁচে থাকতে পাব। কখনো এমনটা কল্পনাও করিনি। দু’বেলা খেতে না পারলেও শান্তিতে ঘুমাতে তো পারব। কি যে শান্তি লাগছে। বলে বুঝাতে পারব না। আমার মত আরো শতাধিক নারী পুরূষ তো হাসিনার দেয়া ঘর পেয়েছে। আমি মা শেখ হাসিনা তার পরিবার ও সরকারের জন্য নামাজ পড়ে দোয়া করছি। শেখ সাহেবের মেয়েরে আল্লাহ হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখুক। দোয়া করি ইউএনও ও প্রকল্প স্যারের জন্য।

প্রসঙ্গত: আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের তালিকায় সরাইলে মোট ৬১৮ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন নারী পুরূষের তালিকা করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩১ টি পরিবার গৃহ পেয়েছেন। এর আগে প্রথম পর্যায়ে গৃহ পেয়েছেন ১০২ টি পরিবার । এ পর্যন্ত সরাইলে ১৩৩ টি পরিবার বিনামূল্যে জায়গা ও গৃহ পেলেন। এরমধ্যে চুন্টার আজবপুরে ৫১টি, কালিকচ্ছের কাবিতারায় ১৫টি, পানিশ্বর ইউনিয়নের বিটঘর ও শাখাইতি গ্রামে ১৪টি, শাহজাদাপুর ও মলাইশ গ্রামে ৩০টি ও নোয়াগাঁও বুড্ডা ও আইরল গ্রামে ২৩টি গৃহহীন পরিবার জায়গাসহ গৃহ পেয়েছেন।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, ঘর প্রাপ্তির তালিকায় রয়েছে মোট ৬১৮টি পরিবার। ইতিমধ্যে পেয়েছেন ১৩৩ টি পরিবার। পর্যায়ক্রমে সকলেই পাবেন। আমাদের একটি টিম রয়েছে। তারা প্রতি সপ্তাহে ঘুরেফিরে তাদের অবসস্থা দেখবেন। ঘরে কোন ধরণের সমস্যা থাকলে তাৎক্ষণিক সমাধান করবেন।

মাহবুব খান বাবুলঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *