জোর পূর্বক অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ভেঙ্গে দিয়েছে সংসার স্ত্রীর পরকিয়া প্রেমিক মোস্তাকিমকে কূঁপিয়ে পুলিশ হেফাজতে স্বামী মনির

অটোরিকশা চালক মনির (৪০) ওরফে মন মিয়া। সরাইলের নোয়াগাঁও গ্রামের মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। কৌশলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে মনিরের সুন্দরী স্ত্রী শেফালির সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে বিবাহিত জেলা শহরের বটতলী এলাকার মোস্তাকিম (৩০) নামের এক যুবক। শেফালিকে পেতে স্বামী মনিরকে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেয় সে। ভয়ভীতি দেখাতে থাকে শেফালিকেও। এক সময় শেফালিকে জোর পূর্বক ভোগ করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে মোস্তাকিম। সাজানো সংসারটি ভেঙ্গে সন্তানদের বিপদে না ফেলতে মোস্তাকিমকে হাজারো অনুরোধ করে মনির। কিন্তু এতে মন গলেনি মোস্তাকিমের। শেফালিকে ফুঁসলিয়ে দুই সন্তানসহ বিয়ে করে। মনির বলছে শেফালি আমার স্ত্রী। আমি তাকে ডিভোর্জ দেয়নি। সেও আমাকে ডিভোর্জ দেয়নি। উল্টো আজ সোমবার দুপুরের দিকে মনিরকে ধরে নিতে নোয়াগাঁও গ্রামে মটরবাইকে মহরা দেয় মোস্তাকিম। বিষয়টি জেনে চরম ক্ষুদ্ধ হয় মনির। উৎপেতে বসে থাকে সড়কে। কালীকচ্ছ এলাকায় আসার পরই মোস্তাকিমকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কূপাতে থাকে মনির। মনিরের হামলার ধরণ দেখে আশপাশের লোকজন কাছে আসার সাহস পায়নি। মোস্তাকিমের মাথা পেট পিট উরূ ও লিঙ্গ গুরূতর আহত করে। এক সময় মনির পুলিশের কাছে সেরেন্ডার করে। মনির বলেন, আমার স্ত্রীকে নিয়ে আবার আমাকে মারতে গ্রামে এসেছে। সাজানো সংসার ধ্বংস করেছে ওই নারী লোভী। তাই জেল ফাঁসি যাই হউক তাকে হত্যা করার উদ্যেশ্যেই কূঁপিয়েছি। শেফালি ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ৭-৮ বছর আগে সরাইলের নোয়াগাঁও গ্রামের মনির দ্বিতীয় বিয়ে করেছে নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট গ্রামের অঙ্গু মিয়ার মেয়ে শেফালি বেগমকে (২৬)। স্ত্রীকে নিয়ে জেলা শহরের মধ্যপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় ভালই কাটছিল জীবন। বর্তমানে এক ছেলে (০৭) ও এক কন্যা (০৩) সন্তান তাদের। মনিরের সুন্দরী স্ত্রী শেফালির উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে সেখানকার এক ফল ব্যবসায়ি মোস্তাকিমের (৩২)। মোস্তাকিম শহরের নাটাই এলাকার বটতলীর সামছুল হকের ছেলে। শেফালির ছেলের সূত্রধরে বাসায় নিয়মিত যাতায়ত করে। নিজের বিয়ে সন্তান সবকিছু গোপন রেখে শেফালির সাথে পরকিয়া সম্পর্ক গড়ে তুলে। ফুঁসলিয়ে গত বছরের ২৮ অক্টোবর শেফালিকে বাসা থেকে বের আনে মোস্তাকিম। এর দুইদিন পর বিয়ে করে। বিয়ের পর চেহারা পাল্টে যায় তার। স্ত্রীর সাথে রাত্রী যাপন করতে থাকে। কিন্তু স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভরণপোষণ দেয় না। মন ভেঙ্গে যায় শেফালির। ওদিকে জোর করে স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কাজ। হত্যার হুমকি। অন্যত্র স্ত্রীর বিয়ে। দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ। সবকিছু নিয়ে দিশেহারা মনির। নিজের বাড়ি ঘর নেই। নেই সহায়তা করার কেউ। হাজারো কাকুতি মিনতিও কাজ হয়নি। সাজানো সংসার ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যাওয়ায় ক্রমেই হচ্ছিল মনির। এরই মধ্যে আজ দুপুরের দিকে মনিরকে ধরতে নিজ গ্রামে মোস্তাকিমের মহড়া। চরম ক্ষুদ্ধ হয় মনির। বেঁচে থাকার ইচ্ছেও শেষ হয়ে যায় তার। ১২টার দিকে মোস্তাকিমকে ধরতে উৎ পেতে বসে থাকে মনির। মটরবাইকে করে কালীকচ্ছ আসামাত্র মোস্তাকিমকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কূঁপাতে থাকে মনির। এক পর্যায়ে রক্তাক্ত অবস্থায় গুরূতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মোস্তাকিম। মাথা, পেট, পিঠ, উরূ ও লিঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পায়। লোকজন তাকে দ্রূত সরাইল হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জেলা সদরে প্রেরণ করা হয়। মোস্তাকিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ২৭টি সেলাই দিতে হয়েছে। ঘটনার পরই পুলিশের কাছে ধরা দেয় মনির। শেফালি বলেন, মনির আগে বিয়ে করেছিল। তার ঘরেও সুখে ছিলাম না। জুয়া খেলত। ঠিকমত খাবার দিত না। আমার বড় ছেলেটার সূত্র ধরে মোস্তাকিম আমার সাথে সম্পর্ক করে। তিন বাচ্চার মাকে ধরে এনে বিয়ে করাসহ অনেক তথ্য গোপন রাখে। আমাকে নানা ধরণের হুমকি দেয়। জোর পূর্বক আমার সাথে অসভ্য কাজ করে। ধরা পড়ে। সকলের কথায় বাধ্য হয়ে মোস্তাকিমকে ৩ মাস আগে বিয়ে করি। মনিরকে ডিভোর্জ দিয়েছি। মোস্তাকিমও কোন খরচ দেয় না। দুইজনের কেউই ভাল না। আমি দুইজনেরই বিচার চাই। মোস্তাকিম বলেন, ৪-৫ মাস আগে আমি শেফালিকে বৈধভাবেই বিয়ে করেছি। আজ নাসিরনগর যাওয়ার পথে শেফালির আগের স্বামী মনির আমাকে কূপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শিহাবুর রহমান বলেন, মনিরকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পায়নি।

মাহবুব খান বাবুল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here