সোমবার , ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সরাইল হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীকে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিলেন চিকিৎসক

 সরাইল হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীকে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিলেন চিকিৎসক

ডিঃব্রাঃ
মেডিকেল অফিসার ডা: লিটন কর্মকার। নাম শুনলেই থমকে যান অনেক রোগী। কারণ উনার ব্যবহার ও কথাবার্তায় রোগীরা সন্তুষ্ট নয়। তিনি নাকি স্বাচিব নেতা। তাই কোন কিছুই পরোয়া করেন না। অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে যান তিনি। কথায় কথায় রোগীকে ধমক মারেন। দিনের ১২টার পর রোগী দেখতে বিরক্তবোধ করেন তিনি। ভর্তিকৃত রোগীদের সাথে দূর্ব্যবহার উনার পুরাতন অভ্যাস। যেকোন ধরণের রোগীকে কয়েক ধরণের নিরীক্ষা দিয়ে থাকেন।

এমন অভিযোগ সরাইল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অনেক রোগীর। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি আজ শুক্রবার সকালে বল্লমের আঘাতে আহত ভর্তিকৃত রোগী মোছেদা বেগমকে (৪৫) হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে ধমক দিতে থাকেন। হাসপাতাল না ছাড়লে পুলিশে দেওয়ার হুমকিও দেন। চিকিৎসকের এমন আচরণে পাশের সিটের রোগীরাও ভয় পেয়ে যায়। মোছেদা ও চিকিৎসাধীন রোগীরা জানায়, মোছেদা উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের তেরকান্দা গ্রামের ছোট্রন মিয়া স্ত্রী।

গত সোমবার সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মোছেদাকে মারধর করে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোছেদাকে সরাইল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মোছেদার মাথায় দিতে হয়েছে ৮ টি সেলাই। আর গলার বাম পাশে রয়েছে বল্লমের খুঁচা (গাই)। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে ফোলা জখম। আজ সকালে ডা: লিটন কর্মকার মোছাদাকে হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বলেন। বাড়ি থেকে পুরূষ লোক আসলে চলে যাবেন। মোছেদার এই কথা আরো উত্তেজিত হয়ে পড়েন ওই চিকিৎসক।

তিনি রোগী মোছাদাকে হাসপাতাল না ছাড়লে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেন। চিকিৎসকের এমন চিৎকার ও হুমকিতে ভীত সন্ত্রস্থ্য হয়ে পাশের সিটের রোগীরা। প্রত্যক্ষদর্শী ভর্তিকৃত রোগী রূহেনা বেগম (৪২) বলেন, ডাক্তার সাহেবের ধমকে আমি খুব ভয় পেয়েছি। মন চাইছিল তখন পালিয়ে যায়। শাহেদা বেগম (৬০) বলেন, স্যারে এসেই মোছেদাকে বলেছেন তুমি এখনও আছ। হাসপাতাল থেকে এখন বেরিয়ে যাও। নাটক পাইছ।

মোছেদা তখন বাড়ি থেকে পুরূষ লোক আসেনি বলার সাথেই স্যার আরো রেগে যান। এখন হাসপাতাল না ছাড়লে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেন। এক সময় সিটের মধ্যে লাথি মারার অঙ্গভঙ্গিও করেন। স্যারের চিৎকারে অন্যান্য সিটের রোগীরা ভয় পেয়ে যায়। রোগী মোছেদার স্বামী মো. ছোট্র মিয়া (৫৫) বলেন, আমার স্ত্রীকে গুরূতর আহত অবস্থায় ভর্তি করেছি। সুস্থ্য হয়ে বাড়ি যাওয়ার সময় হলে বড় স্যার বলবেন।

অথবা সংশ্লিষ্ট কোন চিকিৎসক রিলিজের কাগজ দিবেন। কোনটিই তো হয়নি। রোগী হাসপাতালে থাকলে সরকার খাবার দেয়। ঔষধ দেয়। আমাদের মত গরীব মানুষদের সেবা দেয়ার জন্য চিকিৎসকদের সরকার বেতন দেন। একজন চিকিৎসক রোগীর সাথে এমন আচরণ করলে আমরা যাব কোথায়? আমাদের প্রতিপক্ষের ইন্ধনে লিটন স্যার এমন করছেন না তো?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক কর্মচারি জানান, লিটন স্যার রোগীদের সাথে সবসময় রাগারাগি করেন। ধমক দেন। জ্বরের মাত্রা পরিমাপ করতে তিনি রোগীদের বাহিরে ফার্মেসিতে পাঠিয়ে দেন। ১২টার পর রোগী দেখতে বিরক্তবোধ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মচারিদের গালমন্দও করেন।

এ বিষয়ে জানতে মেডিকেল অফিসার ডা: লিটন কর্মকারের মুঠোফোনে ৪-৫ বার ফোন দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. নোমান মিয়া বলেন, ভর্তিকৃত রোগীকে গালমন্দ করা বা পুলিশে দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। অন্যান্য অভিযোগও সঠিক নয়। আমি খুঁজ নিয়ে দেখব।

মাহবুব খান বাবুলঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *