বুধবার , ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সরাইল উপজেলা আ’লীগের তদন্তে পুলিশ ক্যাম্পে হামলায় আ’লীগ সভাপতির ৩ ছেলে জড়িত

 সরাইল উপজেলা আ’লীগের তদন্তে পুলিশ ক্যাম্পে হামলায় আ’লীগ সভাপতির ৩ ছেলে জড়িত

ডিঃব্রাঃ//
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে হরতাল দিয়েছিল হেফাজত ইসলাম। হরতালের আগের দিন ২৭ মার্চ সরাইলের অরূয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে হামলা ও ভাংচুরে ইউপি আ’লীগের সভাপতি মো. আবু তালেবের ৩ ছেলে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠছিল শুরূ থেকেই। ঘটনার আড়াই মাস পর বিষয়টির সত্যতা প্রমাণ করতে তদন্তে নেমেছেন উপজেলা আ’লীগের একটি তদন্ত কমিটি।

গত শনিবার তারা তদন্তে গিয়েছিলেন। দলীয় ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ঘটনাটি সরজমিনে তদন্ত করতে গত শনিবার বিকালে অরূয়াইলে যান তদন্ত টিম। ৫ সদস্যের ওই টিমের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক এডভোকেট নাজমুল হোসেন। তদন্ত টিম ইউপি আ’লীগ ছাড়াও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মী, সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজনের সাথে কথা বলেন।

তদন্ত টিমের সদস্য ও উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান বলেন, তদন্তে হেফাজতের ওইদিনে তান্ডবে সভাপতির ৩ ছেলে ইসমাইল, জয়নাল, জাকারিয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টির প্রাথমিক ভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে অংশ গ্রহনকারী ২৬ জনের মধ্যে ২০-২২ জনই জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা কেউ জামাত হেফাজত ও কেউ বিএনপি’র সক্রিয় কর্মী। আমরা উপজেলা আওয়ামীলীগের আগামী সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলাকে জানিয়ে দিব।

আরেক সদস্য ও উপজেলা আ’লীগের সদস্য হাজী মো. কায়কোবাদ জানান, তদন্তে অংশগ্রহনকারী অধিকাংশ সদস্য উনার ভাই ও ৩ ছেলে তান্ডবে জড়িত থাকার কথা বলেছেন। তারা জামাত হেফাজত ও বিএনপি করার কথা ওঠেছে। উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক নাজমুল হোসেন বলেন, জেলা আ’লীগের নির্দেশে উপজেলা আ’লীগ গত ২৯ মে এক সভায় বসেন। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত শনিবার বিকেলে আমরা অরূয়াইলে গিয়ে তদন্ত করেছি। এখানেই শেষ না। আরো তদন্ত হবে।

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আমরা জেলা কমিটিকে অবহিত করব। পুলিশ, মামলার এজহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে গত ২৭ মার্চ হেফাজতের নেতা কর্মী ও সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অরূয়াইল বাজারে জড়ো হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে অরূয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায় তারা। এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ক্যাম্পটি ভাংচুর করে।

এ ঘটনায় অন্তত ২০ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরের দিন ২৮ মার্চ পুলিশ ক্যাম্পটি প্রত্যহার করে নেন কর্তৃপক্ষ। সরাইল থানার এস আই সজল চন্দ্র মজুমদার বাদী হয়ে ৩১ মার্চ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১২শত লোককে আসামী করা হয়। সভাপতি আবু তালেবের ছেলে ইসমাইলের নাম রয়েছে এজহারে। তবে অন্য দুই ছেলে রয়েছে সন্দেহের তালিকায়। ২৭ মার্চের বিক্ষোভে নেতৃত্বদানকারীদের একজন হচ্ছেন জাকারিয়া। ইতিমধ্যে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আর বিএনপি’র একজন সক্রিয় কর্মী হচ্ছেন জয়নাল আবেদিন।

আবু তালেব বলেন, আমার কোন ছেলেই হেফাজতের তান্ডবে জড়িত নয়। এক ছেলে আগে বিএনপি করত। এখন সেখানে নেই। আগামী নির্বাচনে আমি আ’লীগ থেকে মনোনয়ন চাইব। তাই আমার বিরূদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে একটি মহল। বাজারে আমার ১৬০ টি দোকান ও অফিস রক্ষার জন্য ছেলেরা ওইদিন বাজারে গিয়েছিল। আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীরা এক ছেলেকে মামলায় জড়িছে। আর ২ ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

মাহবুব খান বাবুলঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *