বুধবার , ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সরাইল আওয়ামীলীগের কারিশমা ভোটের নামে তৃণমূলে টাকার খেলা

 সরাইল আওয়ামীলীগের কারিশমা ভোটের নামে তৃণমূলে টাকার খেলা

ডিঃব্রাঃ
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দিতে তৃণমূলের ভোটের নামে নানা কারিশমা দেখিয়েছেন সরাইল আওয়ামীলীগ। আবেদনপত্র বিক্রয় ও জমা থেকে আদায় হয়েছে ৮ লাখ ৪৭ হাজার ৬শত টাকা। বিদ্রোহীর অভিযোগে ভোটের আগেই বাদ দিয়েছেন ৩ প্রার্থীকে। কিন্তু তাদের টাকা ফেরৎ দেননি। ভোটের নামে তৃণমূলে টাকার খেলার অভিযোগ করেছেন একাধিক প্রার্থী। গত রোববার আ’লীগ দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ভোটে অংশ নিতে সরাইলে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার লোক। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের উপস্থিতিতে দিনভর চলেছে এ ভোট।

পছন্দের প্রার্থীকে তালিকায় নিতে ভিন্ন কৌশলের অভিযোগও ওঠেছে। ভোটের সংখ্যা ও পদ্ধতি নিয়ে হয়েছে একাধিক সিদ্ধান্ত। জেলা বা কেন্দ্রের তালিকায় কত জনের নাম যাবে? এ বিষয়টিও পরিস্কার নয় প্রার্থী ও ভোটারদের কাছে। ভোটের বিষয়টি গোপন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ওয়ার্ড কমিটির নেতৃবৃন্দকে। প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট ও ফলাফলে তালিকার অবস্থানও ঘোষণা করতে নারাজ আয়োজক আ’লীগ নেতৃবৃন্দ। ৮ ইউনিয়নের ভোট হলেও শাহজাদাপুরের হয়নি। তথ্য জানতে গেলে ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদককে শুনতে হয়েছে বহিস্কারের হুমকি।

সরজমিনে দলীয় নেতা কর্মী সূত্র জানায়, তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর সরাইলের ৯টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ দলীয় প্রার্থী বাছাই করতে উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক কমিটি গত রোববার আয়োজন করেছে ভোটের। এর আগে প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে দলীয় ফান্ডের জন্য আদায় করেছেন ১৫ হাজার ১শত টাকা। ৫৬ জন থেকে আদায় হয়েছে ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬শত টাকা। অর্ধেক টাকা জেলায় আর বাকি অর্ধেক সরাইলে দলীয় হিসাব খুলে জমা রাখার কথা। বলা হয় প্রত্যেক ইউনিয়নের ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি সম্পাদকসহ ভোটার ২০ জন। ২০ জনের ভোটেই তিনজনের তালিকা করে জেলায় পাঠানো হবে। পরে যাবে কেন্দ্রে। সেখান থেকে দেয়া হবে প্রতীক (নৈাকা)।

ভোটের আগের রাতে প্রত্যেককে ৩টি ভোট প্রয়োগ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। প্রার্থীরা রাতেই ধরণা দিতে থাকে ভোটারদের বাড়িতে। ফল মিষ্টি সাথে গাড়ি ভাড়া। এই ভাড়ার হার অনেক বেশী। কিন্তু ভোটের দিন ১টি/ ২টি ভোটও দিয়েছেন অনেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক প্রার্থী বলেন, রাতে ২ লাখ টাকা নিয়ে বের হলাম। মূহুর্তেই শেষ। যাক আল্লাহ ভোটে প্রথম করেছেন। রোববার সকাল ১১টার দিকে শুরূ হয় ভোট। ২০ জনকে ভেতরে প্রবেশ করান। প্রত্যেক ইউনিয়নের প্রার্থীদের নামের তালিকা কাগজে লিখেন।

প্রত্যেক ভোটারকে দেন একটি কাগজ। পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে রাইট চিহ্ন দিতে বলেন। কাগজগুলো জমা করে গণনা করেন নেতৃবৃন্দ। কিন্তু ফলাফল বলতে চান না। ভোটার আবুল কালামের ছাপাছাপিতে চুন্টা ইউনিয়নের মনিরূল ইসলাম ১২ ভোট পেয়ে তৃতীয় আর ১০ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন শেখ মো. হাবিবুর রহমান। টার্গেট ফিলআপ করতে ওই দুইজনকে যুগ্ম ঘোষণা দেন জলা আ’লীগের সম্পাদক । দুই ভোটের ব্যবধান থাকার পরও যুগ্ম কেন? এমন প্রশ্ন করায় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্পাদক আবুল কালামকে দল থেকে বহিস্কারের হুমকি দেন আল মামুন সরকার। আবুল কালাম বলেন, ভোট নিলেন। ফলাফল ঘোষণা করতে নারাজ। কোথাও ৩ জন।

কোথাও ৪-৫ জনের তালিকা। আবার দুই ইউনিয়নের ভোটই হল না। নিজেদের পছন্দের লোককে নিতে নানা কৌশল। শেষে আল মামুন সরকারসহ সবাই বললেন, ভোট হয়েছে কাউকে বলবেন না। বলবেন মতবিনিময় সভা হয়েছে। এ সবের মানে কি? এত লুকুচুরি কেন? দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের এমন ছলচাতুরিতে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছে। সঠিক কথা বলায় আমাকে দল থেকে বহিস্কারের হুমকি দেয়া হয়েছে। সরাইল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার ও শাহজাদাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, আবেদনপত্র ক্রয় ও জমার সময় আমাদেরকে কিছুই বললেন না। ১৫ হাজার করে টাকা নিলেন। পরবর্তীতে লোকজন নিয়ে আসতে হয়েছে। অথচ ভোটই নিলেন না। টাকাও ফেরৎ দিলেন না।

এ সবের কারণ বুঝলাম না। সদরের প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিদ্রেহী জেনেও টাকা নিলেন কেন? বিদ্রোহীদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে উনাদের কাছে কেন্দ্র থেকে কোন পত্র আসছে কিনা জানাননি। ভোট না গণনা করেই প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় বললেন। এমন নাটক আগে কখনো দেখিনি। কিছু প্রার্থী মনোনয়ন পেতে ৬-৭ লাখ টাকাও নাকি খরচ করেছেন। আমি গরীব মানুষ এত টাকা পাব কোথায়? দলে ত্যাগীদের কোন মূল্যায়ন নেই। তবে টাকার মূল্যায়ন আছে।

উপজেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট জয়নাল উদ্দিন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জেলা/ কেন্দ্রের পত্র/ নির্দেশনা মোতাবেক তৃণমূলের মতামত ও ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। ৩-৫ জনের নাম কেন্দ্রে যাবে। চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবে কেন্দ্রীয় আ’লীগ। ভোটে ভাল করতে না পারায় অনেকে ক্ষোভে অনেক কিছু বলছেন। এক সময় এ গুলো ঠিক হয়ে যাবে। এ বিষয়ে জানতে সরাইল উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক এডভোকেট নাজমুল হোসেনের মুঠোফোনে ( বিকাল- ৩টা ২০ মিনিটে) একাধিকবার ফোন দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মাহবুব খান বাবুলঃ

ডিঃব্রাঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *