চরম অব্যবস্থাপনায় সরাইলে চলছে ১২-১৮ বছর বয়সের শিক্ষার্থীদের টীকা প্রদান কার্যক্রম। অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে প্রতিদিনই কাণায় কাণায় পূর্ণ হয়ে যায় অন্নদা স্কুলের ভেতরের মাঠ। এসি করা মাত্র একটি কক্ষে চলছে টীকার কাজ। ফলে কোন বালাই নেই মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিধির। উপস্থিতির সংখ্যার চেয়ে টীকার সাপ্লাই থাকে কম। দীর্ঘ সময় রোদ্রে দাঁড়িয়ে থেকে শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। স্বজনপ্রীতি ও প্রভাবের কারণে ২ দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরেও টীকা পায়নি ১০ কিলোমিটার দূর থেকে আসা দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। ক্ষুদ্ধ হচ্ছেন অভিভাবকরা। আর শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন পরিস্থিতির শিকার। মজুদ না থাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ হয়ে গেছে টীকা প্রদান কার্যক্রম। অথচ এখনো টীকা না পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার। টীকা পাওয়া সাপেক্ষে আগামী শনিবার থেকে শুরূ হওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দফতর সূত্র জানায়, গত ৯ জানুয়ারি রোববার সকাল থেকে সরাইলে শুরূ হয়েছে শিক্ষার্থীদের কোভিট-১৯ এর প্রতিষেধক টীকা। সরকারি সিদ্ধান্ত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে উপজেলার ২২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৬ হাজার ৫ শত শিক্ষার্থীকে দিতে হবে টীকা।
প্রথম দিনই দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত হয় টীকা কেন্দ্রে। একটি মাত্র কক্ষে এত অধিক পরিমাণ শিক্ষার্থীর টীকা কার্যক্রম মনে হচ্ছিল খুবই ধীরগতি। রোদ্রের মধ্যেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ৪-৫ ঘন্টা। বিরক্ত ও বিব্রতবোধ করছিলেন অনেক অভিভাবক। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। তবে উপজেলা সদরের বাহির থেকে আসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ছিলেন অনেকটাই কোনঠাসা। গত ১১ জানুয়ারি ১০ কিলোমিটার দূর থেকে উপজেলা সদরে টীকা নিতে আসে দেওড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৩ শতাধিক শিক্ষার্থী। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্তরা নামের শিক্ষার্থী বিকেলের দিকে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছিল। দ্রূত হাসপাতালে নিয়ে গেলে জীবন রক্ষা হয় অন্তরার। সেইদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও টীকার সিরিয়াল মিলেনি ওই স্কুলের ৪ শতাধিক ছেলে শিক্ষার্থীর। তাদেরকে পরের দিন সকালে আসতে বলেন কর্তৃপক্ষ। ১২ জানুয়ারি সকাল থেকে দেওড়া স্কুলের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। সেইদিনও তারা পায়নি টীকা। তাদের চোখের সামনে স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করান। একাধারে দুইদিন ঘুরে টীকা না পাওয়ায় চরম ক্ষুদ্ধ হন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অভিভাবক মো. হিমু চৌধুরী ও মো. ইমরান খান বলেন, অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা ১০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে দুইদিন ঘুরেও টীকা না পাওয়া খুবই দু:খজনক। দেওড়ার শিক্ষার্থীদের প্রতি সেখানে সামান্যতম আন্তরিকতা না দেখানো বল প্রয়োগ করে পেছনে ফেলা অব্যবস্থাপনার অংশ। তবে এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদ খালিদ জামিল খান বলেন, দেওড়ার ছেলেরাই আগে টীকা পাওয়ার কথা। আমি পরিস্থিতির শিকার। সরজমিনে না দেখলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝা যাবে না। টীকার সংকটের কারনে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রয়েছে কার্যক্রম। শনিবার থেকে শুরূ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ৪ দিনে মোট ৭ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়েছে টীকা। এখনো বাকী ৯ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. নোমান মিয়া টীকার প্রাথমিক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা ১০ হাজার টীকার চাহিদা দিয়েছি। শনিবারের আগেই টীকা পাব। তাই শনিবার থেকেই টীকা প্রদানের কাজ শুরূ করতে পারব।

মাহবুব খান বাবুল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here