বুধবার , ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সরাইলে ধর্ষণচেষ্টা মামলার সাক্ষী হওয়ায় নির্যাতন ও চাঁদা দাবি

 সরাইলে ধর্ষণচেষ্টা মামলার সাক্ষী হওয়ায় নির্যাতন ও চাঁদা দাবি

ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ধর্ষণচেষ্টা মামলার সাক্ষী হওয়ায় আনসার সদস্যকে নির্যাতন ও চাঁদা দাবির ঘটনায় ওই মামলার প্রধান আসামি জিহাদ মিয়াকে (২৮) গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাঁকে উপজেলার কালীকচ্ছবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। গত বুধবার বিকেলে তাঁকে আদালতে তোলা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জিহাদ মিয়া উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের মনিরবাগ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কালীকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী।

পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ জিহাদ মিয়াসহ তিনজন মিলে কালীকচ্ছ ইউনিয়নের চাকশার গ্রামের এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে গত ২৩ মার্চ আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। ওই মামলার সাক্ষী হয়েছেন চাকসার গ্রামের বাসিন্দা আনসার সদস্য জহিরুল ইসলাম (৩১)। তিনি পিবিআইয়ের কাছে ঘটনার সাক্ষীও দিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হন জিহাদ মিয়া।

গত রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে জিহাদ মিয়া তাঁর বড় ভাই জসিম মিয়া (২৯), ছোট ভাই রবিন (২৫) মিয়াসহ সাতজনে মিলে জহিরুল ইসলামকে কালীকচ্ছবাজার এলাকা থেকে উঠিয়ে নিয়ে জিহাদ মিয়ার কালীকচ্ছ বাজারের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আটকে রাখেন। সেখানে জহিরুল ইসলামকে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যার চেষ্টা করেন। জহিরুল ইসলাম ধর্ষণচেষ্টা মামলার সাক্ষী হওয়ায় জিহাদ মিয়ার পাঁচ লাখ ক্ষতি হয়েছে দাবি করে তিনি ওই টাকা জহিরুল ইসলামের কাছে দাবি করেন। পরে রাত ১০টার দিকে পুলিশ জহিরুল ইসলামকে উদ্ধার করে। এ সময় জিহাদসহ অপহরণকারীরা পালিয়ে যান।

বুধবার দুপুরে জিহাদ মিয়া, তাঁর দুই ভাইসহ সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় নির্যাতন করে চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার বাদী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘জিহাদ মিয়া ও তাঁর পরিবারের লোকজন এলাকায় খুবই প্রভাশালী। কথায় কথায় সাধারণ লোকজনকে পুলিশের ভয় দেখান। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলে এলাকায় বলে বেড়ান। পুলিশের ভয় দেখিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে হয়রানিসহ নানা অপকর্ম করে থাকেন। আমি ভয়ে ঘটনার দুই দিন পর থানায় মামলা করেছি। এখনো ভয়ের মধ্যে আছি। বাজারে যেতে পারছি না।’

সরাইল থানা-পুলিশের জিম্মায় থাকা জিহাদ মিয়া বুধবার বিকেলে সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। জহিরুল ইসলামকে আমি মারধর করিনি। মামলার বিষয়টি নিয়ে আলাপ করার জন্য তাঁকে আমার অফিসে নিছিলাম। আমি তাঁর কাছে টাকাও দাবি করিনি।’

সরাইল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জিহাদ মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এ ছাড়া বুধবার দুপুরে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়েছে। বুধবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *