সোমবার , ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সরাইলে ডাকাত সর্দার গোলাপ গ্রেপ্তার: জনমনে স্বস্থি

 সরাইলে ডাকাত সর্দার গোলাপ গ্রেপ্তার: জনমনে স্বস্থি

ডিঃব্রাঃ
অবশেষে সরাইলে ডাকাত দলের সর্দার ও গডফাদার কুখ্যাত ডাকাত গোলাপ পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের ঘাটুরা এলাকা তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের মনিরবাগ এলাকার অহিদ মিয়ার ছেলে গোলাপ। পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে সে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আত্মগোপন করে জেলা সদরে বসবাস করছিল।

শুধু ডাকাতি নয়। তার বিরূদ্ধে রয়েছে ডাকাত দল গঠন ও কৌশলে ডাকাত দলের সদস্যদের ফাঁদে ফেলে মোটা অংকের টাকা আদায়ের অভিযোগ। গোলাপের বিরূদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা, নাসিরনগর থানা ও সরাইল থানায় ৮টি ডাকাতির মামলা রয়েছে। সরাইলে এক সময় ক্রস ফায়ারের তালিকায় ছিল গোলাপ। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ১৮-২০ বছর বয়স থেকেই ডাকাতি পেশায় জড়িয়ে পড়ে গোলাপ। সেই সময় সরাইল-নাসিরনগর সড়কে ও বিভিন্ন বসত বাড়িতে ডাকাতি করত।

কয়েক বছর পরই গোলাপ ডাকাতের একটি বড় দল গঠন করে বসে। নিজে ডাকাতি করে। পাশাপাশি অন্যান্য দলের ডাকাতির কমিশন নিতে শুরূ করে। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ সেপ্টেম্বর চুন্টার ইটালি বাড়িতে ডাকাতিকালে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায়। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। মামলা নম্বর দায়রা-৪১৭/২০১০ খ্রি. চলমান আছে। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে ডাকাতিকালে কুইট্রা ব্রিজের নিকটে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। মামলা নম্বর-২১৮/২০১১। আস্তে আস্তে সমগ্র জেলার ডাকাত দলের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে গোলাপের।

এক সময় অন্য জেলায়ও ভাড়ায় ডাকাতি করার ডাক পায়। হয়ে ওঠে আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সদস্য। শুধু সিলেটেই গোলাপের বিরূদ্ধে ৪-৫টি মামলা হয়েছে। দেশের অন্যান্য জেলায়ও ডাকাত গোলাপের বিরূদ্ধে মামলা রয়েছে। এক সময় সরাইল এলাকায় বিভিন্ন সড়কের ডাকাত দলের সর্দার ও গডফাদার সেজে বসে। গত ৭-৮ বছর আগে সরাইল-নাসিরনগর সড়ক, সরাইল-অরূয়াইল সড়ক ও হাইওয়ে সড়ককে অশান্ত করে তুলে গোলাপ। দিনে নিজেকে আত্মগোপন রাখে।

গভীর রাতে নোয়াগাঁও ও কালিকচ্ছ এলাকার নির্জন স্থানে ডাকাত দলের সদস্যদের নিয়ে সভা করে। ২-৩ ভাগে বিভক্ত করে ডাকাতির দায়িত্ব দিয়ে চলে যায়। ডাকাত দলের হর্তাকর্তা হিসেবে পুলিশের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয় গোলাপ। পরবর্তীতে নিজেকে রক্ষার জন্য কৌশলে পুলিশের সোর্স হয়ে কাজ করার চেষ্টা করে। শেষ রক্ষা হয়নি। চারিদেকের ডাকাতিতে গোলাপের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় ৫-৬ বছর আগে পুলিশের হিট লিস্টে চলে যায় সে। তখন জেলা শহরে বসে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে।

মাদকের পাশাপাশি জেলার উপজেলা গুলো থেকে ডাকাতি মামলার হাজিরা দিতে আসা ডাকাত দলের সদস্য বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ও জেলে পাঠানোর ভয় দেখায়। টাকা দিলে মিলে ছাড়। না দিলেই ফাঁদে ফেলে। কাউকে মাদক কাউকে মেয়ে দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা কামায় করতে থাকে। এমন শত অভিযোগ করে ডাকাত দলের সমস্যরা। সরাইল থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন যোগদানের পর দেড়/দুই মাসে ১৫-২০ জন ডাকাত গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে পৌরশহরের ঘাটুরা এলাকায় অভিযান চালান ওসি মো. আসলাম হোসেন। অভিযানকালে তিনি দূর্ধর্ষ ও কুখ্যাত ডাকাত গোলাপকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। গোলাপ গ্রেপ্তারের খবরে সরাইল সদর, কালিকচ্ছ, চুন্টা ও নাসিরনগর এলাকার মানুষ স্বস্থির নি:শ্বাস ফেলেছেন। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসেন বলেন, ডাকাতি ও মাদকের সাথে জড়িত ব্যাক্তি সে যত বড় শক্তিশালীই হউক না কেন। কোন ছাড় নেই। আমাদের এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মাহবুব খান বাবুলঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *