সোমবার , ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সরাইলে গণটিকা নিলেন ৫৪০০ জন: রোজিনা নামের এক গৃহিনীকে ডাবল ডোজ

 সরাইলে গণটিকা নিলেন ৫৪০০ জন: রোজিনা নামের এক গৃহিনীকে ডাবল ডোজ

ডিঃব্রাঃ
সরাইলের ৯টি ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রে মোট ৫ হাজার ৪ শত জন নারী পুরূষ নিলেন গণটিকা। আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরূ হয় টিকা প্রদানের কাজ। শেষ হয় বেলা ২টায়। ৬ শত টিকা নিতে প্রত্যেক কেন্দ্রেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল ২-৪ হাজার লোক। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে টিকা না দিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে হাজার হাজার নারী পুরূষকে।

স্বাস্থ্যবিধির বালাই ছিল না কোন কেন্দ্রেই। রোজিনা বেগম (৩৮) নামের এক গৃহিনীকে দেয়া হয়েছে টিকার ডাবল ডোজ। আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন রোজিনা। স্বামী বলছেন স্ত্রী রোজিনার কিছু হলে কাউকে ছাড়বেন না। এর দায়ভার নিতে হবে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগকে। চিকিৎসকরা বলছেন সমস্যা হবে না। সরজমিনে ঘুরে জানা যায়, মহামারি করোনা ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম এলাকায়।

সরকারি সিদ্ধান্তে ১৮ বছর বা তার উর্ধ্ব বয়সি নারী পুরূষকে গণটিকা প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এরই অংশ হিসাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দিক নির্দেশনা ৯টি কেন্দ্রে সকাল থেকে শুরূ হয় টিকা প্রদান কার্যক্রম। প্রত্যেক কেন্দ্রে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ও মাঠ পর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন টিকা প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। তাদেরকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশিল সমাজের লোকজন সহায়তা করেছেন।

প্রত্যেক কেন্দ্রে পূর্ব নির্ধারিত ৬ শত নারী পুরূষকে টিকা দেয়া হয়েছে। সেই হিসাবে মোট ৫ হাজার ৪শত জনকে দেয়া হয়েছে টিকা। তবে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার কারণে প্রতিটি ২-৪ হাজার লোক লাইনে দাঁড়িয়েছিল। ২-৩টি কেন্দ্রে ৫-৬ হাজার লোকের সমাগমও হয়েছে। টিকা দিতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন হাজার হাজার নারী পুরূষ। কোন কেন্দ্রেই ছিল না সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধির বালাই।

সরাইল সদরের অন্নদা স্কুল কেন্দ্রে রোজিনা বেগম নামের এক গৃহিনীকে দেওয়া হয়েছে ডাবল ডোজ। ভয় পেয়ে যান স্বামী স্ত্রী দু’জনই। ১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ নিয়ে পড়ে যায় হই-চৈই। ৬ নং ওয়ার্ড সৈয়দটুলা গ্রামের মো. মুসলিম খার স্ত্রী রোজিনা। মুসলিম খান বলছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে টিকা নিয়েছিল। ওইটি ফেরৎ পেতে বসেছিল রোজিনা।

এ সময় জনৈক মহিলা স্বাস্থ্য কর্মী তাকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিয়ে দেন। কোন ধরণের সমস্যা হলে আমি কাউকে ছাড়ব না। এর দায়ভার স্বাস্থ্য বিভাগকেই নিতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. নোমান মিয়া বলেন, একটি টিকা নিয়েও লাইনে দাঁড়িয়েছিল রোজিনা।

বুঝতে না পেরে দ্বিতীয়বার টিকা দিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মী। কোন সমস্যা হবে না। একটি টিকা এমনিতেই অকার্যকর হয়ে যাবে। এরপর সমস্যা হলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। গণটিকা কার্যক্রম ঘুরে ফিরে পরিদর্শন করেছেন নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুল ও টিকা মনিটরিং কমিটির সভাপতি ডা: মো. নোমান মিয়ার নেতৃত্বে ১০ জন সদস্য।

মাহবুব খান বাবুলঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *