বৃহস্পতিবার , ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সরাইলে কলেজ মাঠে পশুর হাট!

 সরাইলে কলেজ মাঠে পশুর হাট!

ডিঃব্রাঃ
আইন অমান্য করেই সরাইলের অরূয়াইল আব্দুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ মাঠে বসেছে জমজমাট পশুর হাট। আজ রোববার ওই হাটে দিনভর চলছে সকল ধরণের পশু ক্রয়-বিক্রয়। অধিকাংশ ক্রেতা বিক্রেতাই মানছিলেন না স্বাস্থ্যবিধি। মুখে ছিল না মাস্ক। হাটে ছিল পুলিশের টহল। অথচ ইজারার পত্রে লিখা আছে কলেজের পেছনে বালুর মাঠে পশুর হাট বসবে। সরজমিনে দেখা যায়, অরূয়াইল বাজারে ও ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়ার প্রধান সড়ক সংলগ্ন পশ্চিম পাশেই অরূয়াইল আব্দুস সাত্তার ডিগ্রি কলেজ।

একেবারে পশ্চিম পাশে বিশাল আকারের দুটি একাডেমিক ভবন। ভবন সংলগ্ন উত্তর পাশে শিক্ষার্থীদের হোষ্টেল। এখানে থাকে দূর দূরান্তের শিক্ষার্থীরা। আর দক্ষিণ পাশে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের বিপণী বিতান। দক্ষিণ পূর্ব পাশে কাঁচা বাজার। গত বেশ কয়েক বছর ধরে স্থানীয় বিভিন্ন দলীয় ও পেশার লোকজন মিলে অরূয়াইলে অস্থায়ী গরূর হাটের আবেদন করে ইজারা নিয়ে আসছিলেন। সেই সময় ব্রিজের পাশে কিছু বালু ছিল।

কাগজে স্থান হিসেবে ওই বালুর মাঠ দেখিয়ে আবেদন করা হত। আর পশুর হাট বসত কলেজ মাঠেই। লাভের টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিত ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এক সময় কলেজ মাঠে বাঁধা আসে। কৌশলে স্থানীয় সিন্ডিকেটের সদস্যরা পদ্ধতি পাল্টে ফেলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষকে টোপ দেন। লাভ দেখে এগিয়ে আসেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজের উন্নয়নের কথা বলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মিলমিশ করে বাজার ইজারা নেন। সরাইল থেকে অরূয়াইল যাওয়ার পরই কলেজ থেকে বাজারটি নিয়ে নেয় ওই সিন্ডিকেট। কলেজকে সামান্য কিছু দিয়ে ঠান্ডা করে দেয়। তখনও বাজার কিন্তু জমায়েত হত কলেজ মাঠেই। গত ৪-৫ বছর ধরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে কলেজ। কাউকে দিবেন না। কলেজই ইজারা আনবেন। তারাই বাজার পরিচালনা করবেন। আর লভ্যাংশ যাবে কলেজের হিসাবে। এরই অংশ হিসাবে এবারও কলেজের নামেই ইজারা নিয়েছেন।

ইজাদার হচ্ছেন কলেজ ব্যবস্থাপনা পরিষদের জিপি সদস্য মো. সোহরাব মিয়া। কিন্তু পশুর হাট সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপণ সম্পূর্ণ অমান্য করে কলেজের মাঠে বসানো হয়েছে হাট। এতে করে হোষ্টেলে বসবাসকারী শিক্ষার্থী ও আশপাশের লোকজন সমস্যায় পড়বেনই। এ ছাড়া পশুর মলমূত্রে দীর্ঘদিন দূর্গন্ধ ছড়ায় চারিদিকে। করোনা মহামারির সময়ে এটা আরো ভয়ানক বিষয়। আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত ওই মাঠে বসবে হাট। এ কলেজ মাঠে পশুর হাট কোন সময়ই মেনে নেয়নি শিক্ষার্থীরা। ২ বছর আগে শিক্ষার্থীরা মাঠে হাটের ক্ষতিকর দিক সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরায় প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েছিল।

তাদেরকে অনেক গালমন্দও শুনতে হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুইজন শিক্ষার্থী বলেন, সরকারি বিধি নিষেধের বিষয় জানি না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে কেন গরূ ছাগলের হাট বসাতে হবে? পরিবেশটা নষ্ট হচ্ছে। পশুর মলমূত্রের দূর্গন্ধ অনেক দিন থাকে। মানুষজন যেখানে ইচ্ছা প্রস্রাব পায়খানা করছেন। এ গুলো কে পরিস্কার করবে? হোষ্টেলের শিক্ষার্থীদের জন্য এটা একটা আযাব। করোনা মহামারির সময় এ কাজটি ঠিক হয়নি। জানলে আমাদেরকে মারধর করবেন। কলেজ পরিচালনা পর্ষদের জিপি সদস্য ও ইজারাদার মো. সোহরাব মিয়া কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে অনুরোধ করে অনুমতি এনেছি।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. মুখলেছুর রহমান বলেন, দুই বছর আগে মাঠে পশুর হাট বসানো রেজুলেশন করে বন্ধ করেছিলাম। এবার জিপি সদস্যের নামে ইজারা এনেছেন। কলেজের পেছনে বালুর মাঠেই হাট বসার কথা। জায়গা হয় না। এরপর স্থানীয় লোকজনের চাপে জনস্বার্থে আবারও রেজুলেশন করে মাঠে পশুর হাট বসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অরূয়াইল ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, কলেজের মাঠে বসেছে গরূ ও পেছনে মহিষ ও ছাগল।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, তারা কলেজের পেছনে বালুর মাঠে হাট বসানোর আবেদন করেছেন। আমরা অনুমতি দিয়েছি। কলেজের মাঠে বা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পশুর হাট বসার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া মহাসড়ক সংলগ্ন স্থানেও নয়। প্রসঙ্গত: নির্বাহী কর্মকর্তার দফতর সূত্র জানায়, মাত্র ৩ দিনের অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে ৩ জায়গায়। এরমধ্যে অরূয়াইল কলেজের পেছনে বালুর মাঠে। ইজারা মূল্য ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা বাজার সংলগ্ন স্থানে। ইজারা মূল ৬০ হাজার টাকা। শাহবাজপুর রয়েল ব্রিকস্‌ সংলগ্ন স্থানে। ইজারা মূল্য ৬১ হাজার টাকা।

মাহবুব খান বাবুলঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *