সোমবার , ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শরীরে গ্রেনেডের স্পিন্টার নিয়ে যন্ত্রণায় জীবন কাটাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রহিছ খান

 শরীরে গ্রেনেডের স্পিন্টার নিয়ে যন্ত্রণায় জীবন কাটাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রহিছ খান

ডিঃব্রাঃ
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় শরীরের বিভিন্ন অংশে স্পিন্টারের যন্ত্রণায় জীবন কাটাচ্ছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের আওয়ামীলীগ নেতা এ. রহিছ খান। স্পিন্টারের সেই যন্ত্রণা নিয়ে এখনও বেঁচে আছেন তিনি। অসহ্য ব্যথায় কাতর হয়ে তিনবার অপারেশন করতে হয়েছে তাকে। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামের মরহুম ইউনুস মিয়ার ছেলে এ. রহিছ খান।

২০০৪ সালের ২১আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। আহত হন কয়েকশ। তাদেরই একজন রহিছ খান। চোখের সামনে ভেসে উঠে গ্রেনেড হামলায় ছিন্নভিন্ন মরদেহ, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাত পা, রক্তপাত কানে ভেসে আসে আর্তচিৎকার। সেদিনের ভয়াবহতার স্মৃতি মনে হলে এখনও কেঁদে উঠেন তিনি।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রহিছ খান বলেন, সেদিন বিকেলে রাজধানীর বনানী থেকে আমাদের এমপি ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলামের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় যান। জনসভায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা ট্রাকের ওপর স্থাপিত মঞ্চে দাঁড়িয়েছিলেন। বক্তৃতা শুরুর আগে মঞ্চের প্রায় ১০গজ দূরে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুনছিলেন তিনি। বক্তব্যের শেষপর্যায়ে গ্রেনেডের বিকট শব্দে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু গ্রেনেডের স্পিন্টারের আঘাতে রাস্তায় পড়ে যান। প্রচুর রক্ত বের হলে একপর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন রহিছ খান।

তিনি বলেন, প্রত্যদর্শীরা হাসপাতালে ভর্তি করে। অপারেশন করে কয়েকটি স্পিন্টারের বের করা হয়। পাঁচ দিন পর কিছুটা সুস্থ্য হয়ে উঠেন। পরবর্তীতে আবারও ব্যথা হলে দ্বিতীয় দফায় ২০১১ সালে ঢাকার সিএমএইচে অপারেশন করান। এখনও স্বপ্নে সেই দিনের গ্রেনেডের স্মৃতি ভেসে আসে বারবার। মনে হয় এই বুঝি গ্রেনেডের স্পিন্টারে বিদ্ধ হচ্ছেন।
রহিছ খান আরও বলেন, আল্লাহ তাকে বাঁচিয়েছেন। সেদিন ঘটনার পর বিএনপি সরকার জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে গ্রেনেড হামলার বিচারের পথ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র করেছিল। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ মমতায় এলে বিচারের রায় হয়। রায়ের বাস্তবায়ন এখনও অনেক দ‚র। কেবল উচ্চ আদালতে পেপারবুক তৈরি হয়েছে। মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেছে। বিচারের রায় বহাল রেখে অপরাধীদের শাস্তি কার্যকর হোক সেটাই দেখে যেতে চান বেঁচে থাকতে।

আওয়ামী লীগ নেতা এ. রহিছ খান বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ-সভাপতি। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত রূপসদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, পরে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সভাপতি, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন।

২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, ২০১২ সাল থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সততা ও নীতির কারণে স্থানীয় এমপি ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলামের আস্থাভাজন হিসেবেই রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ভ‚মিকা পালন করছেন রহিছ খান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাকে তিনবার কারাভোগ করতে হয়েছে।

মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকন্ঞ্জিঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *